বুধবার, মে ২২, ২০২৪

নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ১১০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

উপমহাদেশের মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অগ্রনায়ক, ঢাকার নবাব ও মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা স্যার সলিমুল্লাহর ১১০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯১৫ সালের আজকের এই দিনে তিনি মারা যান।

by ঢাকাবার্তা ডেস্ক
নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ১১০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মোত্তাকিন মুন।।

উপমহাদেশের মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অগ্রনায়ক, ঢাকার নবাব ও মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা স্যার সলিমুল্লাহর ১১০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯১৫ সালের আজকের এই দিনে তিনি মারা যান।

নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ১৮৭১ সালের ৭ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। যদিও তিনি জীবদ্দশায় এই বিশ্ববিদ্যালয় দেখে যেতে পারেননি। প্রচলিত আছে যে, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের জমি দান করেছেন, যদিও প্রকৃতপক্ষে এটি একটি শ্রুতি বা মিথ। দান করার মতো জমি নবাব পরিবারের ছিলো না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সরকারি খাসজমিতে। তার বাবা নবাব খাজা আহসানউল্লাহ ও দাদা নবাব খাজা আবদুল গনি।

১৯০৩ সালে বড় লাট লর্ড কার্জন ঢাকায় সফরে এলে নবাব সলিমুল্লাহ পূর্ব বাংলার সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। ওদিকে আসামের উৎপাদিত চা ও অন্যান্য পণ্য বিদেশে রপ্তানীর ব্যাপারে পরিবহন ব্যয় হ্রাসের উদ্দেশ্যে কলকাতার বদলে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের চিন্তা করে বৃটিশরা, এই সাথে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের ভাবনাও চলতে থাকে। বৃটিশদের বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং নবাবের আবেদন যুক্ত হয়ে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে বাংলা বিভাজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর প্রেক্ষিতে কলকাতা কেন্দ্রিক বুদ্ধজীবী ব্যবসায়ীদের তীব্র প্রতিবাদ সত্ত্বেও ১৯০৫ সালে পূর্ব বঙ্গ ও আসাম নিয়ে একটি স্বতন্ত্র প্রদেশ গঠন করা হল।বঙ্গ ভঙ্গ নিয়ে বাঙ্গালী হিন্দুদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

১৯১১ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ ও ১৭ মার্চ নবাব সলিমুল্লাহ’র সভাপতিত্বে আহসান মঞ্জিলে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রাদেশিক মুসলিম লীগ এবং প্রাদেশিক শিক্ষা সমিতি উভয় সংগঠনই চালু রাখা এবং প্রথমটির মাধ্যমে রাজনীতি ও দ্বিতীয়টির মাধ্যমে শিক্ষা ও জনকল্যাণমুখী কাজ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯ আগস্ট  কার্জন হল এ পূর্ববঙ্গের ছোটলাট  ল্যান্সলট হেয়ার-এর বিদায় এবং বেইলী-এর স্বাগত অনুষ্ঠানে সলিমুল্লাহ ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। ১২ ডিসেম্বর দিল্লির দরবারে সম্রাট পঞ্চম জর্জ কর্তৃক বঙ্গবিভাগ রদ করা হলে তিনি খুবই মর্মাহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি ২০ ডিসেম্বর মুসলিমদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য ৮টি দাবি ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের নিকট পেশ করেন। লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকা সফরে এলে নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে মুসলিম নেতৃবৃন্দ ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ জানুয়ারি তার কাছে বিভিন্ন দাবি পেশ করেন। সেদিনই ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিমদের জন্য একজন শিক্ষা অফিসার নিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়। তার চেষ্টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিকল্পনার মধ্যে ইসলামি শিক্ষা বিভাগ রাখা হয়।

১৯০৩ সালে বড় লাট লর্ড কার্জন ঢাকায় সফরে এলে নবাব সলিমুল্লাহ পূর্ব বাংলার সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। ঢাকাবার্তা।

১৯০৩ সালে বড় লাট লর্ড কার্জন ঢাকায় সফরে এলে নবাব সলিমুল্লাহ পূর্ব বাংলার সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। ঢাকাবার্তা।

নবাব সলিমুল্লাহ ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ববঙ্গ ও আসাম সরকারের নারী শিক্ষা কমিটির সদস্য এবং মুসলিম নারী শিক্ষা সাব-কমিটির সভাপতি মনোনীত হন। ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিমদের শিক্ষা বিষয়ে গঠিত হার্ণেল কমিটিরও তিনি সদস্য ছিলেন। ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রাদেশিক শিক্ষা সমিতির মাধ্যমে মাদরাসা শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্যে তিনি একটি যুগান্তকারী রিপোর্ট সরকারকে দেন। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে মাদরাসা শিক্ষা সংস্কারের জন্য সরকারের গঠিত কমিটিতেও তিনি সদস্য ছিলেন। ওই কমিটির সুপারিশ এবং তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দে সরকার আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতি সম্বলিত পরিকল্পিত মাদরাসা শিক্ষা চালু করে।

নবাব সলিমুল্লাহ ছিলেন একজন দানশীল ব্যক্তি। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে তিনি অকাতরে দান করতেন। ১৯০২ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল (বর্তমানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠায় পিতার প্রতিশ্রুত এক লাখ বারো হাজার টাকা তিনিই মঞ্জুর করেন। এছাড়া তিনি কৃষি, শিল্প খাতে, মসজিদ, মাদরাসা, হাসপাতাল, ছাত্রাবাস নির্মাণে এবং অন্যান্য যেকোনো ধরনের সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন।

ঢাকার কারুশিল্পের উন্নয়নে তিনি প্রদর্শনীর আয়োজন করতেন। তার প্রচেষ্টায় এ শিল্প নবরূপ পায়। কারুশিল্পের উন্নয়নে ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ববঙ্গ সরকার গঠিত কমিটির তিনি একজন সদস্য ছিলেন। নবাব সলিমুল্লাহ পূর্ববঙ্গ আসাম ব্যবস্থাপক সভা এবং ইম্পেরিয়াল কাউন্সিল ও যুক্তবঙ্গীয় ব্যবস্থাপক পরিষদের সদস্য ছিলেন। ব্রিটিশ সরকার তাকে ১৯০২ খ্রিষ্টাব্দে সিএসআই; ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে নবাব বাহাদুর; ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে কেসিএসআই এবং ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দে জিসিএসআই উপাধি প্রদান করে। ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দের আজকের এই দিনে কলকাতার চৌরঙ্গীর বাসভবনে নবাব স্যার সলিমুল্লাহর মৃত্যু হয়। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার মরদেহ ঢাকায় এনে বেগম বাজারস্থ পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।

 

আরও পড়ুন: কিছু মানুষ চক্রান্ত করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়াচ্ছে

You may also like

প্রকাশক : জিয়াউল হায়দার তুহিন

সম্পাদক : হামীম কেফায়েত

গ্রেটার ঢাকা পাবলিকেশন
নিউমার্কেট সিটি কমপ্লেক্স
৪৪/১, রহিম স্কয়ার, নিউমার্কেট, ঢাকা ১২০৫

যোগাযোগ : +8801712813999

ইমেইল : news@dhakabarta.net