চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ।।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র নতুন নয়। বিশেষ করে বড় দলগুলোতে নেতা প্রয়াত হলে তাঁর সন্তান রাজনীতিতে আসেন, আবার অনেক সময় নেতার জীবিত অবস্থাতেই সন্তান সক্রিয় হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চট্টগ্রামের ৫টি আসনে বিএনপির প্রয়াত ৬ নেতার ৭ সন্তান দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে নেমেছেন।
মনোনয়নপ্রত্যাশী এই সাতজন হলেন—হুম্মাম কাদের চৌধুরী, ইস্রাফিল খসরু, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সাঈদ আল নোমান, শাকিলা ফারজানা, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী ও মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী। তাঁদের বাবারা বিএনপির স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা কিংবা জেলা সভাপতি ছিলেন।
চট্টগ্রাম বিএনপি ও যুবদলের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “নেতার ছেলে হঠাৎ নেতা হয়ে গেলে ত্যাগীরা বঞ্চিত হন। মনোনয়ন কি জমিদারির বন্দোবস্ত?” তাঁদের মতে, নেতা হতে হলে তৃণমূল থেকে ধাপে ধাপে উঠে আসা উচিত।
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম চট্টগ্রাম-৭ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত কর্মসূচি পালন করছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরুর ছেলে ইস্রাফিল দীর্ঘদিন ধরে দলের গবেষণা সেলে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপকমিটির সদস্য। চট্টগ্রাম-১১ আসনে তাঁর মনোনয়ন চাওয়ার আলোচনা আছে। তিন বছর ধরে তিনি স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কাজ করছেন।
মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের ছেলে হেলাল বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক। তাঁর অনুসারীরা নগর, দক্ষিণ ও উত্তর বিএনপির কমিটিতে শীর্ষ পদে আছেন। তিনি চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) ও চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনে মনোনয়ন চাইতে পারেন।
আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আগে ইস্ট ডেলটা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী পাটশ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি। চট্টগ্রাম-১০ বা চট্টগ্রাম-৬ আসনে তাঁর মনোনয়ন চাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর দুই ছেলে জহিরুল ও মিশকাতুল চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। মিশকাতুল দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি বলেন, “বাবার পরিচয়ে মানুষ আপন করে নিচ্ছেন, তবে আমি নিজেও দলের জন্য কাজ করেছি।”
সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে শাকিলা চট্টগ্রাম-৫ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনি বলেন, “পারিবারিক পরিচয়ে নয়, যোগ্যতা দিয়ে রাজনীতি করা উচিত।” তিনি দলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন এবং কারাভোগও করেছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. বখতেয়ার উদ্দিন বলেন, “উপমহাদেশে পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি প্রচলিত। এতে অনেক সময় সন্তানদের জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকে না। ফলে তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতা-কর্মীরা পিছিয়ে পড়েন।”
