শুক্রবার, মে ২৪, ২০২৪

এসি বিক্রি বেড়েছে তিনগুণ, অনেক ব্রাঞ্চে ‘স্টক আউট’

রাজধানীর গুলিস্তান, নিউমার্কেট, বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটে ইলেকট্রনিক পণ্যের পাইকারি দোকান; নবাবপুর রোডের পাইকারি ইলেকট্রনিক্স দোকান; পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুমগুলোয় ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব দোকানেই ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো।

by ঢাকাবার্তা ডেস্ক
Air Conditioner Sells Rise

বাণিজ্য ডেস্ক।।

এপ্রিলের শুরু থেকেই সারা দেশে বাড়ছিল গরম। মাসের মাঝামাঝিতে এসে তা রূপ নেয় তীব্র তাপপ্রবাহে। গরমের তীব্রতায় বিপর্যস্ত হয়ে ওঠে জনজীবন। এমন অসহনীয় তাপমাত্রায় স্বস্তি পেতে রাজধানীর সচ্ছল মানুষেরা ছুটছেন শীতাতপ নিয়ন্ত্রক (এসি) যন্ত্র কিনতে। গরমের অসহ্য যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে অনেকে কিস্তিতেও এসি বিক্রি বাড়ছে । খুচরা পর্যায়ে ও বিভিন্ন ব্রান্ডের শো-রুমের কর্মকর্তারা জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখন এসি বিক্রি তিনগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। অনেক ব্রাঞ্চে এসি স্টক আউট। বেশিরভাগ এসি কেনা হচ্ছে বাসাবাড়ির জন্য।

রাজধানীর গুলিস্তান, নিউমার্কেট, বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটে ইলেকট্রনিক পণ্যের পাইকারি দোকান; নবাবপুর রোডের পাইকারি ইলেকট্রনিক্স দোকান; পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুমগুলোয় ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব দোকানেই ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। তারা এসি, সিলিং ফ্যান, স্ট্যান্ড ফ্যান, চার্জার ফ্যান ও এয়ারকুলার কিনছেন। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শো-রুমে এসি ক্রেতার সংখ্যা বেশি।

গরমের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে লক্ষ্মীবাজারের ওয়ালটন শোরুমে এসি কিনতে আসেন তাইমুর রহমান। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আল্লাহ আমাকে চলার মতো অবস্থা দিয়েছেন। আমি এসি কিনতে এসেছি বলে এমন না যে আমি অনেক বড়লোক। তিন রুমের ভাড়া বাসায় আমরা সাত জন থাকি। এতো বেশি গরম পড়ছে যে গরমে বাচ্চাগুলোর অবস্থা খুব খারাপ। ফ্যানের হাওয়া গায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম কিস্তিতে হলেও একটা এসি কিনবো। এখানে আসলাম এক টনের একটা এসি কিনতে। কিন্তু এক টনের এসি স্টক আউট। তাই দেড় টনের একটা কেনার সিদ্ধান্ত নিলাম। দামের বিষয়ে এই ক্রেতা বলেন, এসির দাম বেড়েছে নাকি কমেছে সেটা আমি জানি না। কারণ আগে তো কেনার অভিজ্ঞতা নেই। যেহেতু কিস্তিতে এসি কিনছি, তাই দাম যাই আসে তাই দিতে হবে।

গত বছরের তুলনায় এবার ব্র্যান্ডের এসি ও এয়ারকুলারের দাম বেশি বলে মনে করেছেন অনেক ক্রেতা। তবে ওয়ালটন, যমুনা, এলজি ও হায়ার এসির বিক্রেতারা বলছেন, চলতি মৌসুমে এসির দাম বাড়ানো হয়নি। নানা অফার ও ইএমআইতে সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যাচ্ছে এসিসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্য। দেশি ব্র্যান্ডের ১ টনের এসি  ৪১ হাজার ৪০০ টাকায়ও পাওয়া যাচ্ছে।

লক্ষ্মীবাজারে ওয়ালটন ব্রাঞ্চের ম্যানেজার উত্তম গণমাধ্যমকে বলেন, আগের তুলনায় ওয়ালটন এসির বিক্রি তিনগুণ বেড়েছে। ধরেন আগে যদি আমার এই শোরুমে দৈনিক পাঁচটা এসি বিক্রি করতাম, এখন করছি ১৫টা। গরমের তীব্রতায় মানুষ ধারকর্জ করে হলেও এসি কিনছে। আগে আমরা নির্দিষ্ট টাইমে দোকান খুলতাম ও বন্ধ করতাম। এখন বিক্রির চাপ এতটা বেড়েছে যে আমাদের কম বেশি সবার ওভারটাইম করা লাগছে।

সিলিং ফ্যান ও চার্জার ফ্যানের দাম ও চাহিদা দুটোই বেড়েছে

এসির পাশাপাশি বিক্রেতারা বলছেন, গরম বাড়ায় সিলিং ফ্যান ও চার্জার ফ্যানের চাহিদাও বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় জোগানেও টান পড়েছে। ব্র্যান্ডের কোম্পানিগুলো চাহিদা অনুযায়ী স্থানীয় দোকানগুলোয় ফ্যান দিচ্ছে না। নন-ব্র্যান্ডের টাইফুন ফ্যানগুলোর দাম এখন ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। অথচ গত মাসেও এগুলোর দাম ছিল ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। ১২ ইঞ্চি ফ্যান কোথাও বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজার টাকা, কোথাও ৬ হাজার ৫০০ টাকা।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, ছোট স্ট্যান্ড (৯-১০ ইঞ্চি) বা টাইফুন ফ্যান বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ১৬০০ টাকা। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্ট্যান্ড ফ্যান বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ৮ হাজার টাকায়। এ ছাড়া দেশি ব্র্যান্ডের সিলিং ফ্যান ১৭০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, বিদেশি ব্র্যান্ডের সিলিং ফ্যান বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকায়।

পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলি থেকে সিলিং ফ্যান কিনতে আসা মিজানুর রহমান বলেন, সিলিং ফ্যানের পাশাপাশি চার্জার ফ্যানের দাম দুইশো আড়াই’শ টাকা বেড়ে গেছে। যেই সিলিং ফ্যান গত বছর ছিল ২২০০ এখন সেটার দাম ৩০০০ টাকা। এমনিতে দোকানদাররা দাম বাড়ার কথা স্বীকার করে না। অথচ সিলিং ফ্যানে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা দাম বেড়েছে। আমরা যদি বিক্রেতাদের প্রশ্ন করি দাম কেন বেড়েছে তারা আমাদের বলে কোম্পানি যে রেটে বিক্রি করে আমরা তার থেকে সামান্য লাভে বিক্রি করি। এখানে যদি ভোক্তা অধিকার একটা অভিযান পরিচালনা করতো যে আসলেই তাদের ক্রয় মূল্য কত আর বিক্রি করছে কত টাকায় তাহলে খুব ভালো হতো।

লক্ষ্মীবাজারের সনি ব্রাঞ্চের ম্যানেজার নয়ন গণমাধ্যমকে বলেন, সবাই বেশ ভালো বেচাকেনা করছে। আমার এই ব্রাঞ্চেও ভালো বেচাকেনা হচ্ছে। তবে তুলনামূলক কম। আমার এখানে এসির স্টক আউট। অন্যান্য যে প্রোডাক্ট আছে সেগুলো বিক্রি করছি। সনির সিলিং ফ্যানের চাহিদাও বেড়েছে। দাম বাড়ার বিষয়ে ম্যানেজার বলেন, অন্যান্য দোকানে হয়তো দাম বাড়তে পারে, তবে আমাদের কোম্পানির সিলিং ফ্যানের দাম বাড়েনি। গত দুই বছরে যে দামে বিক্রি করেছি এখনও সেই দাম রয়েছে।

 

আরও পড়ুন: পাবনায় অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ১০ কোটি টাকা উধাও, গ্রেপ্তার ৩

You may also like

প্রকাশক : জিয়াউল হায়দার তুহিন

সম্পাদক : হামীম কেফায়েত

গ্রেটার ঢাকা পাবলিকেশন
নিউমার্কেট সিটি কমপ্লেক্স
৪৪/১, রহিম স্কয়ার, নিউমার্কেট, ঢাকা ১২০৫

যোগাযোগ : +8801712813999

ইমেইল : news@dhakabarta.net