স্টাফ রিপোর্টার ।।
জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়কে রাজধানীর লালমাটিয়ায় নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) শাখা। বুধবার দিবাগত রাতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমতিয়াজ মাহবুব। তিনি জানান, মানিকগঞ্জ সদর ও দৌলতপুর উপজেলায় দুর্জয়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
এর ঠিক একদিন আগেই, মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি), দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে দুর্জয় ও তাঁর স্ত্রী ফারহানা রহমানের নামে থাকা ঢাকার একটি অভিজাত ফ্ল্যাট, তিনটি গাড়ি ও একটি প্লট ক্রোকের নির্দেশ দেয় আদালত। একইসঙ্গে তাঁদের নামে থাকা ১০টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশও জারি করা হয়। এর আগে ৩ অক্টোবর, তাঁদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালত। ওই সময় দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্জয়ের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়োগ–বাণিজ্য, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

শেখ হাসিনা ও নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে নাঈমুর রহমান দুর্জয়। ফাইল ফটো
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের এক মাসের মাথায় দুর্জয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে দুদক। এরপরই তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন বিসিবির পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং রাজনীতির পাশাপাশি খেলাধুলার প্রশাসনিক পরিসরেও সক্রিয় ছিলেন।
ক্রিকেট জীবনে দুর্জয়ের পরিচিতি আসে ১৯৯৭ সালে, বাংলাদেশ যখন আইসিসি ট্রফি জিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়। পরবর্তী সময়ে, ২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে দেশের অভিষেক টেস্ট ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেন তিনি। সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দিয়ে তিনি নেন ৬ উইকেট, যার মধ্যে ছিলেন শচীন টেন্ডুলকার ও সৌরভ গাঙ্গুলীর মতো কিংবদন্তিরা। তবে খুব দ্রুতই ছন্দ হারিয়ে ফেলেন, এবং ২০০২ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন।
অবসরের পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন দুর্জয়। আওয়ামী লীগের হয়ে মানিকগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বেশ কয়েকবার দলীয় মনোনয়নও পান। তবে ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা থেকে তাঁকে বাদ দেয় আওয়ামী লীগ। এরপর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। সরকার পতনের পর দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরুর মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যত আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
জনপ্রিয় ক্রিকেটার থেকে সংসদ সদস্য হয়ে উঠেছিলেন যিনি, এখন তিনি বিচারের মুখোমুখি। দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগে তাঁর গ্রেপ্তার বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।