স্টাফ রিপোর্টার ।।
লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে অনুষ্ঠিত অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যে দেড় ঘণ্টার বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচন, সংস্কার এবং বিচার বিষয়ক অগ্রগতিসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে দুই পক্ষই সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে বলেছে, আলোচনাটি সৌহার্দ্যমূলক ও ফলপ্রসূ হয়েছে। পরে অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৈঠকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
বৈঠকে তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রস্তাব করেন, আগামী বছরের রমজানের আগে নির্বাচন আয়োজন করা হোক। খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকেও এ সময়কে উপযুক্ত বলা হয়। জবাবে প্রধান উপদেষ্টা জানান, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে ২০২৬ সালের রমজান শুরুর আগের সপ্তাহে (ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে) নির্বাচন আয়োজন সম্ভব। তবে তার জন্য সংস্কার ও বিচার সংশ্লিষ্ট অগ্রগতি অর্জন জরুরি। এই প্রস্তাবে তারেক রহমান সম্মতি প্রকাশ করেন এবং প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। ইউনূসও তাঁকে সফল আলোচনার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
বৈঠকের পর সাতটি প্রশ্নের অনুমতি দিয়ে শুরু হয় সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্ব। সেখানে বিএনপি নেতা আমীর খসরু জানান, সংস্কার ও ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সবকিছুই ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগোবে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরেও সংস্কার অব্যাহত থাকবে। এটি চলমান প্রক্রিয়া। অপরদিকে, নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন তারিখ ঘোষণা বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, কোনো সমস্যা নেই, এবং আশা করা যায় শিগগিরই তারিখ ঘোষণা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল, বর্তমান সরকারের বৃহৎ সংস্কার তালিকা নিয়ে বিএনপির অবস্থান কী। জবাবে আমীর খসরু বলেন, “বিষয়টা পরিষ্কার—যেখানে ঐকমত্য হবে, সেখানেই সংস্কার হবে।” তিনি এটিকে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেন।
- লন্ডনে বৈঠকে বসেন অধ্যাপক ইউনূস ও তারেক রহমান
- জাতীয় নির্বাচন ফেব্রুয়ারির আগেই আয়োজনের বিষয়ে আলোচনায় অগ্রগতি
- দুই পক্ষই ন্যূনতম রূপরেখায় একমত—বিচার, সংস্কার ও নিরপেক্ষতা প্রাধান্য পাবে
- জাতিকে এগিয়ে নিতে সমঝোতার প্রয়োজনীয়তায় একমত হয়েছেন উভয় নেতা
- বিএনপির রাজনীতিতে পরিবর্তনের আভাস, ইউনূসকে মান্যতা দেওয়ার ইঙ্গিত
- যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক মহলেও আলোচনার গতি মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু
- ইউনূস বললেন, ‘আমরা যদি না পারি, আর কে পারবে?’
তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে প্রশ্নে আমীর খসরু বলেন, “তাঁর দেশে ফিরে যাওয়া সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে আলাদা আলোচনার প্রয়োজন নেই।” শেখ হাসিনার ‘হত্যাযজ্ঞের বিচার’ নিয়ে প্রশ্নে খলিলুর রহমান বলেন, যৌথ বিবৃতিতে বিচার ও সংস্কার—এই দুই বিষয়ে অগ্রগতির কথা বলা হয়েছে এবং আশা করা যায়, নির্বাচনের আগেই তা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

লন্ডন বৈঠকে মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমান
নতুন দল এনসিপির নির্বাচন বর্জন প্রসঙ্গে বিএনপি ও সরকার পক্ষের নেতারা বলেন, প্রতিটি দলের নিজস্ব মত থাকলেও সকলকে নিয়েই নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা থাকবে। এক প্রশ্নের জবাবে পরিষ্কার করা হয় যে, সরকার এপ্রিলে ঘোষিত নির্বাচন পরিকল্পনা থেকে সরছে না, বরং প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ প্রশ্ন ছিল, “আপনারা কি সন্তুষ্ট?”—দুজন নেতাই একসঙ্গে বলেন, “নিশ্চয়ই সন্তুষ্ট।” আমীর খসরু যোগ করেন, “নির্বাচনের পরও নতুন বাংলাদেশ গঠনের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
বৈঠকের পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই বৈঠক জাতিকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছে এবং এটি ছিল একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’। তিনি বলেন, “তারেক রহমান আজ প্রমাণ করেছেন, তিনি রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলি ধারণ করেন এবং এই সংকটকালে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার নেতৃত্ব দিতে পারেন।” তিনি আরও বলেন, “ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের ঐকমত্য জাতিকে আশার আলো দেখিয়েছে। এখন প্রয়োজন, অতীত ভুলে জাতীয় ঐক্যের পথে অগ্রসর হওয়া।”