বিদেশ ডেস্ক।।
গাজায় চলছে ইসরাইলের গ্রাউন্ড অফেন্সিভ। ইসরাইলের সেনাবাহিনী আইডিএফ এরইমধ্যে হামাসের পার্লামেন্ট, সরকারি দফতর এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার দখল করে নিয়েছে। মঙ্গলবার আইডিএফ জানিয়েছে, তাদের সেনারা গাজা সিটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে।
গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসন রুখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে হামাস। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া গেছে। তবে এত কিছুর পরেও হামাস ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। হামাসের গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলো দখল করে এতে ইসরাইলি পতাকা উড়ানোর ভিডিওতে ভরে গেছে সোশ্যাল মিডিয়া।
রুশ সংবাদ সংস্থা স্পুটনিককে বৈরুত-ভিত্তিক পণ্ডিত এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক ডক্টর লরেঞ্জো ট্রম্বেটা স্পুটনিককে বলেন, ইসরাইলি দৃষ্টিকোণ থেকে এই ছবিগুলি দেখানোর একমাত্র কারণ হচ্ছে, তারা দেখাতে চাচ্ছে যে এই যুদ্ধে তাদের বিজয় আসন্ন। এর মধ্য দিয়ে দেশের জনগণের জনমত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের দিকে টানার চেষ্টা করা হচ্ছে। নেতানিয়াহু ইসরাইলিদের দেখাচ্ছেন যে, জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চলছে এবং গত ৭ই অক্টোবরের হামলার প্রতিশোধ ভালোভাবেই নেয়া হচ্ছে। এই বিশেষজ্ঞ যদিও মনে করছেন, যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ চলবে। হামাসের পার্লামেন্ট দখল করার মানে এই নয় যে হামাস যুদ্ধ থামিয়ে দেবে।
৭ই অক্টোবর হামাস ও অন্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ইসরাইলের অভ্যন্তরে ভয়াবহ হামলা চালায়।
হাজার হাজার ফিলিস্তিনি ইসরাইলে ঢুকে পরে। ছোড়া হয় ছয় হাজারের বেশি রকেট। এই হামলায় ১৪০০ জনেরও বেশি ইসরাইলি নিহত হন। নিহতদের মধ্যে আছে শত শত ইসরাইলি সেনাও। হামাস ২৪০ ইসরাইলিকে অপহরণ করেও নিয়ে যায়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গাজার উপরে নির্বিচারে বোমা ফেলা হয়। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান ইসরাইলি বোমা হামলায় প্রায় ১২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর প্রায় অর্ধেকই শিশু। অর্থাৎ হামাসকে ধ্বংসের নামে ফিলিস্তিনিদেরই নিশ্চিহ্ন করছে ইসরাইল। প্রায় এক মাস ধরে আকাশ থেকে হামলার পর গাজায় গ্রাউন্ড অফেন্সিভ শুরু করে দেশটি। প্রথমদিকে হামাস ইসরাইলি সেনাদের বেশ ভালোভাবে হটিয়ে দিতে পারলেও, এখন দিন দিন কোণঠাসা হয়ে পড়ছে সংগঠনটি।
এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন হচ্ছে, হামাস কি তাহলে গাজায় হেরে গেছে? ১৩ই নভেম্বর ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গালান্ত দাবি করেন, হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। আইডিএফকে মোকাবিলা করার সক্ষমতা নেই হামাসের। ইসরাইলি সেনারা সবগুলো পয়েন্টেই অগ্রসর হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত গাজার অভ্যন্তরে ৪৬ ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছে। তবে এর বিনিময়ে গাজা উপত্যকার উত্তরাংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পেরেছে দেশটি। যদিও হামাস দক্ষিণ গাজায় এখনও বেশ শক্তিশালী। কারণ সংগঠনটি আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিল যে, ইসরাইল উত্তর দিক থেকেই আক্রমণ করবে। মাসব্যাপী বোমা বর্ষণ ও গ্রাউন্ড অফেন্সিভের পরেও হামাস ইসরাইলের অভ্যন্তরে শত শত রকেট ছুঁড়েছে। এ থেকেই তাদের পূর্বপ্রস্তুতির বিষয়ে ধারণা করা যায়।
গত কয়েক দিন ধরে লড়াই হচ্ছে মূলত গাজার সবথেকে বড় হাসপাতাল শিফাকে ঘিরে। তেল-আবিবের দাবি, এই হাসপাতালের নিচেই রয়েছে হামাসের কমান্ড সেন্টার। এরইমধ্যে গাজার উত্তরাঞ্চলে থাকা ১১ লাখ ফিলিস্তিনির মধ্যে আট লাখই দক্ষিণ গাজায় পালিয়ে গেছে। তবে এখনও লাখ লাখ ফিলিস্তিনির জীবন ইসরাইলি গ্রাউন্ড অফেন্সিভের কারণে হুমকিতে রয়েছে।
আরও পড়ুন: ইসরায়েল বিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে মন্তব্যের জেরে বরখাস্ত ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
