স্টাফ রিপোর্টার ।।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিছু আসন এখনো ফাঁকা রাখা হয়েছে, আর কিছু আসন জোটের শরিকদের জন্য ছেড়ে দিয়েছে দলটি।
মির্জা ফখরুল জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তিনটি আসন—ফেনী–১, বগুড়া–৭ ও দিনাজপুর–৩ থেকে প্রার্থী হচ্ছেন। আর তাঁর ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বগুড়া–৬ আসনে।
- বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে
- গুলশানে সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল
- চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তিনটি আসনে লড়বেন, ছেলে তারেক রহমান একটিতে
- ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা
- মনোনয়ন বঞ্চনায় মাদারীপুর ও চট্টগ্রামে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ
- সেনাবাহিনী ও পুলিশের হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল
- স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ, দলে অস্থিরতার ইঙ্গিত
প্রার্থী ঘোষণার আগে দুপুরে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান। বৈঠকে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এবং ডিসেম্বরের শুরুতে তফসিল প্রকাশ করা হবে।
বিএনপির ইতিহাসে খালেদা জিয়া বরাবরই জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে আসছেন। এবারও তিনি তিনটি আসনে লড়বেন, যার দুটিতে আগে জয়ী হয়েছেন, আর দিনাজপুর–৩ তাঁর নতুন আসন। ফেনী–১ আসনটি তাঁর পৈতৃক এলাকা, আর বগুড়া–৭ আসন তাঁর রাজনৈতিক শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। দিনাজপুরে তাঁর জন্ম, যদিও পরিবার পরবর্তীতে স্থায়ী হয় বগুড়ায়।
তারেক রহমান এবারই প্রথম সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম মা–ছেলে একসঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে নামছেন।
এদিকে মনোনয়ন বঞ্চনাকে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। মাদারীপুর–১ (শিবচর) আসনে মনোনয়ন না পেয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকীর অনুসারীরা সোমবার রাতে ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা চলা এ অবরোধে সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
একইভাবে চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড) আসনেও বিক্ষোভ হয়েছে। সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী মনোনয়ন না পেয়ে তাঁর কর্মী–সমর্থকেরা ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে স্লোগান দেন। এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। বিক্ষোভকারীরা বলেন, আসলাম চৌধুরী দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, অথচ তাঁকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, মহাসড়কের ভাটিয়ারী, মাদামবিবিরহাট, জলিল গেইটসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাজ শুরু করে।
একদিকে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা, অন্যদিকে মাঠের প্রতিক্রিয়া—দলীয় রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ যোগ করেছে।




















