ঢাবি প্রতিনিধি ।।
গত বছর জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের হামলায় আহত হয়েছিলেন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সানজিদা আহমেদ তন্বি। এবার তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে গবেষণা ও প্রকাশনা-বিষয়ক সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার প্রতি সম্মান জানিয়ে ছাত্রদল, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, প্রতিরোধ পর্ষদ, সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ, অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪ এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলনসহ ছয়টি প্যানেল এই পদে কোনো প্রার্থী দেয়নি।
বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব তাদের প্যানেল ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “সানজিদা আহমেদ তন্বির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা এই পদে কোনো প্রার্থী দিইনি। ছাত্রদল তার প্রার্থীতাকে সম্পূর্ণ সমর্থন করছে।” এছাড়া, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের এক ফেসবুক পোস্টে জানান, তন্বির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তাদের প্যানেল এই পদে কাউকে মনোনয়ন দেয়নি। তিনি লিখেছেন, “তন্বি আমাদের জুলাইয়ের আন্দোলনের প্রেরণা। তার প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা গবেষণা ও প্রকাশনা-বিষয়ক সম্পাদক পদটি শূন্য রেখেছি এবং তাকে আমাদের পূর্ণ সমর্থন থাকবে।”

জুলাইয়ে আহত সানজিদা আহমেদ তন্বি। ফাইল ফটো
একইভাবে, ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ এবং ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেলও এই পদে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি। বুধবার মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪’ প্যানেলের ঘোষণায় ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা জানান, গত বছর ১৫ জুলাই ছাত্রলীগের হামলায় আহত তন্বিকে সমর্থন জানাতে তারা এই পদে কোনো প্রার্থী দেননি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা ফেসবুকে তন্বিকে শুভকামনা জানিয়েছেন, তবে তার প্যানেল এই পদে প্রার্থী দেবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ থেকে সাজ্জাদ হোসাইন খান এবং ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে সিয়াম ফেরদৌস ইমন এই পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মঙ্গলবার তন্বি নির্বাচন কমিশনে তার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি কোনো প্যানেলের সঙ্গে যুক্ত না হয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমি গবেষণা ও প্রকাশনা-বিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচন করছি কারণ আমার গবেষণার অভিজ্ঞতা ও এই ক্ষেত্রে আগ্রহ রয়েছে। আমি শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণা তহবিল নিশ্চিত করা, জার্নালের অ্যাক্সেস সহজ করা, কর্পোরেট, অ্যালামনাই বা এনজিও’র সঙ্গে সমন্বয় করে তহবিল সংগ্রহ, গুণগত গবেষণার জন্য স্বীকৃতি প্রদান এবং সেমিনারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করব। আমার লক্ষ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে বিশ্বমানে নিয়ে যাওয়া।”
