স্টাফ রিপোর্টার ।।
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পর সরকার জারি করেছে কারফিউ। আজ বুধবার (১৬ জুলাই ২০২৫) রাত ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত এ কারফিউ বলবৎ থাকবে বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং নিশ্চিত করেছে।
দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার সহিংসতার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে দুপুর থেকে গোপালগঞ্জে উত্তেজনা চলছিল, যার সূত্রপাত এনসিপি’র ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচি ঘিরে সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ ধৈর্য সহকারে কাজ করছে এবং প্রাণঘাতী কোনো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা রিইনফোর্সড করছি, নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগছে। তবে লিথ্যাল কিছু ব্যবহার করছি না।”
এদিকে সহিংসতার ঘটনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, গোপালগঞ্জের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, “গণ-অভ্যুত্থান আন্দোলনের বর্ষপূর্তিতে তরুণদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে নিষ্ঠুর হামলা চালানো হয়েছে, যা মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন।”

গোপালগঞ্জের সমাবেশ মঞ্চে এনসিপির নেতারা
সরকারি বিবৃতিতে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ‘অ্যাকটিভিস্টদের’ দায়ী করা হয়েছে। বলা হয়েছে, পুলিশ, গণমাধ্যম এবং এনসিপির গাড়িতে হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ায় সেনা ও পুলিশ বাহিনীর প্রশংসাও করা হয়েছে।
এদিকে, সংঘর্ষের পর সেনা-পুলিশ পাহারায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমসহ শীর্ষ নেতারা গোপালগঞ্জ ছেড়ে যান।
সারজিস আলম পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, “খুনি হাসিনার দালালরা আমাদের আক্রমণ করছে, পুলিশ দাঁড়িয়ে নাটক দেখছে।”

পুলিশ কন্ট্রোলরুমে বসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সঙ্গে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও আইজিপি বাহারুল আলম
গোপালগঞ্জে চলমান অস্থির পরিস্থিতির প্রতিবাদে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।
জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, “১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”
সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। এই বর্বরতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।”
পরিস্থিতি এখন সেনা ও পুলিশের কঠোর নজরদারিতে। গোপালগঞ্জ শহরজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।