শুক্রবার, ডিসেম্বর ১২, ২০২৫

এমআইএসটি-তে ভারতীয় প্রশিক্ষকেরা: জাতীয় নিরাপত্তা প্রশ্নে বিশ্লেষকদের উদ্বেগ

by ঢাকাবার্তা
এমআইএসটির ওয়েবসাইটে ভারতীয় শিক্ষকদের প্রোফাইল রয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার ।।

ঢাকার মিরপুর সেনানিবাসে অবস্থিত মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-তে ভারতীয় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর চার কর্মকর্তা শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। খবর আমার দেশ-এর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে সিনিয়র ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে আছেন ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা কর্নেল অরিন্দম চ্যাটার্জি এবং ইন্সট্রাক্টর ক্লাস-বি হিসেবে আছেন ভারতীয় নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার টি গোপি কৃষ্ণ। এছাড়া অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে কর্মরত রয়েছেন ভারতীয় বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন সিদ্ধার্থ শঙ্কর পাটনায়েক এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এন সোমান্না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সেনানিবাসের অভ্যন্তরে একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদেশি সামরিক কর্মকর্তাদের এমন নিয়োগের ফলে দেশের সামরিক তথ্য পাচারের সম্ভাবনা বাড়ে। লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার ‘র’-এর সদস্যদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার এই বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।

এমআইএসটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর সাথে একাডেমিকভাবে সংযুক্ত। তবে বিইউপি জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির শুধু শিক্ষাগত দিকটাই তারা তত্ত্বাবধান করে, প্রশাসনিক বা শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এমআইএসটির বর্তমান কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল মোহাম্মদ নাসিম পারভেজ। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে এমআইএসটি কাউন্সিল ও পরিচালনা পর্ষদ, যেখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও তিন বাহিনীর প্রতিনিধি রয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর পরিচালক লে. কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভারতীয় বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এল গোলানী ও গ্রুপ ক্যাপ্টেন কার্তিকিয়ানও শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা যায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কেবল উচ্চশিক্ষার বিষয় নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক গোপনীয়তার প্রশ্ন। এমআইএসটি যেন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে কেবল দেশের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে—সেই দাবি জোরালো হচ্ছে।

You may also like

প্রকাশক : মানজুর এলাহী

সম্পাদক : হামীম কেফায়েত

ব‌ইচিত্র পাবলিশার্স
প্যারিদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা ১১০০
যোগাযোগ : +8801712813999
ইমেইল : news@dhakabarta.net