বুধবার, মে ২২, ২০২৪

স্টেডিয়াম নয় মাঠ বাড়াতে চান নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী পাপন

এবার নতুন দায়িত্বে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে পা রাখলেন বিসিবি বস। কিশোরগঞ্জ-৬ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য গতকাল অফিস করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে।

by ঢাকাবার্তা ডেস্ক
স্টেডিয়াম নয় মাঠ বাড়াতে চান নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী পাপন

খেলা ডেস্ক।।

২০১২ সালে সরকার কর্তৃক মনোনীত সভাপতি হয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড- বিসিবিতে পা রাখেন নাজমুল হাসান পাপন। পরের বছর বিসিবি’র নির্বাচিত সভাপতি হন তিনি। সেই থেকে একই পদে ১১তম বছরে পা দিলেন নাজমুল হাসান। এই সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে সফল হয়েছেন। এবার নতুন দায়িত্বে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে পা রাখলেন বিসিবি বস। কিশোরগঞ্জ-৬ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য গতকাল অফিস করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে। বিকালে যান জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে। সেখানে ক্রীড়াঙ্গনের সর্বস্তরের মানুষের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, স্টেডিয়াম কিংবা অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, তার নজর থাকবে খেলার মাঠ তৈরিতে। একই সঙ্গে ফেডারেশনগুলো নিয়ে তিন বছরের একটি পরিকল্পনা সাজানোর কথা বলেন তিনি।

গতকাল তার আগমন উপলক্ষে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ছোট্ট সম্মেলন কক্ষে পা ফেলার ঠাঁইও ছিল না। খানিকটা ধাক্কাধাক্কিও হয়েছে ফুল দিতে গিয়ে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনস্থ সংস্থা হলেও বোর্ডের কর্মকর্তারা কখনই আসতেন না জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি)।  গতকাল বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন মন্ত্রী হয়ে প্রথম এনএসসিতে আসলে তারাও ভীড় করেন সেখানে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদেরও চেয়ারম্যান। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সাধারণত স্টেডিয়াম অবকাঠামো নির্মাণে ব্যস্ত থাকে।

 

নতুন চেয়ারম্যান স্টেডিয়াম নির্মাণের চেয়ে মাঠকে বেশি প্রাধান্য দিবেন জানিয়ে বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, স্টেডিয়াম তো রয়েছে। কিন্তু মাঠ কোথায়? মাঠ না থাকলে মানুষ খেলবে কোথায়? তাই আমার কাছে স্টেডিয়ামের চেয়ে মাঠ বেশি প্রয়োজন। আমি মাঠ তৈরিতে নজর দিবো।’ ক্রিকেটেও মাঠের সমস্যা আছে জানিয়ে পাপন বলেন, ‘মিরপুর স্টেডিয়াম ছাড়া ঢাকায় সেভাবে মাঠ নেই। ফলে মিরপুরে অনেক চাপ পড়ছে এবং এজন্য উইকেটের মানও ভালো হচ্ছে না।’ স্টেডিয়াম নির্মাণ ও সংস্কার রক্ষণাবেক্ষণ যথাযথ হয় না। এই বিষয়টিও তুলে ধরে নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, ‘স্টেডিয়াম কিন্তু আমাদের অনেক রয়েছে। অনেক স্টেডিয়াম তালাবদ্ধ খেলা হয় না, আবার অনেক স্টেডিয়াম সকলের জন্য উন্মুক্ত নয়। এজন্য আমাদের আগে দেখতে হবে স্টেডিয়ামের সংখ্যা কত এবং এর মধ্যে সক্রিয় কয়টি। এরপর সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।’ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বাজেট হাজার কোটি টাকার একটু বেশি। এর মধ্যে যুব খাতেই চলে যায় অনেক অর্থ। ক্রীড়াঙ্গনে যে টাকা থাকে এর আবার সিংহভাগ অবকাঠামো নির্মাণ ও প্রশাসনিক ব্যয়। ক্রীড়ার প্রশিক্ষণে তুলনামূলক বেশি বরাদ্দ থাকে না। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অবকাঠামো নির্মাণও প্রয়োজন বলে মনে করেন পাপন।

 

তিনি বলেন, ‘প্রশিক্ষণ যেমন দরকার, তেমনি প্রয়োজন অবকাঠামো নির্মাণও। খেলোয়াড়দের জন্য ভালো এবং উন্নতমানের জায়গা দেওয়া দরকার প্রশিক্ষণ করানোর জন্য।’ নতুন দায়িত্বে ক্রিকেট বাদে বাংলাদেশের অন্যান্য খেলাকে এগিয়ে নিতে একটা সময়সীমা বেঁধে কাজ করতে চান পাপন। তিনি বলেন, ‘ফেডারেশনগুলোকে মূলত আর্থিক সাপোর্ট দিব। তখন তাদেরকেও আমাকে একটা টার্গেট দিতে হবে। এখন কোথায় আছি, সামনে কোথায় যাব বলতে হবে। তারা ৫-১০ বছরের সময় নিতেই পারে। কিন্তু তিন বছর পর কোথায় যাব সেটা বলতে হবে। যাদের সাপোর্ট দিব তারা সেটা ঠিক মতো কাজে লাগাতে পারছে কিনা সেটা দেখতে হবে। কেউ যদি অর্জন না করতে পারে তাহলেই সব বাতিল হবে এমন না, যদি সম্ভাবনা দেখি তাহলে প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। আর যদি দেখা যায় যে তাদের দিয়ে সম্ভব না তাহলে আমরা দ্বিতীয়বার চিন্তা করবো যে ওদের দিয়ে হবে না।’

 

আরও পড়ুন: চিকিৎসার জন্য রাতে লন্ডন যাচ্ছেন সাকিব

You may also like

প্রকাশক : জিয়াউল হায়দার তুহিন

সম্পাদক : হামীম কেফায়েত

গ্রেটার ঢাকা পাবলিকেশন
নিউমার্কেট সিটি কমপ্লেক্স
৪৪/১, রহিম স্কয়ার, নিউমার্কেট, ঢাকা ১২০৫

যোগাযোগ : +8801712813999

ইমেইল : news@dhakabarta.net