শনিবার, জুলাই ১৩, ২০২৪

রাজধানীর ‘গরিবের হাসপাতালে’ বিনামূল্যে সেবা দেন ডাক্তাররা

সরকারি হাসপাতালের চেয়েও কম মূল্যে করা হয় প্রতিটি পরীক্ষা

by ঢাকাবার্তা ডেস্ক
রাজধানীর ‘গরিবের হাসপাতালে’ বিনামূল্যে সেবা দেন ডাক্তাররা

জীবনধারা ডেস্ক।।

রাজধানীর সরকারির চেয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু চিকিৎসার খরচ দিন-রাতের ফারাক। এডিস মশাবাহিত এ রোগ নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে পা রাখলেই খরচাপাতি বাড়ে অন্তত পাঁচ গুণ। যারা নিম্নবিত্ত , সাধারণ অসুখেও টাকা খরচের সামর্থ্য তাদের নেই। যারা মধ্যবিত্ত তাদেরও চিকিত্সার জন্য তাদের ভাঙতে হয় সঞ্চয়। অন্যদিকে আয়ের তুলনায় অনেক গুণ বেড়েছে চিকিত্সা ব্যয়। পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে ঋণের অথই সাগরে হাবুডুবু খেতে হচ্ছে তাদের। জটিল রোগের চিকিত্সা করাতে গিয়ে মধ্যবিত্তরা হচ্ছে দরিদ্র, আর দরিদ্ররা হচ্ছে নিঃস্ব। তবে রাজধানীতে ব্যতিক্রমী একটি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগী দেখেন বিনা ভিজিটে। প্রতিটি স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করা হয় সরকারি হাসপাতালের চেয়েও কম মূল্যে। গরিব ভর্তি রোগীদেরও দেওয়া হয় বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ

এই হাসপাতালে রোগীদের জন্য রাখা হয়েছে ১৫ শতাংশ ছাড়ে ওষুধ কেনার সুযোগ। বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি থেকে চিকিৎসকদের দেওয়া স্যাম্পল ওষুধ কালেকশন করে সেগুলো রোগীদের বিনামূল্যে বিতরণ করেন তারা। আর অর্থনৈতিকভাবে দুর্বলদের জন্যতো এখানে সবই ফ্রি। তাইতো রোগীদের কাছে এই হাসপাতালের পরিচিতি গরিবের হাসপাতাল নামে।

রাজধানীর দারুসসালাম এলাকায় গরিব ও অসহায় রোগীদের জন্য উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে এই হাসপাতাল গড়েছে মানবিক চিকিৎসকদের সংগঠন হিউম্যান এইড বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নগরীর অনেক হাসপাতালে যখন টাকা দিয়েও মেলে না কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিসের শিডিউল, সেখানে এই হাসপাতালে ডায়ালাইসিস হচ্ছে স্বল্প মূল্যে বা বিনামূল্যে। এখনও কেউ সক্ষমতার বিবেচনায় ২৫০০ থেকে ১৫০০ টাকায় ডায়ালাইসিস করাতে পারেন কিডনি রোগীরা। আর চিকিৎসার পাশাপাশি অস্বচ্ছ্বল ক্যান্সারের রোগীদের দেওয়া হয় অর্থ সহায়তাও।

জানা গেছে, মূলত ২০০৯ সালে রক্তদান কর্মসূচির মাধ্যমে এই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শেখ মইনুল খোকন। পরে ধীরে ধীরে সম্প্রসারণ করেন বিভিন্ন চিকিৎসা উদ্যোগ। যার ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে হিউম্যান এইড রিসার্চ ল্যাব এন্ড হসপিটাল। ২০১৯ সালে করোনা ভাইরাসের শুরুর দিকে ঝুঁকি নিয়ে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে প্রথম আলোচনায় আসে প্রতিষ্ঠানটি।

হিউম্যান এইড বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের এনেস্থেশিয়া ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের সমন্বয়ক ডা. মো. সাকিব হাসান জানান, অসহায় রোগীদের জন্য ৩ থেকে ৫ হাজার টাকায় হাসপাতালটিতে আইসিইউ ও এইচডিউ সেবা চালুর চেষ্টা করছেন তারা। এই সেবা চালু করতে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনার উদ্যোগ নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

হিউম্যান এইড বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ডা. শেখ মইনুল খোকন গণমাধ্যমকে বলেন, ডাক্তাররা যেখানে স্থায়ীভাবে চাকরি করেন সেখান থেকেতো আয় হয়ই কিছু মানবিক চিকিৎসক এখানে এসে বাড়তি সময়টা গরিব মানুষের জন্য বিলিয়ে দেন। তারা এখানে বিনা ভিজিটে রোগী দেখেন, নাম মাত্র খরচে অপারেশন করেন। মানবিক ডাক্তারদের এমন উদ্যোগ দেখে এগিয়ে এসেছে ওষুধ কোম্পানিগুলোও। তারা আমাদের স্বল্প খরচে ওষুধ দেয়, আমরা তা কেনা দামেই রোগীদের কাছে পৌঁছে দেই।

হাসপাতাল পরিচালনার খরচ কিভাবে ব্যবস্থা হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি যেহেতু স্বেচ্ছ্বাসেবী উদ্যোগ এখানকার কর্মীরাও স্বেচ্ছ্বাসেবক হিসেবে নামমাত্র মূল্যে কাজ করেন। আমাদের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বিত্তবান কিছু মানুষ দান করেছেন। বাড়িওয়ালা নামমাত্র ভাড়ায় আমাদের কাছে বাড়িটি ভাড়া দিয়েছেন। তাছাড়া, বিভিন্ন মানুষ এখানে যাকাত দেন এবং স্বেচ্ছ্বায় দান করেন সেই টাকায় রোগীদের এসব সেবা দেওয়া সম্ভব হয়।

এই হাসপাতালে স্বেচ্ছ্বায় রোগীদের নামমাত্র মূল্যে ফিস্টুলা করে দেন জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক ডা. এনামুল হাকিম। তিনি বলেন, কারো ফিস্টুলা করার পর ১৫ হাজারের জায়গায় ৩ হাজার টাকা দিয়ে রোগী যখন একটা হাসি দেয় এতেই মন ভরে যায়। চিন্তা করি এই সময়টাতো আমি টিভি দেখে বা অলসভাবে বসেও কাটিয়ে দিতাম। এর বিপরীতে একজন রোগী উপকৃত হলে খারাপ কী? আল্লাহ যে আমাকে সুস্থ রেখেছেন সেটারওতো শুকরিয়া করতে হয়। হিউম্যান এইড বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে তাই ফাউন্ডেশনের কেউ না হয়েও তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এখানে কিছুটা সময় দেওয়ার চেষ্টা করছি।

সদ্য চাঁদপুরে বদলী হওয়া চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. জি এম ইশতিয়াক মাহমুদ বলেন, দুদিন আগে আমি একজন রোগীর ফোড়া অপারেশন করেছি। তিনি একজন সাবেক মাদ্রাসা শিক্ষক। তার পরিবারের কোনো উপার্যনক্ষম লোক নেই। তিনি আবার ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগী। তার ফোড়াটি মারাত্মক আকার ধারণ করে পুঁজ পড়ছিলো। এজন্য তার স্ত্রীও তাকে ধরতে চাচ্ছিলেন না। তাকে আমি নামমাত্র খরচে অপারেশন করে দিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ্ আজ তিনি সুস্থ। তিনিও খুশি তার স্ত্রীও খুশি। এই খুশিটাই আমার কাছে বড় পাওয়া।

তিনি বলেন, আমার টাকা যা দরকার আমি তা পাচ্ছি। সরকার যা দিচ্ছে তাতেই আমার সংসরা চলে যাচ্ছে। এত টাকা দিয়ে কি করবো, তারচেয়ে মানুষের হাসি কুড়ানোর মধ্যে আলাদা সুখ আছে। শুধু টাকার জন্য কাজ করলেতো বিদেশেই চলে যেতে পারতাম। কিন্তু যায়নি। আল্লাহ আমাকে মেধা দিয়েছেন, মানুষ আমাকে বিশ্বাস করে তার পেটে ছুরি চালাতে দেয় এটাইতো জীবনের বড় পাওয়া।

 

আরও পড়ুন: কথায় কথায় গ্যাসের ওষুধ খেয়ে নিজের যেসব ক্ষতি করছেন

You may also like

প্রকাশক : জিয়াউল হায়দার তুহিন

সম্পাদক : হামীম কেফায়েত

গ্রেটার ঢাকা পাবলিকেশন
নিউমার্কেট সিটি কমপ্লেক্স
৪৪/১, রহিম স্কয়ার, নিউমার্কেট, ঢাকা ১২০৫

যোগাযোগ : +8801712813999

ইমেইল : news@dhakabarta.net