রবিবার, মে ১৯, ২০২৪

পানির সংকটে ভোগান্তি, ওয়াসা বলছে অভিযোগ ‘আজগুবি’

শীতকাল শেষে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় কিছু জায়গায় গভীর নলকূপ থেকে পানি উৎপাদন কমেছে। রমজানে পানির চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং কয়েকটি এলাকায় চাহিদার তুলনায় গভীর নলকূপ কম থাকায় এই সমস্যা হচ্ছে। সাধারণত এপ্রিল এবং মে মাসে পানির সংকট বেশি হয়।

by ঢাকাবার্তা ডেস্ক
Dhaka Wasa

রাজধানী ডেস্ক।।

রমজান শুরুর আগে থেকেই রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে মালিবাগ, গুলবাগ, শেওড়াপাড়া, লালবাগ, রায়েরবাগসহ ঢাকার কয়েকটি এলাকায় সমস্যা একটু বেশি। কিছু জায়গায় এই সমস্যার সমাধান হলেও এখনও অনেক জায়গায় পানির সংকটে ভুগছেন নগরীর বাসিন্দারা। তবে ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বলছে, রাজধানীতে কোথাও পানির সংকট নেই। এলাকাভিত্তিক সাময়িক সমস্যা হতে পারে। সেটাও এক-দুই দিনের মধ্যে সমাধান হয়ে যায়। এসব অভিযোগ আজগুবি।

শীতকাল শেষে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় কিছু জায়গায় গভীর নলকূপ থেকে পানি উৎপাদন কমেছে। রমজানে পানির চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং কয়েকটি এলাকায় চাহিদার তুলনায় গভীর নলকূপ কম থাকায় এই সমস্যা হচ্ছে। সাধারণত এপ্রিল এবং মে মাসে পানির সংকট বেশি হয়। কারণ তখন গরমের তীব্রতা বেশি থাকে। এখন গরমের প্রভাব একটু বাড়ায় রমজান মাসেই শুরু হয়েছে পানির সংকট। তবে এই সংকট তীব্রতা এখনও বাড়েনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, ধোলাইখাল, ওয়ারিসহ কিছু এলাকা এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের মালিবাগ, গুলবাগ, শেওড়াপাড়াসহ আশপাশের কিছু এলাকায় রমজানের শুরু থেকে ওয়াসার পানির সমস্যা দেখা দিয়েছে। লালবাগের বাসিন্দারা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রোজার শুরু থেকে এলাকায় পানির সংকট। ভোগান্তিতে পড়েছেন রোজাদার এলাকাবাসী। এ বিষয়ে ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

রোজার শুরুর কিছুদিন পর থেকে শেওড়াপাড়া এলাকাতেও পানির সংকট দেখা দিয়েছে। সেখানকার বাসিন্দারা জানান, গরম বাড়লে সংকট বেড়ে যায়। রোজার প্রথম দিকে এই সমস্যা না থাকলে কিছুদিন হলো এই সমস্যা বাড়ছে।

লালবাগ ঢাকা ওয়াসার মডস জোন-২–এর (আঞ্চলিক কার্যালয়) আওতাধীন। এই জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, ‘লালবাগ এলাকায় ওয়াসার একটি গভীর নলকূপ বন্ধ ছিল। ফলে পানি উত্তোলনের পরিমাণ কমে যায়। ওয়াসার কারিগরি দল নলকূপটি ঠিক করেছে। আশা করছি, সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে।’

ওয়াসার দক্ষিণ-পশ্চিম শেওড়াপাড়ায় গভীর নলকূপটি রোজার আগেই নষ্ট হয়। ফলে পুরো শেওড়াপাড়ায় পানির সংকট দেখা দেয়। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নলকূপটি মেরামত হয়েছে। আপাতত আর পানির সংকট হবে না। মাঝেমধ্যে সমস্যা তো সবকিছুতেই হয়। এ নিয়ে বাড়াবাড়ির কিছু নেই।

জুরাইন এলাকার আনোয়ার হোসেন নামের একজন বাসিন্দা ওয়াসার পানির সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে পানির সংকট। তাছাড়া পানির কালার খুব খারাপ। দেখেশুনে কেউ এই পানি খেতে চাইবে না। পাশের জোনে অভিযোগ দিয়েছি আরও দুই দিন আগে। কিন্তু এখনও এর কোনও সমাধান হয়নি। আজ আবার ফোন দিয়ে জানালাম।

গত দুই সপ্তাহ ধরে মালিবাগ ও গুলবাগ এলাকাতে পানির সমস্যা চলছে। রোজা হওয়ায় মানুষের ভোগান্তি বেশি হচ্ছে জানান ওই এলাকার বাসিন্দারা। মালিবাগ ও গুলবাগের স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওয়াসার গভীর নলকূপে পানি ওঠাতে সমস্যা হওয়ায় এই সংকট দেখা দিয়েছে। তবে সেই জোনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, সংকটের সমাধান হয়ে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওয়াসার একজন কর্মকর্তা জানান, আগারগাঁও, রায়েরবাগ, মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের ‘ট’ ব্লক, নামা শ্যামপুর, মোহাম্মদবাগ, আজমপুর, জুরাইন ও কুড়িলের একাংশে পানির সমস্যা ছিল। এখনও কিছুটা আছে। তবে এটা সাময়িক সমস্যা। দুই তিন দিনের মধ্যে এটা সমাধান হয়ে যাবে।

এদিকে নলকূপ সংস্কার করা আরবান সার্ভিস থেকে জানা যায়, একটা নষ্ট নলকূপ ঠিক হতে কখনও কখনও সাত থেকে আট দিন লাগে। গত এক মাসে ঢাকার অন্তত ১০টি জায়গায় তারা নলকূপ ঠিক করেছে।

পানি সংকটের বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম সহিদ উদ্দিন  গণমাধ্যমকে বলেন, রাজধানীতে কোথাও পানির সংকট নেই। তবে এলাকাভিত্তিক সাময়িক সমস্যা হতে পারে। সেটাও এক দু’দিনের মধ্যে সমাধান হয়ে যায়। মালিবাগ শেওড়াপাড়ায় যে সমস্যা ছিল সেটিও সমাধান করা হয়েছে। লালবাগে ইলেকট্রিসিটির কারণে পানি উঠানোর কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ ছিল, সেটিও ঠিক হয়ে গেছে।

ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও বলেন, ঢাকার কোথাও কিন্তু পানির সংকট নেই। আপনারা মাঝেমধ্যে আজগুবি কথাবার্তা বলেন যে পানির সংকট। কিছু বিক্ষিপ্ত এলাকায় হয়তো সাময়িক সমস্যা হতে পারে। কোনও এলাকায় যদি পানির সমস্যা হয় তাহলে ১৬১৬২-এ কল করে অভিযোগ জানালে ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পানির সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করা হয়। এটা বেশিরভাগ রুট লেভেলেই সমাধান হয়। আমি ডিএমডি পর্যন্ত এই সমস্যা আসে না। আমার জানা মতে এখন কোথাও সমস্যা নেই।

ঢাকা ওয়াসার তথ্য মতে, ঢাকায় পানির যে চাহিদা, তার চেয়ে বেশি উৎপাদন। ঢাকায় বর্তমানে পানির চাহিদা দৈনিক গড়ে ২৬০ কোটি লিটার। ওয়াসার উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ২৯০ কোটি লিটার পানি। কিন্তু সব এলাকায় ‘রেশনিং’ করার ব্যবস্থা না থাকায় কিছু জায়গায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এক এলাকায় পানির সংকট দেখা দিলে বা গভীর নলকূপ নষ্ট হলে আশপাশের এলাকা থেকে পানি এনে চাহিদা মেটানো হয়। একে ‘রেশনিং’ বলা হয়।

প্রতিবছরই গ্রীষ্মে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পানির সংকট দেখা দেয়। এর বড় কারণ ভূগর্ভস্থ উৎসের ওপর নির্ভরতা। ২০১০ সালে ঢাকা ওয়াসার উৎপাদিত পানির ৮০ শতাংশ ছিল ভূগর্ভস্থ উৎসের, যা গভীর নলকূপের মাধ্যমে তোলা হচ্ছে। আর ২০ শতাংশ ছিল ভূ-উপরিভাগের পানি। সংস্থাটি ২০২১ সালের মধ্যে ভূ-উপরিভাগের পানির উৎপাদন অন্তত ৭০ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা দেয়। তবে এ লক্ষ্য অর্জন করা যায়নি। এখনও ওয়াসার দৈনিক উৎপাদিত পানির ৭০ শতাংশই ভূগর্ভস্থ উৎসের।

 

আরও পড়ুন: ঢাকার সড়কে সার্জেন্ট পরিচয়ে নিয়ে যাচ্ছেন দামি মোটরসাইকেল, রেখে যাচ্ছেন আরেকটি

You may also like

প্রকাশক : জিয়াউল হায়দার তুহিন

সম্পাদক : হামীম কেফায়েত

গ্রেটার ঢাকা পাবলিকেশন
নিউমার্কেট সিটি কমপ্লেক্স
৪৪/১, রহিম স্কয়ার, নিউমার্কেট, ঢাকা ১২০৫

যোগাযোগ : +8801712813999

ইমেইল : news@dhakabarta.net