স্টাফ রিপোর্টার ।।
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জনমনে সৃষ্ট সংশয় ও সন্দেহ গণতন্ত্রে উত্তরণের পথকে সংকটপূর্ণ করে তুলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, শেষ পর্যন্ত কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি বা অপশক্তির কাছে বিনা শর্তে আত্মসমর্পণের পথেও হাঁটতে হতে পারে।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে এ মুহূর্তে মাঠে থাকা সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে এই সম্ভাব্য বিপদের কথা স্মরণ রাখতে হবে।
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে প্রবাসে বিএনপির সদস্যপদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচির অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন তিনি।
- জাতীয় নির্বাচন ঘিরে জনমনে সংশয় ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান
- বলেন, গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য রক্ষা করাই এখন প্রধান লক্ষ্য
- ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য ধরে রাখতে বিএনপি সর্বোচ্চ ছাড় দিচ্ছে
- ৩০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্তের পথে, কিছু আসনে জোটপ্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হবে
- নারীদের নিরাপত্তা প্রশ্নে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘পরাজিত পলাতক স্বৈরাচারের শাসনামলে জনগণের নির্বাচনের প্রতি কোনো আগ্রহ ছিল না। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জনমনে প্রশ্ন জাগছে— যথাসময়ে কি নির্বাচন হবে? এমন তো হবার কথা ছিল না।’
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির বিজয় ঠেকাতে ইতোমধ্যে সংঘবদ্ধ অপপ্রচার ও অপকৌশল শুরু হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশেও বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার দৃশ্যমান হচ্ছে, যা উদ্বেগের।’
তারেক রহমান বলেন, দেশে নিত্যনতুন শর্ত জুড়ে দিয়ে গণতন্ত্রের পথে বাধা তৈরি করা হচ্ছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাতীয়তাবাদী শক্তিতে বিশ্বাসী নাগরিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই বিএনপিকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।
বিগত ১৫ বছরে দেশে নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল বিএনপির বিজয় ঠেকাতে গিয়ে পতিত স্বৈরাচার দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল।
বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশি–বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার কারণেই বিএনপি প্রতিবার সংকট কাটিয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, ‘দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য বজায় রাখার স্বার্থে সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে গণতান্ত্রিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেও যতটা সম্ভব সহযোগিতা করছে।’
এ সময় তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য ৩০০ সংসদীয় আসনে দলীয় ও সমর্থিত প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘প্রতিটি আসনে একাধিক যোগ্য প্রার্থী আছেন, কিন্তু সবার মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব নয়। গণতন্ত্রের বৃহত্তর স্বার্থে দলীয় নেতাকর্মীদের এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে।’
নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে সামাজিক উদাসীনতার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপত্তাহীন সমাজ সভ্য হতে পারে না।’ তাই জাতীয়তাবাদী মহিলা দলসহ সচেতন নারী সমাজকে এ বিষয়ে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএনপির অনলাইন সদস্যপদ গ্রহণ ও ফি পরিশোধের প্রক্রিয়া নিয়ে একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এতে জানানো হয়, এখন থেকে বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকেই বিএনপির ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে সদস্যপদ গ্রহণ করা যাবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এ জেড এম জাহিদ হাসান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ আলমগীর হোসেন।