বুধবার, মে ২২, ২০২৪

স্নিকো বিতর্কের পর শান্ত ঝড়ে উড়ে গেলো শ্রীলঙ্কা

বুধবার শ্রীলঙ্কা আগে ব্যাটিং করে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে। জবাবে খেলতে নেমে ১১ বল আগে ৮ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে শান্তর দল। 

by ঢাকাবার্তা ডেস্ক
স্নিকো বিতর্কের পর শান্ত ঝড়ে উড়ে গেলো শ্রীলঙ্কা

খেলা ডেস্ক।।

ম্যাচ শুরুর দুই ঘণ্টা আগে নতুন ব্যাটিং কোচ ডেভিড হ্যাম্পকে নিয়ে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের দুই নম্বর গ্রাউন্ডে ব্যাটিং অনুশীলনে করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়। এই অনুশীলনের টোটকাই ঠিকঠাক কাজে লাগাতে পেরেছেন তারা। আজ ম্যাচের আগে হ্যাম্পের সঙ্গে কৌশলগত কিছু বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। ম্যাচেও তার প্রভাব স্পষ্ট দেখা গেছে। রানের জন্য মরিয়া হওয়া শান্ত অবশেষে স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পেরেছেন। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে দাসুন শানাকাকে স্কয়ার লেগ দিয়ে বিশাল ছক্কায় বাংলাদেশের বিজয় নিশান উড়ালেন তিনি। হৃদয়-শান্তর  অবিচ্ছিন্ন ৮৭ রানের জুটিতে দারুণ এক জয় তুলে তিন ম্যাচ সিরিজে সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ।

আগের ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ-জাকেরের ক্যামিও ইনিংসের পরও দর্শকদের মন ভরেনি। ভরবেই বা কী করে, বাংলাদেশ যে হেরে গেছে ৩ রানের ব্যবধানে। আজ দর্শকরা মাঠে ঢুকতে ঢুকতেই বলছিলেন, জয়ের সাক্ষী হয়েই মাঠ ছাড়বেন! ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করেছেন লিটন-সৌম্য-শান্ত-হৃদয়রা। বুধবার শ্রীলঙ্কা আগে ব্যাটিং করে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে। জবাবে খেলতে নেমে ১১ বল আগে ৮ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে শান্তর দল।

সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা লড়াইয়ে থাকে বাড়তি উত্তেজনা। যার শুরুটা হয়েছিল ২০১৮ সালে নিদাহাস ট্রফির মাধ্যমে। ওই ম্যাচে ‘নাগিন ড্যান্স’ বিতর্ক তৈরি করেছিল। ওই নাগিন ড্যান্সের ম্যাচেও জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। পরবর্তীতে লঙ্কানদের বিপক্ষে বাংলাদেশ যতবারই লড়াই করেছে, ততবারই উত্তেজনা আর রোমাঞ্চের ছিল ছড়াছড়ি। সর্বশেষ গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের টাইমড আউট কাণ্ডে দুই দলের লড়াই রূপ নিয়েছে মহারণে। সেই ম্যাচেও শেষ হাসি হেসেছিল বাংলাদেশ।

বিশ্বকাপে খেলা ওই ম্যাচের প্রভাব ছিল সিলেটে অনুষ্ঠিত প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও। বুধবার সিরিজের দ্বিতীয় দিনে তো কয়েক মিনিট খেলাই বন্ধ ছিল। সৌম্যর আউটকে ঘিরে উত্তেজনা ছিল। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা দ্বৈরথে নতুন করে আরও একটি বিতর্ক যুক্ত হলো। যার নাম ‘স্নিকো’ বিতর্ক!  ম্যাচের চতুর্থ ওভারের ঘটনা। বিনুরা ফার্নান্দো প্রথম বলটি ছিল শট লেংথের। সৌম্য পুল করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাট-বলে সংযোগ হয়নি। বল চলে যায় উইকেট কিপার কুশল মেন্ডিসের হাতে। লঙ্কানদের কট বিহাইন্ডের জোরালো আবেদনে আম্পায়ার গাজী সোহেল আউট দেন। সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন সৌম্য।  আল্ট্রা-এজে দেখা গেছে স্পাইক। তবে টিভি আম্পায়ার মাসুদুর রহমানের ব্যাখ্যা ছিল স্পাইক দেখানোর সময় বল ও ব্যাটের মধ্যে ফাঁক আছে। পরবর্তীতে আউট ভেবে ড্রেসিংরুমের কাছাকাছি চলে যাওয়া সৌম্যকে ফেরত আনানো হয়।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগের হারের শোক ভুলে নতুন উদ্যোম নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। লঙ্কানদের ১৬৫ রানে থামিয়ে দিয়ে শুরুটা ভালো করেন দুই ওপেনার লিটন ও সৌম্য। দুই ওপেনার পাওয়ার প্লেতে তুলে ফেলেন ৬৩ রান। তবে সপ্তম ওভারে লঙ্কান অধিনায়ক মাথিশা পাথিরানাকে বল দিলে জুটি ভাঙেন তিনি। ১৪ রানে জীবন পাওয়ার পর সৌম্যর সুযোগ ছিল ইনিংসটাকে বড় করার। কিন্তু ২২ বলে ৫ চারে ২৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এর আগে সৌম্যর আউটকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। এই আউট শুরুতে মেনে নিতে পারেননি লঙ্কান ক্রিকেটারা। আম্পায়ার শরফুদ্দৌলাকে ঘিরে ধরেন তারা। ওদিকে কোচ ক্রিস সিলভারউড গিয়েছিলেন চতুর্থ আম্পায়ার তানভীর আহমেদের কাছেও। শেষ পর্যন্ত খেলা শুরু হলেও এই আগের দুই বিতর্কের সঙ্গে নতুন এই বিতর্কও যে নতুন মাত্রা দেবে, সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না।

সৌম্য আউটের পর শান্তকে সঙ্গে নিয়ে লিটন এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু হুট করেই ‘হাফ শট’ খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নেন লিটন। ২৪ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৩৬ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ৮৩ রানে দুই উইকেট হারানোর পর বাকি পথটা অনায়াসেই পাড়ি দেন হৃদয় ও শান্ত। দুজনই আগের ম্যাচে ব্যর্থ ছিলেন। আজকে আগেভাগে মাঠে এসে দুজন নতুন ব্যাটিং কোচ হ্যাম্পের কাছে ক্লাস করেছিলেন। হ্যাম্পের এই ক্লাস টোটকা হিসেবে কাজ করেছে। দুজন জয় তুলে মাঠ ছেড়েছেন। তাদের ৫৫ বলে ৮৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশ সহজ জয় নিশ্চিত করে।

১৯তম ওভারে দলের জয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজন ছিল ২ রান। অন্যদিকে শান্তর হাফ সেঞ্চুরির জন্য প্রয়োজন ৩ রানের। তিনি ছক্কা মেরে নিজের হাফ সেঞ্চুরির পাশাপাশি দলকে জেতান। ৩৮ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৫৩ রানে অপরাজিত ছিলেন শান্ত। এমন ইনিংস খেলে ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি। ২৫ বলে ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন হৃদয়।

এদিকে আগের ম্যাচের মতো আজকেও টস জিতে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারে আভিষ্কা ফার্নান্ডোকে ফিরিয়ে দারুণ শুরু করে বাংলাদেশ। তাসকিনের বলে রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন লঙ্কান এই ওপেনার। তবে দ্বিতীয় উইকেটে কুশল ও কামিন্দু মেন্ডিস মিলে প্রতিরোধ গড়েন। দুই মেন্ডিসের ৪২ বলে ৬৬ রানের জুটি ভাঙেন সৌম্য। স্লো মিডিয়াম এই পেসারের বলে উইকেটের পেছনে লিটনকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেওয়ার আগে ২২ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৬ রানের ইনিংস খেলেন কুশল। এরপর স্কোরবোর্ডে আরও ১০ রান যোগ হতেই আউট হন কামিন্দু। শেখ মেহেদীর থ্রোয়ে রিশাদ তাকে রান আউট করেন, ২৭ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩৭ রানের ইনিংস খেলেন লঙ্কান ব্যাটার।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও স্কোরবোর্ডে শ্রীলঙ্কার রানরেট ভালোই ছিল। মিডল অর্ডারে নামা চারিথ আসালাঙ্কার ১৪ বলে ২৮ রানের পর  ম্যাথুজের ২১ বলে ৩২ রান এবং শানাকার ১৮ বলে ২০ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে শ্রীলঙ্কা শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায়। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তাসকিন আহমেদ, মেহেদী, সৌম্য ও মোস্তাফিজুর রহমান একটি করে উইকেট নিয়েছেন।

 

 

আরও পড়ুন: মাহমুদউল্লাহ-জাকেরের ব্যাটে অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের পর বাংলাদেশের হার

You may also like

প্রকাশক : জিয়াউল হায়দার তুহিন

সম্পাদক : হামীম কেফায়েত

গ্রেটার ঢাকা পাবলিকেশন
নিউমার্কেট সিটি কমপ্লেক্স
৪৪/১, রহিম স্কয়ার, নিউমার্কেট, ঢাকা ১২০৫

যোগাযোগ : +8801712813999

ইমেইল : news@dhakabarta.net