শনিবার, জুলাই ১৩, ২০২৪

ভালোবাসা দিবসে ‌‘ভালোবাসার ৩৬ মামলার’ শুনানি

এদিন শুনানির জন্য আদালতে আসা মামলার বাদী ও অভিযুক্তদের ‘লাভক্যান্ডি’ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মকবুল হোসেন। এসব মামলা অসম প্রেম, প্রেমের টানে পলাতক ও ধর্ষণের অভিযোগে করা হয়েছিল।

by ঢাকাবার্তা ডেস্ক
ভালোবাসা দিবসে ‌‘ভালোবাসার ৩৬ মামলার’ শুনানি

স্টাফ রিপোর্টার।।

ভালোবাসা কেবল প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর বিস্তৃতি ছড়িয়ে আছে বন্ধু-বান্ধব, মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন, সন্তান-সন্ততি ও পরিবার-পরিজনে। ভালোবাসার সেই পবিত্রতা বোঝাতে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছেন নওগাঁ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক জেলা দায়রা জজ মো. মেহেদী হাসান তালুকদার। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে এই আদালতে প্রেম-ভালোবাসা সংক্রান্ত ৩৬ মামলার শুনানি গ্রহণ করেছেন তিনি। বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মামলাগুলোর শুনানি হয়।

এদিন শুনানির জন্য আদালতে আসা মামলার বাদী ও অভিযুক্তদের ‘লাভক্যান্ডি’ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মকবুল হোসেন। এসব মামলা অসম প্রেম, প্রেমের টানে পলাতক ও ধর্ষণের অভিযোগে করা হয়েছিল। আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার আদালতে যেসব মামলার শুনানি হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো—কয়েক বছর আগে নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার এক কিশোরী (১৭) সনাতন ধর্মের যুবকের (২১) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। সে সময় কিশোরীর বয়স ছিল ১৪ বছর। সে তখন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়তো। কয়েকদিনের মধ্যে কিশোরীর পরিবার সম্পর্কের কথা জানতে পারে। এই সম্পর্কে পরিবারের মত না থাকায় মেয়েছেলে দুজন একসঙ্গে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ২০২১ সালের ২০ জুন তারা পালিয়ে বিয়ে করে। এ ঘটনায় মেয়েটির বাবার করা অপহরণ মামলায় ছেলেটিকে গ্রেফতার করা হয়। মামলাটি এখনও চলছে।

সাপাহার উপজেলায় ১৬ বছরের এক কিশোরী গত বছরের ৯ জানুয়ারি প্রেমিকের কর্মস্থল ময়মনসিংহে পালিয়ে যায়। এরপর এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করে ময়মনসিংহে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে। ছেলেটি রাজমিস্ত্রির কাজ করতো। এরপর ওই বছরের ২২ জানুয়ারি বাড়ি ফিরে আসে কিশোরী। ততদিনে কিশোরীর বাবা প্রেমিকের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেন। মামলায় প্রেমিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই মামলায় প্রেমিককে কারাগারে পাঠিয়ে কিশোরীকে পরিবারের জিম্মায় দেন আদালত।

পোরশা উপজেলায় ১৬ বছরের এক কিশোরী ২০২২ সালের ৯ জুলাই প্রেমিকের সঙ্গে ঘুরতে বের হয়। এটি কাল হয়ে দাঁড়ায়। প্রেমিক তাকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় প্রেমিককে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

সাপাহার উপজেলায় ১৭ বছরের আরেক কিশোরী প্রেমিকের সঙ্গে ২০২২ সালের ২২ জুলাই বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। তাদের পালানোর প্রধান কারণ ছিল কিশোরী সনাতন ধর্মের আর প্রেমিক আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী। এছাড়া কিশোরীর পরিবার অন্যত্র বিয়ে ঠিক করেছিল। পালানোর ছয় দিন পর এই যুগলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর কিশোরী ছাড়া পেলেও তার বাবার দায়ের করা অপহরণ মামলায় প্রেমিক কারাগারে রয়েছে।

এমনই প্রেম সম্পর্কিত ৩৬ মামলার শুনানি গ্রহণ করেছেন বিচারক উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মকবুল হোসেন বলেন, ‘শুনানি শেষে বাদী ও অভিযুক্তদের প্রেমে না জড়িয়ে নিজেদের ধর্মীয় অনুশাসন মানা, বাবা-মায়ের আদেশ মেনে চলা, পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, আত্মনির্ভরশীল হওয়া, শিক্ষিত হয়ে দেশ-জাতির কল্যাণে কাজ করার উপদেশ এবং পরামর্শ দেন। তবে কোনও মামলার রায় দেননি বিচারক।’

এর আগে বেলা ১১টায় এজলাসে বসে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন বিচারক মেহেদী হাসান তালুকদার। শুনানিতে প্রত্যেক মামলার ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের বিভিন্ন বিষয়ে উপদেশ এবং পরামর্শ দিয়েছেন। অসম প্রেমে জড়ানো, তা থেকে বিরত থাকা, অপহরণ এবং বিয়ের কথা বলে ধর্ষণ থেকে দূরে থাকতে বলা হয়। সেইসঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধে ও গুরুজনদের আদেশ-নিষেধ মেনে চলার উপদেশ দেন বিচারক।

আজ ব্যতিক্রমী আদালত বসেছে জানিয়ে নওগাঁ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, ‘মামলাগুলো ভিন্ন ভিন্ন দিনে শুনানি করলে বিচারক সবাইকে একই উপদেশ দিতে পারতেন না। একইদিনে শুনানি হওয়ায় আদেশ-নিষেধ ও উপদেশ দিতে পেরেছেন। তবে কোনও মামলার রায় হয়নি।’

You may also like

প্রকাশক : জিয়াউল হায়দার তুহিন

সম্পাদক : হামীম কেফায়েত

গ্রেটার ঢাকা পাবলিকেশন
নিউমার্কেট সিটি কমপ্লেক্স
৪৪/১, রহিম স্কয়ার, নিউমার্কেট, ঢাকা ১২০৫

যোগাযোগ : +8801712813999

ইমেইল : news@dhakabarta.net