শুক্রবার, ডিসেম্বর ৫, ২০২৫

‘এই বৈষম্য—কীভাবে মেনে নেব?’

by ঢাকাবার্তা
আরশাদ মাহমুদ ও মাসুদ কামাল

‘অন্যমঞ্চ’ নামে জনপ্রিয় ইউটিউব শো-এর একটি পর্বে উপস্থাপক মাসুদ কামাল সিনিয়র সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদকে স্বাগত জানান। আলোচনায় গত আট মাসে বাংলাদেশে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন, সমাজের প্রত্যাশা এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়। নিচে পাঠকদের জন্য মাসুদ কামাল এবং আরশাদ মাহমুদের মধ্যকার সংলাপ প্রশ্নোত্তর আকারে উপস্থাপন করা হলো। 

মাসুদ কামাল: আমাদের দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় আট মাস পেরিয়ে গেছে। এই সময়ে অনেক কিছু ঘটেছে—কিছু ভালো, কিছু খারাপ। মানুষের প্রত্যাশা কোথাও পূরণ হয়েছে, কোথাও হয়নি। আমরা এক ধরনের পরিবর্তন দেখছি, তবে এটি ইতিবাচক না নেতিবাচক, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ও জনগণের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন কথা উঠেছে। সম্প্রতি দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এ বাংলাদেশ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে মৌলবাদী শক্তির উত্থানের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। আমরা সব মিলিয়ে কথা বলব।

প্রথমে জানতে চাই, আপনি কি নিউইয়র্ক টাইমস-এর সেই প্রতিবেদনটি দেখেছেন? যদি দেখে থাকেন, তাহলে এটি এবং সরকারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে সংক্ষেপে আপনার মতামত কী?

আরশাদ মাহমুদ: অবশ্যই। প্রথমে বলে নিই, আমি ১৮ বছর ধরে নিউইয়র্ক টাইমস-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ছিলাম—এক বা দুই দিন নয়। তাই তাদের কাজের ধরন, রিপোর্টিং প্রক্রিয়া এবং আমি নিজে কীভাবে রিপোর্ট করেছি, সবই আমার জানা। আপনার উল্লেখিত প্রতিবেদনটি তাদের দক্ষিণ এশিয়া ব্যুরো প্রধান মুজিব মাশাল এবং এখানকার একজন স্থানীয় সাংবাদিক যৌথভাবে লিখেছেন। সত্যি বলতে, এতে আমি কোনো অবাস্তব বা মিথ্যা কিছু দেখিনি। নিউইয়র্ক টাইমস এমন কিছু ছাপে না যা তারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে না। তারা যে র‌্যাডিকালিজমের উত্থানের কথা বলেছে, সেটা আমরা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছি।

স্বৈরাচারী হাসিনার পতনের পর একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এটা অস্বাভাবিক নয়। যারা দীর্ঘদিন নিপীড়িত, বঞ্চিত বা নিগৃহীত ছিল, তারা এখন নিজেদের জায়গা দখলের চেষ্টা করছে। জামায়াতে ইসলামী হোক বা অন্য ইসলামী দল, তাদের উপস্থিতি অস্বীকার করা যায় না। বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ—প্রায় ৯০ শতাংশ জনগণ—তাই ইসলাম নিয়ে কথা বলা বা এর নীতি অনুসরণ করা স্বাভাবিক। তবে পশ্চিমা বিশ্বের বড় উদ্বেগ, যা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে, তা হলো এটি তালেবানের মতো কিছুতে রূপ নেয় কি না। সরকারের প্রতিক্রিয়া অবাক করার মতো নয়। আমি যখন রিপোর্ট করতাম, তখনও আমার ওপর এমন চাপ আসতো—কেন এটা লিখলে? আমি বলতাম, নিউইয়র্ক টাইমস এমন একটি পত্রিকা, তারা সম্পূর্ণ তৃপ্ত না হলে কিছু ছাপে না। তারা আমাকে প্রতিটি বিষয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন করতো—এটা ঠিক কি না, কেন লিখলাম। এটি একটি বিশাল যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়, প্রথম আলো বা ডেইলি স্টার-এর মতো নয়। তবে রিপোর্টাররা যেটা করেনি, সেটা হলো ধর্মনিরপেক্ষ বুদ্ধিজীবীদের মতামত নিয়ে ভারসাম্য আনা। আমি নিয়মিত প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী’র সাক্ষাৎকার নিতাম। তিনি দারুণ দৃষ্টিভঙ্গি দিতেন, আমার সম্পাদকরা খুশি হতেন। তার মতো নিরপেক্ষ চিন্তাবিদ বা আবুল কাসেম ফজলুল হক বা বদরুদ্দীন উমরদের মতো নিরপেক্ষ বুদ্ধিজীবী যারা আছেন, যারা দেশ নিয়ে চিন্তা করেন, দেশের স্বার্থ নিয়ে ভাবে সবসময়, তাদের সঙ্গে কথা বলা উচিত ছিল। তবে জায়গার সীমাবদ্ধতা আছে। হয়তো তাদের ১৫০০ শব্দের মধ্যে লিখতে বলা হয়েছিল। মুদ্রিত সংবাদপত্রে সীমা থাকে, অনলাইনের মতো নয়। তারা চেষ্টা করেও সবকিছু সমন্বয় করতে পারেনি।

মাসুদ কামাল: সম্প্রতি আমরা সেনাবাহিনী ও জনগণকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা দেখেছি। সেনাপ্রধান এ নিয়ে কিছু বক্তব্য দিয়েছেন। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সেনাবাহিনীর ভূমিকাও দেখেছি। ঐতিহাসিকভাবে, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা শূন্যতার সময় সেনাবাহিনী বিভিন্নভাবে হস্তক্ষেপ করেছে। কেউ কেউ বলেন, এখন তারা কেন ভূমিকা নিচ্ছে না। এই সামগ্রিক পরিস্থিতি আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

আরশাদ মাহমুদ: ১৯৭৫ সালের পর থেকে, যখনই দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা অনিশ্চয়তা দেখা দেয়, সেনাবাহিনী নিয়ে আলোচনা শুরু হয়—তারা আসবে কি না, কোন পক্ষে যাবে। এটি একটি বড় বিষয়। আমার মনে কয়েকটি প্রশ্ন জাগে। সেনাবাহিনীকে প্রায়ই দেশপ্রেমিক, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বলা হয়, যাদের আমাদের দেখাশোনা করতে হবে। কিন্তু একটা কথা পরিষ্কার করি। বাংলাদেশে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী আছে। তবু আমরা শুধু সেনাবাহিনীর কথাই বলি। কেন? নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রায় অগ্রাহ্য হয়ে গেছে। তাদের প্রধান কে, আমি জানি না—সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা। কিন্তু সেনাপ্রধান সবসময় আলোচনায়। কারণ তারা একটি বিশাল শক্তি, সারা দেশে তাদের উপস্থিতি আছে। এখন নিরপেক্ষভাবে ভাবলে, আমরা কেন সেনাবাহিনী নিয়ে এত আলোচনা করব? তাদের কেন বারবার আলোচনায় আসতে হবে? তারা কি রাষ্ট্রের একটি অংশ নয়, বারবার সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কেন হবে? এর জন্য আমাদের রাজনীতি দায়ী, তবে আমি সেখানে যাব না। আমি শুধু সেনাবাহিনী নিয়ে বলব। তাদের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার। বাস্তবে তাদের কাজ কী? সামরিক বাহিনীর মূল কাজ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা—বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে বাঁচানো। স্বাধীনতার পর আমরা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি—এটাই বাস্তবতা।

আমাদের দুটি প্রতিবেশী: তিনদিকে ভারত, একদিকে মিয়ানমার। যখনই ভারতবিদ্বেষ বা মিয়ানমারবিদ্বেষ বাড়ে, সেনাবাহিনীর নাম বারবার উঠে আসে। কিন্তু তারা দেশপ্রেমের কী দেখিয়েছে, আমি আজ পর্যন্ত বুঝতে পারিনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান প্রশংসনীয়—তারা যুদ্ধ করেছে, মারা গেছে, আহত হয়েছে। কিন্তু ১৯৭৫-এর পর, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত শেখ মুজিবের শাসনে তাদের কথা খুব একটা শোনা যায়নি। তখন রক্ষী বাহিনীর কথা শুনেছি। সেনাবাহিনীর মধ্যে ক্ষোভ ছিল যে তাদের গুরুত্ব কমানো হচ্ছে, রক্ষী বাহিনী বাড়ছে। এর পরিণতি সবাই জানে—আমি সেটা নিয়ে কথা বলতে চাই না।

আমার কথা হলো, দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী বলে ডাকি, কিন্তু তারা কোথায়, কীভাবে এটি প্রমাণ করেছে? বহিঃশত্রুর হুমকি আমরা দেখিনি। তবু তাদের বাজেট বাড়ছে। গত বছর, ২০২৪-২৫ সালে, এটি ছিল ৪৩ হাজার কোটি টাকা। তুলনা করলে, পদ্মা সেতুর খরচ ২৮ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা। সেতুর একটা ব্যবহার আছে—মানুষ চলাচল করে। আমি খুলনার মানুষ, চার ঘণ্টায় পৌঁছে যেতে পেরে খুশি। কিন্তু সেনাবাহিনীর বাজেট বছরে আরও ২৩০ কোটি টাকা বাড়ছে। এটি কখনো কমে না। আপাতদৃষ্টিতে তাদের কোনো কাজ নেই। প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাদের দেখি—বিমানবাহিনী ত্রাণ নিয়ে যায়, সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করে, যেমন সাম্প্রতিক বন্যায়। কিন্তু এর জন্য কি ২ লাখ ৩০ হাজার লোকের বাহিনী দরকার? প্রস্তুতির কথা বললে, ঠিক আছে—কিন্তু দেশকে দুর্বল করব কেন? তাদের সুবিধা বাড়ছে: সারা দেশে ক্যান্টনমেন্ট—হাসিনা ক্যান্টনমেন্ট, কামাল ক্যান্টনমেন্ট—স্কুল, কলেজ, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট যেমন এমআইএসটি, শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা। মানুষ ভাবে, তারা কি আলাদা দ্বীপে বাস করে? কেন এত সুবিধা?

কর্নেল থেকে মেজর জেনারেল, লেফটেন্যান্ট জেনারেল—প্রত্যেকে দুটি করে বিনামূল্যে সরকারি গাড়ি পায়। ঢাকার বাইরে পোস্টিং হলে তারা বলে, ছেলেমেয়ের পড়াশোনা ও চিকিৎসার জন্য ঢাকায় বাড়ি ও গাড়ি দিতে হবে। আমি জানি—আত্মীয় ও বন্ধুদের কাছ থেকে শুনেছি। কেউ চাকরিতে, কেউ অবসরে। আমি তাদের বলি, “তোমরা তো বিলাসে আছ, কোটিপতি হয়ে গেছো।” চাকরিতে নানা সুবিধা, অবসরে ডিওএইচএস-এ জমি—সব ঢাকায়, যশোর, রংপুর বা বগুড়ায় নয়। ডিওএইচএস-এ জায়গা না থাকলে জলসিড়ি প্রকল্পে ব্যক্তিগত জমি দখল করে তাদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়। এই বৈষম্য—কীভাবে মেনে নেব?

আমি সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীকে বলি, চিন্তা করুন। জনগণের মধ্যে ক্ষোভ কেন জমতে দেবেন। এই সুবিধা কমিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য বণ্টন করুন, সমাজের বৈষম্য কমান। স্বাধীনতার পর থেকে তাদের (সেনাবাহিনী) সরাসরি দেশ রক্ষার ভূমিকা দেখেছি? বহিঃশত্রুর আক্রমণ না হলে দেখার সুযোগও নেই। তবু প্রস্তুত থাকতে হবে? ঠিক আছে, কিন্তু ৫৩ বছরে আমরা এমন আক্রমণের মুখোমুখি হইনি। আমার মনে হয়, এর সম্ভাবনা কম। ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করব? তারা দখল করতে আসবে না—বাংলাদেশ কাশ্মীর নয়, যেখানে ১০ লাখ সেনা আছে। আমরা ১৮ কোটি মুসলমান। তারা বরং অনুগত সরকার চায়, যেমন শেখ হাসিনার মাধ্যমে করেছে। তার পতন তাদের মাথা খারাপ করে দিয়েছে, কিন্তু সেটা তাদের ব্যাপার। আমি বলছি, প্রস্তুত থাকব, কিন্তু প্রস্তুতির নামে বাজেট বাড়ানো?

১৯৭৫-এ খন্দকার মোশতাক ক্ষমতায় আসার পর সেনাপ্রধানকে ডেকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “ভারত আক্রমণ করলে কতক্ষণ ঠেকাতে পারব?” তারা বলেছিল, “১২ ঘণ্টা—ঢাকায় পৌঁছতে ততক্ষণ লাগবে।” ১৯৯১-এ রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে এলে—আমি কাভার করেছিলাম—পররাষ্ট্রমন্ত্রী কর্নেল মুস্তাফিজুর রহমান জরুরি বৈঠক ডাকেন। সেনাপ্রধান জেনারেল নুরুদ্দিন ছিলেন। তারা বলল, মিয়ানমারের সঙ্গে লড়তে পারব না—কক্সবাজার বিমানবন্দর সামরিক উড়োজাহাজের জন্য উপযোগী নয়, আর মিয়ানমারের সেনা যুদ্ধে পোক্ত। আমার পরামর্শ? আমরা বিশ্বশক্তি নই। আমাদের নীতি সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়। কেউ হুমকি দিলে জনগণের শক্তি গুরুত্বপূর্ণ। সরকারগুলো স্বৈরাচারী হয়ে সিকিউরিটি ফোর্সের ওপর নির্ভর করে, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়। হাসিনার পতন প্রমাণ করে, সিকিউরিটি ফোর্সের শক্তি বাড়ানো সমাধান নয়—জনগণই আসল শক্তি।

মাসুদ কামাল: শেষ প্রসঙ্গ: জুলাই-আগস্ট আন্দোলন। এটি জনগণের স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন ছিল। কিন্তু সেনাবাহিনীর সমর্থন না পেলে কি এটি সফল হতো? তারা কি জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়ে দেশপ্রেমিকের ভূমিকা পালন করেনি?

আরশাদ মাহমুদ: ১৯৭৫-এর পর থেকে যতবার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা পরিবর্তন হয়েছে, প্রতিবারই সেনাবাহিনী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়েছে। এবার তারা সরাসরি ক্ষমতা নেয়নি, কিন্তু সহায়তা করেছে। তারা বুঝেছিল, জনগণের বিপক্ষে দাঁড়ালে ঝুঁকি বেশি—গৃহযুদ্ধ হতে পারত, যা তারা চায়নি। আমার সেনাবাহিনীর বন্ধুরা এটা শুনলে বিরক্ত হবে—তারা চায় তাদের সুবিধা অটুট থাকুক: দুটো গাড়ি, ডিওএইচএস-এ বাড়ি, ছেলেমেয়ে বিদেশে পড়ুক। কিন্তু এই অভ্যুত্থানে তাদের আর কী বিকল্প ছিল? জেনারেল ওয়াকার ও সেনাবাহিনী জনগণের বিরুদ্ধে বন্দুক তাক করলে কী হতো, কল্পনা করতে পারি না। বিবেক কাজ করেছে। তবু মানুষ হতাশ—তারা যে পরিবর্তন চেয়েছিল, তা এখনো হয়নি। এখনো আমলা ও সেনানির্ভর ব্যবস্থা। আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পুনর্বাসন হয়নি, অথচ আমলারা পদোন্নতি, বোনাস, গাড়ি, বিদেশে পোস্টিং পাচ্ছে। মানুষ এটা চায় না। সরকারি কর্মচারীরা বঞ্চিত ছিল না—তাদের বেতন দ্বিগুণ, গাড়ির ঋণ, মাসে ৫০ হাজার টাকা রক্ষণাবেক্ষণ। কে না খেয়ে মরছে? কেউ বিক্ষোভ করছে না যে খেতে পারছে না। তবু সরকার তাদের সমর্থন পেতে সুবিধা বাড়াচ্ছে, সম্পদের হিসাব চায়নি—যা প্রতিশ্রুতি ছিল। ড. ইউনুসও দেননি। এটা প্রশ্ন তুলছে।

আরেকটি কথা— সেনাবাহিনী এখন সরাসরি ক্ষমতা নেয় না, কারণ ক্ষমতা নেওয়া সহজ, ছাড়া কঠিন। জিয়াউর রহমান জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন, এরশাদ ছয় বছর নির্জন কারাগারে কাটিয়েছেন। তারা বুঝেছে, পর্দার আড়াল থেকে নিয়ন্ত্রণ নিরাপদ। আমি সশস্ত্র বাহিনীকে বিনীতভাবে বলি: এই বৈষম্য নিয়ে ভাবুন—৪৩ হাজার কোটি বাজেট, অগণিত সুবিধা, ঢাকায় বিশাল ক্যান্টনমেন্ট। সত্যিকার দেশপ্রেমিক হলে স্বার্থের বাইরে প্রমাণ করুন। বহিঃশত্রুর আক্রমণ দূরের সম্ভাবনা। সরকার ও বাহিনীতে যারা আছেন, গুরুত্ব সহকারে ভাবুন—বৈষম্যের কারণ হবেন না।

মাসুদ কামাল: অনেক ধন্যবাদ, জনাব আরশাদ মাহমুদ। প্রিয় দর্শক, আপনারা একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিকের কথা শুনলেন, যিনি বছরের পর বছর এসব বিষয় অনুসরণ করেছেন। যেসব বিষয় নিয়ে কেউ কথা বলতে চায় না বা এড়িয়ে যায়, তিনি সেগুলো খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছেন। তার কথা অনেকের কাছে নতুন ঠেকবে, চিন্তার জন্ম দেবে। তিনি সেটাই চেয়েছেন। সেনাবাহিনীর কাছেও আমাদের অনুরোধ, আপনারা এদেশের জনগণের অংশ—আপনাদের পরিবারও সাধারণ মানুষ। তারা কী ভাবছে, তা আপনাদের ভাবনায় থাকা উচিত। এখন এ পর্যন্তই। আল্লাহ হাফেজ।

অনুলিখন: অলিউল ইসলাম, সাংবাদিক ও কলামিস্ট

You may also like

প্রকাশক : মানজুর এলাহী

সম্পাদক : হামীম কেফায়েত

ব‌ইচিত্র পাবলিশার্স
প্যারিদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা ১১০০
যোগাযোগ : +8801712813999
ইমেইল : news@dhakabarta.net