রবিবার, এপ্রিল ৫, ২০২৬

পাক আকাশে নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানিতেই ভারতীয় বিমানের গচ্চা ২৩ মিলিয়ন ডলার

by ঢাকাবার্তা
ভারতীয় এক বিমানবন্দরে ভারতীয় বিমানের সারি

ডেস্ক রিপোর্ট ।। 

পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ১৮ দিনে ২৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়েছে ভারতের বিমান সংস্থাগুলো। গত ২৪ এপ্রিল থেকে ১১ মে পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা ভারতীয় বেসামরিক বিমানের জন্য বন্ধ করে দিলে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকাগামী ভারতীয় ফ্লাইটগুলোকে ঘুরপথে যেতে হয়। এর ফলে ফ্লাইট সময় বেড়ে যায়, এবং বাড়তি জ্বালানি খরচে এয়ার ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন সংস্থার ওপর পড়ে বড় ধাক্কা।

বিশেষজ্ঞদের হিসেবে, প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০টি ভারতীয় ফ্লাইট পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করত। বিকল্প রুটে প্রতিটি ফ্লাইটে গড়ে ৪,৫০০ থেকে ৬,০০০ ডলার পর্যন্ত বাড়তি খরচ হয়েছে, যার ফলে ১৮ দিনে মোট জ্বালানি খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩ মিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭২ কোটি টাকা।

এই সময়ের মধ্যে শুধু এয়ার ইন্ডিয়ার অতিরিক্ত খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০৬ কোটি টাকা। দীর্ঘ রুটের কারণে ফ্লাইটের সময়সূচি, ক্রু পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, এমনকি যাত্রী সেবাতেও এসেছে ব্যয় বৃদ্ধি। যাত্রী অসন্তোষ এবং সম্ভাব্য ভাড়া বৃদ্ধির শঙ্কা নিয়েও দুশ্চিন্তায় সংস্থাগুলো।

এ পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে পাক-ভারত রাজনৈতিক উত্তেজনা। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ১১ মে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে পাকিস্তান আবারও তাদের আকাশসীমা সকল ধরনের বেসামরিক উড়োজাহাজের জন্য খুলে দেয়।

পাকিস্তান এয়ারপোর্ট অথরিটি (পিএএ) জানিয়েছে, সব বিমানবন্দর এবং আকাশপথে এখন উড়োজাহাজ চলাচল স্বাভাবিক। তবে দেশটির দৈনিক ‘ডন’ জানিয়েছে, পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে। অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির পর ভারতে-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের শ্রীনগরে দোকানপাট খুলেছে, মানুষ ফিরছে স্বাভাবিক জীবনে। যদিও বিস্ফোরণের খবর এবং অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই রয়েছেন উদ্বেগে।

শ্রীনগরের বাসিন্দা শাকিলা জান বলেন, “যুদ্ধবিরতির খবরে আমি খুশি, কিন্তু গত রাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এটা আবার চিন্তায় ফেলেছে। আমরা আর কোনো দেশকেই বিশ্বাস করি না।”

যদিও যুদ্ধবিরতির খবরে সীমান্ত এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে, পাকিস্তান-ভারত সম্পর্কের অস্থিরতা এখনও সম্পূর্ণ কাটেনি। বিমান খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি রাজনৈতিক সমাধান না আসে, তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আবারও আরোপ হতে পারে, যা আকাশপথে যাত্রী চলাচলের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।

বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ক্ষতির বোঝা সামাল দিতে তারা জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ও বিকল্প রুটের অপ্টিমাইজেশন নিয়ে ভাবছে। তবে যাত্রীদের জন্য এই মুহূর্তে স্বস্তির খবর হলো—আপাতত পাকিস্তানের আকাশপথ আবারও খোলা। তবে অতীতের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সময় লাগবে, আর শান্তি বজায় না থাকলে ভবিষ্যতেও অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে।

You may also like

Publisher : Khaled Saifullah Jewel
Editor : Hamim Kefayat
15/1, Paridas Road, Banglabazar, Dhaka 1100, Bangladesh
Contact : +8801712813999,
Mail : news@dhakabarta.net