সোমবার, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬

‘রাজনীতি-সচেতনতা আর রাজনৈতিক দলের দালালি এক জিনিস নয়’

তথ্যপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সংগঠিত হামলার প্রতিবাদ এবং স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানাতে আয়োজিত 'গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬'-এ স্বাগত ও সমাপনী বক্তব্য দেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর। শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের (কেআইবি) মিলনায়তনে যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ। নিচে নূরুল কবীরের বক্তব্য তুলে ধরা হলো। ভিডিও থেকে ট্রান্সক্রিপ্ট করেছেন অলি আমিন।

by ঢাকাবার্তা
নূরুল কবীর

স্বাগত বক্তব্যে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন—

সামনে উপস্থিত সম্মানিত সম্পাদকবৃন্দ, নোয়াবের সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, রেডিও ও টেলিভিশনে কর্মরত আমার সহকর্মীবৃন্দ।

ইতিমধ্যেই আপনারা লক্ষ্য করেছেন, আমরা পরিপ্রেক্ষিতটা বর্ণনা করার চেষ্টা করেছি কেন এই সময়ে আমরা এই সম্মেলনের আয়োজন করেছি। আমি বিশ্বাস করি, এখানে যারা উপস্থিত আছেন এবং যারা কোনো কারণে উপস্থিত থাকতে পারেননি, সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে অন্য দশটা পেশা বাদ দিয়ে এটাকেই যারা বাই চয়েস গ্রহণ করেছেন, তাদের জীবনযাপন থেকে শুরু করে চিন্তা-ভাবনার পদ্ধতির মধ্যেও বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বিকাশ, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গঠন এবং একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠার যে সামষ্টিক প্রয়াস থাকে, সেই প্রয়াসের মধ্যেই নিজেদের লেখা, কথা বলা ইত্যাদির মাধ্যমে কোনো না কোনোভাবে অবদান রাখার চিন্তা থেকেই আমরা প্রত্যেকে এই পেশায় এসেছি।

এই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা, সর্বব্যাপী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা কোনো অপরাধের আকাঙ্ক্ষা হতে পারে না। তবে এই কথাগুলো নতুন করে এখানে উপস্থিত আপনাদের বলার কিছু নেই। তারপরও এই গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের মাধ্যম হিসেবে যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান কাজ করে, সেগুলোকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য যারা নানাভাবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে, সরকারের পক্ষ থেকে, আইনগতভাবে কিংবা আইনের বাইরে মাসলের মাধ্যমে স্তব্ধ করতে চায়, তাদের উদ্দেশ্যেই আমি বলছি।

আমাদের নিজেদের মধ্যে একদিকে যেমন এই সংহবদ্ধতার প্রয়োজন, সমস্ত প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রয়াস গ্রহণ করার প্রয়োজন, তেমনি গোটা সমাজের মধ্যেও আমাদের এই চিন্তার সঞ্চার করতে হবে। এ কাজে সবাইকে সম্মিলিতভাবে সহযোগিতা করতে হবে যে, সংবাদপত্র ও অন্যান্য গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান কেবলমাত্র দুশো-পাঁচশো বা পাঁচ-দশ হাজার সাংবাদিকের ব্যক্তিগত গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের হাতিয়ার নয়। এগুলো যদি সচল না থাকে, সক্রিয় না থাকে, এগুলো যদি উচ্চকণ্ঠ না হতে পারে, তবে গোটা সমাজের মধ্যেই নানা ধরনের অধিকার ব্যাহত হতে বাধ্য। ফলে যেকোনো দেশে গণমাধ্যমের বিকাশ এবং সেই সমাজের সার্বিক গণতান্ত্রিক বিকাশ একে অন্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে, ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

আমরা লক্ষ্য করি এবং পৃথিবীর যেকোনো জায়গায়ই এই ঘটনাটা সত্য—সবচেয়ে বড় বৈপ্লবিক পরিস্থিতির মধ্যেও মানুষের কণ্ঠস্বর বন্ধ করে দেওয়ার একটি প্রবণতা দেখা যায়। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর দিকেই যদি আমরা তাকাই, যেখান থেকে আমাদের এই আন্দোলনের, এক ধরনের আন্দোলনই আমি একে বলবো, এই প্রতিবাদের সূত্রপাত হলো। দুটি পত্রিকা অফিসের মধ্যে একটিতে ভাঙচুর চালানো হলো, আরেকটিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হলো।

কিন্তু লক্ষ্য করুন, কিসের নামে আগুন লাগানো হলো। আমরা এক বছর আগে, দেড় বছর আগে যে একটি অসম্ভব রকমের ম্যাসিভ গণতন্ত্রপরায়ণ গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে এত বড় আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থা থেকে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে উত্তরণের যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি—একটি ট্রানজিশনের মধ্য দিয়ে—যখন এমনকি মিডিয়ার গণতান্ত্রিক সংস্কার, রাজনীতির গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং রাষ্ট্রের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য লড়াই চলছে, ঠিক তখনই এই প্রতিষ্ঠানগুলো আক্রান্ত হচ্ছে গণতন্ত্রেরই নামে।

আর যে অদ্ভুত স্লোগানগুলো তারা উত্থাপন করছে, যেটাকে আমরা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময়কার কর্মীদের নামে ব্যবহার হতে দেখছি। কেন কর্মীদেরই নামে, জুলাই যুদ্ধের নাম নিয়ে তারা জুলাই যুদ্ধের স্পিরিটকে অপমান করছে? এর সমস্ত প্রমাণ আমাদের হাতের কাছেই আছে। উদাহরণ হিসেবে ধরুন, ডেইলি স্টারের পুরো বিল্ডিংয়ের ভেতরে জুলাইয়ের অনেক স্লোগান ছিল। যেগুলো যেকোনো দর্শক, যেকোনো ভিজিটর, এমনকি সেখানে কর্মরত প্রতিটি মানুষ প্রতিদিন মনে রাখার মতো। কী হয়েছিল, কীভাবে গণতান্ত্রিক চেতনা কাজ করেছিল, কী ধরনের আকাঙ্ক্ষা সেদিন স্লোগান ও পোস্টারের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছিল সবই সেখানে দৃশ্যমান ছিল। তো যারা জুলাই যুদ্ধের নামে একটি পত্রিকা অফিসে আগুন লাগিয়ে দিয়ে সেগুলো মুছে দেয়, ছিঁড়ে ফেলে, তার অর্থ কী?

আমরা পরিষ্কারভাবে জানি, এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তারা জুলাইয়ের মৌল চেতনা, জুলাইয়ের গণতান্ত্রিক চেতনাকে ব্যবহার করে সেই চেতনাকেই ধ্বংস করার চেষ্টায় লিপ্ত। ফলে এমন একটি সময়ে আমাদের প্রত্যেকের সংহবদ্ধতা দরকার, প্রত্যেকের সচেতন সংগ্রামে শামিল হওয়া দরকার। সেই উপলব্ধি থেকেই আজ আপনাদের সামনে আমরা উপস্থিত হয়েছি।

আমার দিক থেকে আমি খুব বেশি কথা বলবো না। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে আমাদের সাংবাদিক বন্ধুরা এসেছেন, আমরা তাদের কথা শুনবো। ভবিষ্যতে এই সংহবদ্ধতা আরও কীভাবে সক্রিয় রাখা যায়, কীভাবে জারি রাখা যায়, কীভাবে গণতন্ত্রকে সংহত করা যায় এবং এই প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখা যায়, সে বিষয়ে আপনাদের পরামর্শ আমরা শুনতে চাই। এখানে বিভিন্ন ইউনিয়নের কর্মকর্তা, নির্বাচিত প্রতিনিধি, টেলিভিশন, রেডিও ও সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানের নেতারা উপস্থিত আছেন। সহকর্মীরাও আছেন। আমরা তাদের প্রতিনিধিদের বক্তব্য শুনবো।

তার আগে, শেষ করার আগে আমি ছোট্ট একটি কথা বলতে চাই।

এটা আমার পক্ষে এমনকি ব্যক্তিগত স্মৃতি হিসেবেও বলা প্রায় অসম্ভব। এটা এক ধরনের ট্রমা, যা হয়তো সারাজীবন আমার মধ্যে কাজ করবে। আমরা যে আক্রমণের কথা উল্লেখ করছি, অন্তত ডেইলি স্টারের অফিসে যে আক্রমণটি হয়েছে, সেটা মোটেও কেবল একটি বিল্ডিংয়ের ওপর আক্রমণ ছিল না। কিংবা কারও ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে বিল্ডিং ভাঙা বা যন্ত্রপাতি নষ্ট করার বহিঃপ্রকাশও ছিল না। আপনারা লক্ষ্য করুন, ২০২৫ সালে সভ্যতার এই পর্যায়ে এসে মধ্যযুগীয় কায়দায় কয়েকজন সাংবাদিককে ভবনের ভেতরে আটকে রেখে চারদিক থেকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া এবং দমকল বাহিনীকে আসতে বাধা দেওয়ার অর্থ হলো তাদের জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলার এক ভয়াবহ, বর্বর প্রচেষ্টা।

আপনি এই পত্রিকার মতামতের সঙ্গে একমত হন বা না হন, আপনার বিরোধিতা থাকুক বা না থাকুক, এর সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। আজ এটা এখানে হয়েছে, কাল আপনার প্রতিষ্ঠানে হবে, পরশুদিন আরেকটিতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের এই সংহবদ্ধতা অত্যন্ত জরুরি। সমাজে ভিন্ন মত থাকবে, ভিন্ন কণ্ঠ থাকবে, মানুষ ভিন্ন ভিন্নভাবে কথা বলবে। এই বৈচিত্র্য জারি রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা আজ এখানে সম্মিলিত হয়েছি।

আমরা আশা করি, আপনাদের ভাবনা, চিন্তা ও পরামর্শ একত্র করে সম্মিলিতভাবে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারবো। এই পর্যায়ে আমি এখানেই আমার বক্তব্য শেষ করছি। আপনারা ধৈর্য ধরে এসেছেন, কষ্ট করে এসেছেন। আপনাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।

রাজনীতি-সচেতনতা আর রাজনৈতিক দলের দালালি এক জিনিস নয়

সমাপনী বক্তব্যে নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, ক্ষুধার্ত অবস্থায় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম কথাও মানুষের কাছে অসুন্দর লাগবে। আর আমার কাজ হচ্ছে কেবলমাত্র একটু সাম আপ করা। আজকে এইটার মধ্য দিয়ে—হ্যাঁ—এক ধরনের কম্পালশন তৈরি না হলে তো মানুষ সম্মিলিত হয় না। আবার এই সম্মিলিত হওয়ার মধ্য দিয়েই যে ঐক্যপ্রয়াসটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে থেকে আসা নানান দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিক বন্ধুরা এই তাগিদ দিয়ে বুঝিয়েছেন। কেউ কেউ এটাও বলেছেন যে রাজনৈতিকভাবে, রাজনৈতিক প্রভাব সাংবাদিকতার ওপর কীভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এখানে খালি আমি একটা কথা বলতে চাই। সাংবাদিকতা নিজেই খুবই একটি রাজনৈতিক কাজ। রাজনীতি-সচেতনতা আর রাজনৈতিক দলের দালালি আসলে এক জিনিস নয়। অফ কোর্স, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় নিয়ন্ত্রণ থেকে এই গণমাধ্যমকে বের করে নিয়ে আসার জন্য তৎপরতা চালাতে হবে। তা না হলে কিন্তু একই সঙ্গে ইতিহাস-সচেতনতা ও রাজনীতি-সচেতনতা—এই দুটো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার—সেগুলোও দুর্বল হয়ে পড়বে।

ধরুন, ঐক্যেরও তো কতগুলো ভিত্তি লাগে। আমরা যে দেশে দাঁড়িয়ে, যে সময়ে, যা কিছুর জন্য, যে সমস্ত সুন্দর বিষয়ের জন্য লড়াই করতে চাই, সেই কারণে যে কথাগুলো উঠে এসেছে, সেগুলোর ভেতরে ন্যায্যভাবেই আমাদের নিজেদের পুনর্গঠনের প্রশ্নটা এসেছে। নিজেদের ক্লেদ পরিষ্কার করার যে পরিষ্কার আলাপ-আলোচনা হলো, এটাকে আমি একটি অগ্রগতি বলেই মনে করি।

নিশ্চয়ই আমরা এই বিষয়ে ভবিষ্যতে আপনাদের সঙ্গে আরও কী কী করা যেতে পারে, সেগুলোর জন্য আরও সমাবেশ, আরও নানা ধরনের আয়োজন—ঢাকায় ও ঢাকার বাইরে—করার পরিকল্পনা রাখছি। কোড অব কনডাক্টস নিয়ে আমরা কাজ করছি। সেটা কতটা সর্বব্যাপী হতে পারে—প্রথমত আমরা আমাদের যে মেম্বার সংগঠনগুলো আছে, তাদের জন্যই এটি করছি। দরকার হলে যদি অন্যরা এটি পছন্দ করেন, আমরা একদিক থেকে সেটাও তাদের সঙ্গে শেয়ার করব। এগুলো নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।

কিন্তু ঐক্যের যে বিষয়টা… এটা যেন কোনো শূন্যগর্ভ স্লোগান না হয়ে দাঁড়ায়, সে কারণেই আমি কথাগুলো বলছি। এই সংবাদমাধ্যম, পত্রিকাগুলো একত্রিত হয়েছে, সংগঠনগুলো একত্রিত হয়েছে কিছু পরিষ্কার রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রতিপাদ্যের ভিত্তিতে। বাংলাদেশ একটি রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধের ভেতর দিয়ে অত্যন্ত ন্যায্যভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা এই প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশকে তার যে প্রতিশ্রুতি, যে ঐতিহাসিক প্রতিজ্ঞা, যেখানে একটি গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে উঠবে, সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে উঠবে, সেই জায়গায় পৌঁছানোর চেষ্টা করব।

এখানে বৈষম্যের দূরত্ব কমিয়ে আনার জন্য চেষ্টা করতে হবে। এখানে মানুষের হিউম্যান ডিগনিটি প্রতিষ্ঠিত হবে। একটি অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন সমাজ, এটা কেবলমাত্র দারিদ্র্য বিমোচনের প্রশ্ন নয়। ধর্মগত, লিঙ্গগত, বর্ণগত এবং জাতিগত, যত ধরনের বৈষম্য আছে সেগুলোর অবসান ঘটানোর ঐতিহাসিক প্রতিজ্ঞাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তি।

সেই ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতির প্রতি যারা এখানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন, তাদের সবার সঙ্গেই আমরা কাজ করব। ঐক্যের কথা তখনই উঠে আসে, যখন সংহতির কথা আসে। সংহতি ইজ অলওয়েজ ফর সামথিং অ্যান্ড এগেইনস্ট সামথিং। এই কারণেই বলছি এই নীতিমালাগুলোর বাইরে যারা থাকবেন, বা এগুলোর বিরুদ্ধাচরণ করবেন, তাদের সঙ্গে আমরা বোঝানোর চেষ্টা করব, কনভিন্স করার চেষ্টা করব। কিন্তু আমাদের এখানকার যে সংহতি, এই সংহতির একটি পরিষ্কার রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক ও দার্শনিক ভিত্তি আছে। সেটি মাথায় রেখেই আমরা ঐক্যবদ্ধতার কথা চিন্তা করব এবং ভবিষ্যতে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আরও সক্রিয়তা জারি রাখব।

আর দ্বিতীয় যে কথাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—বিশেষ করে বাইরে থেকে যারা এসেছেন, আমাদের বন্ধুরা—তারা আমাদের নিজেদের স্ট্যান্ডার্ডাইজেশনের বিষয়টি তুলেছেন। কেউ কম, কেউ বেশি—আমি বলছি, সাধারণভাবে স্ট্যান্ডার্ডাইজেশনের জন্য কী করা যেতে পারে। একদিকে ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে কাজ করে, অন্যদিকে নিজেরা কাজ করে, সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করে আমরা ধীরে ধীরে এগুলোর দিকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা যদি আমাদের নিজেদের সম্মান নিজেরা সংরক্ষণ করতে না পারি, তাহলে অন্যরা আমাদের সম্মান করবে না। আর এই অসম্মানিত অবস্থার কোনো অস্তিত্বকে কোনো কায়েমি স্বার্থ কখনো ভয় পায় না।

আমাদেরকে কায়েমি স্বার্থের বিরুদ্ধে একটি সংগঠিত, সম্মানিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতেই আমরা কাজ করে যাব। ভবিষ্যতে এই যোগাযোগগুলো আরও বাড়বে। আমরা রিজিওনাল পর্যায়ে কিছু কনফারেন্স করার কথা ভাবছি। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কোড অব কনডাক্ট নিয়ে দুই পক্ষ থেকেই—মালিক পক্ষ, সম্পাদক পক্ষ—যারা কথা বলেছেন, তাদের দুয়ের মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা করছি। সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে, আমাদের মেম্বাররা তো বটেই, অন্যদেরও আমরা প্রভাবিত করার চেষ্টা করব।

সাংবাদিকদের নিজেদের—শুধু সম্পাদকদের নয়—সংবাদকর্মীদের আচরণবিধি, যোগ্যতা ইত্যাদি নিয়ে আমরা কাজ করার চেষ্টা করছি। হয়তো আপনাদের সহযোগিতা পেলে আমরা এগুলো আরও এগিয়ে নিতে পারব।

এবং আজকে যে কারণে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল… আমার বিনীত ধারণা, যে বার্তাটি এখান থেকে মুক্ত গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে সংগঠিত আক্রমণের বিপরীতে সম্মিলিতভাবে দেওয়ার কথা ছিল, আমরা বিশ্বাস করতে চাই সংশ্লিষ্টরা সেই বার্তাটি পেয়েছেন। আমরা যে পদ্ধতিতে এই বার্তাটি দিলাম, তার চেয়ে নম্র ও বিনয়ী ফর্ম সম্ভবত আর হতে পারে না।

তারপরও যদি আমরা এই বার্তাটি এখনো পৌঁছাতে না পেরে থাকি, যদি আমাদের গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার প্রতিপক্ষ সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তিসমূহ এই বার্তাটি না পেয়ে থাকেন, তাহলে আমাদের নিশ্চয়ই কেবল ঘরের ভেতরের সেমিনার বা সম্মেলনের মধ্যে আটকে থাকা উচিত হবে না। আমার ধারণা, আমাদের আরও সোচ্চার হতে হবে। সেই সোচ্চার ভূমিকা পালন করার প্রয়োজন হলে তার জন্য আপনাদের আমরা আগাম একটি বার্তা দিয়ে রাখলাম। মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকবেন।

নিজেদের উন্নতি এবং পুরো সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর গণতান্ত্রিকভাবে সক্রিয় থাকার পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও নিশ্চিত হবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করে, আপনাদের প্রত্যেককে, যারা এখানে এসেছেন—ঢাকা থেকে, ঢাকার বাইরে থেকে, বিভিন্ন অফিস থেকে কষ্ট করে—সংবাদপত্র পরিষদ ও নোয়াবের পক্ষ থেকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমাদের আবারও দেখা হবে বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন ফর্মে, পেশাগত কারণে। আপনারা ভালো থাকবেন।

You may also like

Publisher : Khaled Saifullah Jewel
Editor : Hamim Kefayat
15/1, Paridas Road, Banglabazar, Dhaka 1100, Bangladesh
Contact : +8801712813999,
Mail : news@dhakabarta.net