শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে ভারত-পাকিস্তান

এই পর্ষদে স্থায়ী সদস্য হতে চাইলে ১০০ কোটি ডলার অনুদান দিতে হবে।

by ঢাকাবার্তা
ডোনাল্ড ট্রাম্প

ডেস্ক রিপোর্ট ।।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারি সূত্র, যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

সম্প্রতি গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কার্যক্রম তদারক এবং যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ পরিচালনার লক্ষ্যে বিশ্বনেতাদের নিয়ে একটি ‘শান্তি পর্ষদ’ গঠনের ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পর্ষদে যোগ দিতে ইতিমধ্যে কমপক্ষে আরও আটটি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

  • ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে ভারত ও পাকিস্তান
  • গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন ও যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ তদারকই পর্ষদের মূল লক্ষ্য
  • স্থায়ী সদস্য হতে ১০০ কোটি ডলার অনুদানের কথা বলা হলেও মেয়াদি সদস্যদের জন্য তা বাধ্যতামূলক নয়
  • হাঙ্গেরি ও ভিয়েতনাম আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছে; অস্ট্রেলিয়া বিষয়টি পর্যালোচনা করছে
  • কানাডা, তুরস্ক, মিসরসহ একাধিক দেশ আমন্ত্রণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে
  • দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সময় সদস্যদের তালিকা ঘোষণার সম্ভাবনা
  • শান্তি পর্ষদ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে
  • নির্বাহী কমিটি গঠন নিয়ে ইসরায়েলের আপত্তি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরল টানাপোড়েন

শান্তি পর্ষদের সনদ সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন এই পর্ষদে স্থায়ী সদস্য হতে চাইলে ১০০ কোটি ডলার অনুদান দিতে হবে। তবে তিন বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্যদের ক্ষেত্রে কোনো আর্থিক অনুদান বাধ্যতামূলক নয়। এখনো সনদটি প্রকাশ করা হয়নি। সংগৃহীত অর্থ গাজা পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। গতকাল রোববার রাষ্ট্রীয় বেতারে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিজার্তো বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে অরবান ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থকদের একজন হিসেবে পরিচিত।

ভিয়েতনামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান তো লামও শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন।

ভারতও এই পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে বলে দেশটির এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তথ্যটি এখনো প্রকাশ না হওয়ায় তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন।

অস্ট্রেলিয়াকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আজ সোমবার দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে বিস্তারিত বোঝার চেষ্টা করা হবে।

গতকাল রোববার জর্ডান, গ্রিস, সাইপ্রাস ও পাকিস্তানও শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে। এর আগে কানাডা, তুরস্ক, মিসর, প্যারাগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও আলবেনিয়াও আমন্ত্রণ পাওয়ার দাবি করে। তবে মোট কতটি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য নেই।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শান্তি পর্ষদের সদস্যদের আনুষ্ঠানিক তালিকা ঘোষণা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ধারণা করা হচ্ছে, সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকের সময় এ ঘোষণা আসতে পারে।

গত ১০ অক্টোবর গাজায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ইতিমধ্যে দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করেছে। শান্তি পর্ষদের সদস্যরা গাজায় পরবর্তী পদক্ষেপ তদারক করবেন। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে একটি নতুন ফিলিস্তিনি কমিটি গঠন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠন।

গত শুক্রবার বিশ্বনেতাদের কাছে পাঠানো আমন্ত্রণপত্রে ‘প্রতিষ্ঠাতা সদস্য’ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, শান্তি পর্ষদ বিশ্বব্যাপী সংঘাত নিরসনে একটি সাহসী নতুন পথচলা শুরু করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পর্ষদ জাতিসংঘের ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদের সম্ভাব্য বিকল্প বা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। গাজা যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর কারণে সেখানে একাধিক প্রস্তাব আটকে গেছে। একই সঙ্গে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় জাতিসংঘের প্রভাবও হ্রাস পেয়েছে।

আমন্ত্রণপত্রে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, নিরাপত্তা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত ২০ দফার গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনাকে অনুমোদন দিয়েছে, যার মধ্যেই শান্তি পর্ষদ গঠনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। আমন্ত্রিত কয়েকজন নেতা সেই চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশও করেছেন।

এদিকে হোয়াইট হাউস গত সপ্তাহে শান্তি পর্ষদের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের নিয়ে একটি নির্বাহী কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়। তবে গত শনিবার ইসরায়েল আপত্তি জানিয়ে বলে, তাদের সঙ্গে কোনো সমন্বয় ছাড়াই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা দেশটির নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তরের এই বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের বিরল সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা ও ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল। এ ছাড়া ইসরায়েলি ধনকুবের ইয়াকির গ্যাবেও কমিটিতে রয়েছেন।

কমিটিতে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষক দেশ কাতার, মিসর ও তুরস্কের প্রতিনিধিরাও আছেন। ইসরায়েলের সঙ্গে টানাপোড়েন থাকলেও হামাসের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে ভালো। সে কারণে হামাসকে ক্ষমতা ছাড়তে ও নিরস্ত্রীকরণে রাজি করাতে তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

You may also like

Publisher : Khaled Saifullah Jewel
Editor : Hamim Kefayat
15/1, Paridas Road, Banglabazar, Dhaka 1100, Bangladesh
Contact : +8801712813999,
Mail : news@dhakabarta.net