স্টাফ রিপোর্টার ।।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত এক হত্যাচেষ্টা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১১৫ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার অভিযোগে উল্লিখিত আহত ব্যক্তিদের অস্তিত্ব ও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা না যাওয়ায় তদন্তে ‘তথ্যগত ভুল’ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক মো. শাহজাহান ভূঁইয়া গত বছরের ৫ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে বলা হয়, আহত হিসেবে যাঁদের নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদের কাউকেই ঘটনাস্থল, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা আশপাশের কোনো হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। ২২ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের বিষয়ে শুনানির জন্য বাদীকে নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি। তবে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে আজ সোমবার।
- জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাচেষ্টা অভিযোগের মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল
- শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নাম থাকলেও প্রমাণ মেলেনি বলে দাবি পিবিআইয়ের
- এজাহারে উল্লেখিত আহত সাহেদ আলী ও ৯ শিক্ষার্থীর কাউকে খুঁজে পায়নি তদন্ত সংস্থা
- ঘটনাস্থলসংলগ্ন কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি
- বাদীকে বারবার নোটিশ দিয়েও ভুক্তভোগী হাজির বা চিকিৎসা নথি সরবরাহ করা হয়নি
- আদালতে মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত ৩ ফেব্রুয়ারি
২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর শরিফ নামের এক ব্যক্তি ধানমন্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তিনি সাহেদ আলীকে তাঁর ছোট ভাই দাবি করে শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনেন। অভিযোগে বলা হয়, ৪ আগস্ট জিগাতলার সীমান্ত স্কয়ার এলাকা থেকে বাসায় ফেরার পথে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কের মীনা বাজারের সামনে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে, যাতে সাহেদ আলীসহ ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের নয় শিক্ষার্থী আহত হন।
তদন্তে সাহেদ আলীর অস্তিত্ব যাচাই করতে সীমান্ত স্কয়ার মার্কেট, ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজে সরেজমিনে অনুসন্ধান চালায় পিবিআই। সীমান্ত স্কয়ার দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘মো. সাহেদ আলী’ নামে সেখানে কোনো দোকানমালিক বা কর্মচারীর অস্তিত্ব নেই এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত এমন কোনো ব্যক্তির খবরও তাঁদের জানা নেই।
এজাহারে আহত হিসেবে উল্লেখ করা শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয়, রোল নম্বর বা বিভাগসংক্রান্ত তথ্য না থাকায় ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজ কর্তৃপক্ষও কোনো তথ্য দিতে পারেনি। তদন্তে ঘটনাস্থলের আশপাশের কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
পিবিআই জানায়, বাদী শরিফকে একাধিকবার নোটিশ দিয়ে ভুক্তভোগী হাজির ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র দিতে বলা হলেও তিনি তা সরবরাহ করেননি। পরে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে জানা যায়, তাঁর নাম শরিফুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর সদরের মান্দারী এলাকার বাসিন্দা। তবে সেখানেও তাঁর বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকলেও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের পর একবার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। সেখানেও প্রয়োজনীয় প্রমাণ তিনি দেননি।
আদালত সূত্র জানায়, এজাহারনামীয় ১১৩ জনের পাশাপাশি সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া আরও দুজনসহ মোট ১১৫ জনের সবাইকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
পিবিআই কর্মকর্তা মো. শাহজাহান ভূঁইয়া বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে বিস্তৃত অনুসন্ধান করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্যই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে। পৃথক এক মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। তবে এই মামলায় অব্যাহতির সুপারিশ পাওয়া জুনাইদ আহ্মেদ পলক অন্য একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন।
