চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ।।
দীর্ঘ সাড়ে সাত বছরের বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুট্টা বহনকারী একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদরঘাটের কনফিডেন্স সিমেন্ট ঘাটে চালানটি খালাসের কাজ শুরু হয়।
প্রায় ৫৭ হাজার ৮৫৫ টন ভুট্টার এই চালান আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৭৫ কোটি টাকার সমান। পশুখাদ্য উৎপাদনকারী নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপ, প্যারাগন গ্রুপ এবং নারিশ পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড যৌথভাবে এই চালান আমদানি করেছে। এর আগে ২০১৮ সালের ৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে সর্বশেষ ৫৪ হাজার টন ভুট্টা এনেছিল শ্রীপুরভিত্তিক এজি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
- প্রায় সাড়ে সাত বছর বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুট্টা আমদানি শুরু
- মোট চালান ৫৭ হাজার ৮৫৫ টন, আমদানি ব্যয় ১ কোটি ৪২ লাখ ডলার
- আমদানিকারক নাহার অ্যাগ্রো, প্যারাগন গ্রুপ ও নারিশ পোলট্রি
- টনপ্রতি খরচ ২৪৬ ডলার, যা ব্রাজিলের চেয়ে কম
- ওয়াশিংটনের ভ্যাংকুভার বন্দর থেকে পাঠানো হয়েছে চালানটি
- পশুখাদ্য উৎপাদনে উচ্চমানের ভুট্টার নতুন উৎস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র
- ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশে ভুট্টার চাহিদার ২১ শতাংশ এসেছে আমদানির মাধ্যমে
- এতদিন ব্রাজিল ছিল প্রধান সরবরাহকারী, এবার যুক্ত হলো যুক্তরাষ্ট্র
এই আমদানিকে ঘিরে কনফিডেন্স সিমেন্ট ঘাটে ‘দ্য রিটার্ন অব ইউএস কর্ন টু বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এরিন কোভার্ট জানান, ২০২৫–২৬ ফসল মৌসুমে উৎপাদিত এসব ভুট্টা দীর্ঘ বিরতির পর আবার বাংলাদেশে প্রবেশ করল। ভুট্টার গুণগত মান ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণ নিশ্চয়তা দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ভ্যাংকুভার বন্দর থেকে চালানটি পাঠানো হয়েছে। এই আমদানির মাধ্যমে বাংলাদেশের পশুখাদ্য প্রস্তুতকারীরা প্রাণী পুষ্টির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উন্নতমানের ভুট্টা ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। চালানটি রপ্তানি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় শস্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড গ্রেইন করপোরেশন।
ভুট্টা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নাহার অ্যাগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিবুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুট্টা আনতে সাধারণত প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগে। দ্রুত সরবরাহের কারণে এতদিন ভারত ও ব্রাজিলের ওপর নির্ভর করতে হতো। তবে ব্রাজিল থেকে আমদানির ব্যয়ও প্রায় একই। পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার হওয়ায় এখন ১০–১৫ দিন বেশি সময় লাগলেও যুক্তরাষ্ট্র থেকেই ভুট্টা আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
কাস্টমস সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা এই চালান চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত পৌঁছাতে টনপ্রতি ব্যয় হয়েছে ২৪৬ ডলার। একই সময়ে ব্রাজিল থেকে আমদানিকৃত ভুট্টার দাম ছিল টনপ্রতি ২৫১ থেকে ২৬০ ডলার। ফলে তুলনামূলকভাবে কম দামে যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা পাওয়া গেছে।
এমভি বেলটোকিও নামের জাহাজে করে ভুট্টার এই চালান আনা হয়। বন্দরের বহির্নোঙরে থাকা জাহাজটি থেকে ধাপে ধাপে ছোট জাহাজে ভুট্টা স্থানান্তর করে সদরঘাটের কনফিডেন্স সিমেন্ট ঘাটে নেওয়া হয়। পরে ক্রেনের মাধ্যমে ট্রাকে বোঝাই করে আমদানিকারকদের গুদামে পাঠানো হচ্ছে।
আমদানি ও উৎপাদনসংক্রান্ত পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশে ভুট্টার মোট সরবরাহ ছিল প্রায় ৭০ লাখ টন। এর মধ্যে স্থানীয় উৎপাদন ছিল ৫৫ লাখ টন এবং আমদানি করা হয় ১৪ লাখ ৮৮ হাজার টন, যা মোট চাহিদার প্রায় ২১ শতাংশ।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এতদিন ভুট্টা আমদানির প্রধান উৎস ছিল ব্রাজিল। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৩১ কোটি ৭৪ লাখ ডলার ব্যয়ে যে ১৪ লাখ ৮৮ হাজার টন ভুট্টা আমদানি হয়, তার ৮৬ শতাংশই এসেছে ব্রাজিল থেকে। চলতি অর্থবছর থেকে সেই তালিকায় যুক্ত হলো যুক্তরাষ্ট্রের নামও।
