নারায়াণগঞ্জ প্রতিনিধি ।।
রাজধানীর পূর্বাচল আবাসিক এলাকার প্রস্তাবিত স্টেডিয়ামের ২০ একর জমি দখল করে গড়ে উঠেছে ‘নীলা মার্কেট’। মসজিদ-মাদ্রাসা, শত শত দোকানপাট, এমনকি ‘আওয়ামী লীগ ক্লাব’ নির্মাণ করে জায়গাটি স্থায়ীভাবে দখলের পাঁয়তারা চলছে। বহুবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েও দখলমুক্ত করতে পারেনি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।
রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, তারা প্রায়ই নীলা মার্কেট উচ্ছেদ করেন। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র টিনের ঘর তুলে দোকান বসিয়ে দেয়। প্রতিদিন এসব দোকান থেকে চাঁদা আদায় করা হয়। তিনি বলেন, “তাদের সঙ্গে আমরা পেরে উঠছি না, তবে অভিযান থামাবো না।” প্রতি তিন মাস পরপর উচ্ছেদ অভিযানের পরিকল্পনাও রয়েছে।
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের মহাপরিকল্পনায় জাতীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩৭.৫০ একর জমি, এর মধ্যে ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জন্য নির্ধারিত ২০ একর জমি ১৯ বছর আগে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) স্টেডিয়াম নির্মাণের দায়িত্বে থাকলেও জায়গাটি এখন অবৈধ দখলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই শতাধিক পরিবারকে উচ্ছেদ করে স্টেডিয়ামের জন্য জমি নেওয়া হয়েছিল। অথচ সেখানে এখন পাকা ও আধাপাকা কয়েকশ দোকানঘর, কাঁচাবাজার ও দৈনিক হাট বসেছে। দোকানপ্রতি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয় বিদ্যুৎ, পানি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নামে। এছাড়া প্রতিটি দোকানের পজেশন বিক্রি হচ্ছে এক থেকে পাঁচ লাখ টাকায়।

ফেরদৌসী আলম নীলা
মার্কেট ঘিরে মাদক ব্যবসা, জুয়া ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। কবরস্থানের ভেতরে মাদকের মজুদ ও খুচরা বিক্রিরও প্রমাণ মিলেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কিছু অসাধু প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে এসব চলছে বলে অভিযোগ।
রাজউকসূত্র জানায়, নীলা মার্কেট উচ্ছেদে অন্তত চার দফা অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু প্রতিবার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দোকানপাট ফের নির্মাণ হয়। পুলিশের সহায়তার অভাবেও অভিযান ব্যর্থ হয়। শিগগিরই আবার উচ্ছেদ চালিয়ে জায়গাটি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দোকানপাট ও স্থাপনা পাকা হয়ে যাওয়ায় বুলডোজার দিয়েই উচ্ছেদ সম্ভব নয়। ক্ষতিপূরণ দাবি তুলে নতুন জটিলতা সৃষ্টির ফন্দিও চলছে। এর ফলে স্টেডিয়াম নির্মাণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌসী আলম নীলা জানান, এমপি’র নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জীবিকা নির্বাহের জন্য অস্থায়ী বাজার বসানো হয়েছে। তিনি বাজার ঘিরে চাঁদাবাজি বা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
