স্টাফ রিপোর্টার ।।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে প্রাণ বাঁচাতে সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়া ৬২৬ জনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। একইসাথে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালিয়ে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে মানবিক বিবেচনায় এই আশ্রয় দেওয়া হয়। আশ্রয়প্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন ২৪ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ৫ জন বিচারক, ১৯ জন অসামরিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ৫১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও অন্যান্য শ্রেণিপেশার ১২ জনসহ মোট ৬২৬ জন, যাদের মধ্যে ৫১টি পরিবার (স্ত্রী ও শিশু) অন্তর্ভুক্ত।
তৎকালীন সহিংস পরিস্থিতিতে সরকারি দপ্তর ও থানা আক্রান্ত হওয়া, রাজনৈতিক সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, মব জাস্টিসসহ নানা অপরাধের কারণে মানুষের মনে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে নিজ উদ্যোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় চান।
সেনাবাহিনী জানায়, ওই সময়ে সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া হয় জীবন রক্ষাকে, পরিচয় যাচাইয়ের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিতে তৎপরতা ছিল সর্বোচ্চ। পরবর্তীতে পরিস্থিতির উন্নতির পর অধিকাংশ ব্যক্তি ১–২ দিনের মধ্যেই সেনানিবাস ত্যাগ করেন। তাদের মধ্যে ৫ জনকে অভিযোগ ও মামলার ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গত বছরের ১৮ আগস্ট আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় এবং একই দিনে ১৯৩ জনের তালিকা (৪৩২ জন সাধারণ পুলিশ ও ১ জন এনএসআই সদস্য ছাড়া) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেনাবাহিনীর ভাষ্যমতে, এটি ছিল একটি মীমাংসিত বিষয়।
তবে দুঃখজনকভাবে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও জনগণের সঙ্গে দূরত্ব তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে সেনাবাহিনী দাবি করে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে ৬২৬ জনের পূর্ণাঙ্গ তালিকাও সংযুক্ত করে সেনাবাহিনী পুনরায় স্পষ্ট করেছে যে, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই এই আশ্রয় প্রদান করা হয়েছিল।
সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, পেশাদারিত্ব ও জাতির প্রতি অঙ্গীকারের জায়গা থেকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে পুনর্ব্যক্ত করা হয়।











