ডেস্ক রিপোর্ট ।।
এশিয়া কাপ ২০২৫-এর সুপার ফোর পর্বে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচটি রূপ নেয় এক রুদ্ধশ্বাস নাটকে। দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দুই দলই নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে সমান ২০২ রান করে, ফলে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। যদিও এটি ছিল নিয়মরক্ষার ম্যাচ, কারণ ভারত আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল এবং শ্রীলঙ্কা ছিটকে পড়েছিল, তবু ম্যাচটি হয়ে ওঠে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে জমজমাট লড়াই।
ভারতের ইনিংস শুরুতেই ঝড় তোলে অভিষেক শর্মা। মাত্র ২২ বলে তুলে নেন নিজের তৃতীয় টানা ফিফটি। তাঁর ৩১ বলে ৬১ রানের ইনিংসের সঙ্গে তিলক বর্মার ৩৪ বলে অপরাজিত ৪৯ এবং সঞ্জু স্যামসনের ৩৯ রানের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ভারত প্রথম দল হিসেবে এবারের এশিয়া কাপে দুই শত রানের গণ্ডি ছোঁয়। শ্রীলঙ্কার হয়ে তিকশানা, শানাকা ও আসালাঙ্কা একটি করে উইকেট নেন।

৩১ বলে ৬১ রান করলেন অভিষেক শর্মা
জবাবে শ্রীলঙ্কার শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। পাথুম নিশাঙ্কা ও কুশল পেরেরা গড়েন ১২৭ রানের জুটি, যা এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ। নিশাঙ্কা ৫৮ বলে ১০৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, যা শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। পেরেরা করেন ৩২ বলে ৫৮। ১২ ওভারে ১৩৪ রান তুলে ফেলা শ্রীলঙ্কা তখন জয়ের দ্বারপ্রান্তে ছিল। কিন্তু পেরেরার আউটের পর ছন্দপতন ঘটে। শেষ ৮ ওভারে ভারতীয় বোলারদের কৌশলী বোলিংয়ে থেমে যায় লঙ্কানদের গতি। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ২০২ রানে থেমে যায় তাদের ইনিংস।
ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে, যেখানে শ্রীলঙ্কা ব্যাটিংয়ে পাঠায় পেরেরা, শানাকা ও কামিন্দু মেন্ডিসকে। বিস্ময়করভাবে নিশাঙ্কাকে নামানো হয়নি। প্রথম বলেই পেরেরা ক্যাচ তুলে দেন, এরপর কামিন্দু ও শানাকা মিলে সংগ্রহ করেন মাত্র ২ রান। ভারতের হয়ে অর্শদীপ সিং দুর্দান্ত বোলিং করেন, তাঁর ইয়র্কারগুলোতে বিপর্যস্ত হয় লঙ্কান ব্যাটাররা। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে সূর্যকুমার যাদব হাসারাঙ্গার প্রথম বলেই কাভার দিয়ে তিন রান নিয়ে ম্যাচ শেষ করে দেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত: ২০ ওভারে ২০২/৫ (অভিষেক ৬১, তিলক ৪৯*, স্যামসন ৩৯, অক্ষর ২১*; আসালাঙ্কা ১/১৮, শানাকা ২/২৩, তিকশানা ১/৩৬)।
শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ২০২/৫ (নিশাঙ্কা ১০৭, পেরেরা ৫৮, শানাকা ২২*; পান্ডিয়া ১/৭, কুলদীপ ১/৩১, বরুণ ১/৩১)।
সুপার ওভার
শ্রীলঙ্কা: ৫ বলে ২/২
ভারত: ১ বলে ৩/০
ফল: ভারত সুপার ওভারে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: পাথুম নিশাঙ্কা।
এই জয়ে ভারত টানা ছয় ম্যাচ জিতে অপরাজিত থেকেই ফাইনালে উঠে যায়, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান। ম্যাচসেরা হন পাতুম নিশাঙ্কা, যদিও তাঁর অসাধারণ সেঞ্চুরি জয় এনে দিতে পারেনি দলকে। সনাৎ জয়াসুরিয়ার কোচিংয়ে থাকা শ্রীলঙ্কা এমন পরাজয়ে হতবিহ্বল, কারণ জয় প্রায় নিশ্চিত হয়েও শেষ মুহূর্তে হাতছাড়া হয়ে যায়।
এই ম্যাচটি প্রমাণ করে, টি-টোয়েন্টিতে শেষ মুহূর্তের কৌশল ও সিদ্ধান্ত কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং ও সূর্যকুমারের নেতৃত্বে তারা আবারও দেখাল কেন তারা এশিয়ার সেরা দলগুলোর একটি।