স্টাফ রিপোর্টার ।।
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে ইসলামী দলগুলোর ঐক্যের বার্তা উঠে এসেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসমাবেশে। শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে দলটির আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বলেন, ইসলামপন্থিরা আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। তিনি জানান, ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে এবং সম্ভাব্য জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সমাবেশে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে সংস্কার, সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা পুনঃস্থাপন, সংখ্যানুপাতিক ভোট ব্যবস্থা চালুসহ ১৬ দফা দাবি উপস্থাপন করে ইসলামী আন্দোলন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে আয়োজন, দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসীদের অযোগ্য ঘোষণা, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়নের আহ্বান। দলের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান এই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
মহাসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে চরমোনাই পীর বলেন, “গণ-আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। কার্যকর ঐক্য গড়ে তুলতে পারলে ইসলামপন্থিরাই হবে প্রধান রাজনৈতিক শক্তি।” তিনি জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, “সংস্কার ছাড়া নির্বাচন করলে দেশকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া যাবে না।” তিনি সংসদের দুই কক্ষে পিআর (প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি চালু না হলে গণভোট আয়োজনের দাবি জানান।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “ইসলামী দলগুলোর ঐক্যের সম্ভাবনা আজ ঐতিহাসিক রূপ পেয়েছে।” তিনি নির্বাচন বিষয়ে বলেন, “আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ছাড়া নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না।” তিনি প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে বলেন, “কাউকে পক্ষপাত করবেন না, নিরপেক্ষ থাকুন।”
চরমোনাই পীর সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা সুশাসন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র চাই। রাষ্ট্রপ্রধানকেও জনতার কাছে জবাবদিহি করতে হবে। আমরা দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন চাই।” তিনি বলেন, “আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব—শুধু নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করুন।”
সমাবেশে বক্তৃতা দেন দেশের বিভিন্ন ইসলামপন্থি দলের নেতা এবং হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের কয়েকজন প্রতিনিধি। তাদের মধ্যে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর মুজিবুর রহমান ও রফিকুল ইসলাম খান, নেজামে ইসলাম পার্টির মূসা বিন ইজহার, খেলাফত মজলিসের আহমাদ আবদুল কাদের, ইসলামী ঐক্যজোটের সাখাওয়াত হোসেন রাজী, এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জু, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, বৌদ্ধ নেত্রী দয়াল কুমার বড়ুয়া, খ্রিষ্টান নেতা নির্মল রোজারিও প্রমুখ।
সকাল থেকেই সারাদেশ থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় সমাবেশস্থলে এসে জড়ো হন। সমাবেশের প্রথম পর্ব শুরু হয় সকাল ১০টায় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এবং দুপুর ২টায় মূল পর্ব শুরু হয়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়, অনেকে মৎস্য ভবনের মোড়ে বসানো এলইডি স্ক্রিনে সমাবেশ দেখেন।