স্টাফ রিপোর্টার ।।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ হতে পারে বলে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
১৩ জুন সকালে এই সাক্ষাৎ হতে পারে, কেননা ওইদিন প্রধান উপদেষ্টার নির্ধারিত কোনো কর্মসূচি এখন পর্যন্ত নেই বলে জানা গেছে।
সোমবার (আজ) ড. ইউনূস ৫ দিনের সরকারি সফরে যুক্তরাজ্যে যাচ্ছেন। সেখানে তাঁর ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে বাকিংহাম প্রাসাদে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিকের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হবে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
তবে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা থাকলেও, তা শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তাজনিত কারণে বাতিল হয়েছে বা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব রুহুল আলম সিদ্দিকী বলেছেন, সফরসূচিতে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই।
তবে বিএনপি এবং লন্ডনস্থ দলীয় সূত্রগুলো বলছে, প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকেই বৈঠকের প্রস্তাব এসেছে এবং উভয় পক্ষই এখনো আলোচনায় রয়েছে। যদিও নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য এবং তারেক রহমানের পূর্ববর্তী অবস্থানের প্রেক্ষাপটে দলটির ভেতরেই বৈঠকের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এছাড়া সরকারি সফরে এসে একটি রাজনৈতিক দলের নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ কতটা শোভন হবে—সে বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন, এই বৈঠকটি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।
সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা তার জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে এপ্রিল মাসে নির্বাচন আয়োজনের কথা বললে বিএনপি হতাশা প্রকাশ করে এবং তা পেছানোর দাবি জানায়। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এই সময়সীমা ঘোষণার ফলে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটেই ইউনূস-তারেক বৈঠকটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।