স্টাফ রিপোর্টার ।।
সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে কোনো বিরোধ নেই এবং উভয় পক্ষ অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে কাজ করছে বলে জানিয়েছে সেনাসদর। আজ সোমবার ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশন্সের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উল-দৌলা ও কর্নেল স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম।
সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য সংলগ্ন সীমান্তে চলমান উত্তেজনা, ‘মানবিক করিডোর’ ইস্যু, আরসা ও কেএনএফের কার্যক্রম, এবং সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সম্পর্ক নিয়ে দেশব্যাপী নানা আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনী তাদের অবস্থান তুলে ধরে। করিডোর প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিম-উল-দৌলা বলেন, “সরকার ও সেনাবাহিনী আলাদাভাবে চিন্তা করছে, এমন ভুল ধারণা দেওয়া ঠিক নয়। আমরা একসঙ্গে কাজ করছি এবং ভবিষ্যতেও একসঙ্গে কাজ করব।”
তিনি আরও বলেন, “করিডোর ইস্যুতে অনেক আলোচনা চলছে, কিন্তু বিষয়টি এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি। সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে। আমরা সবসময় সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে সচেতন এবং শক্ত অবস্থানে রয়েছি।”
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সেনাবাহিনী জানায়, “বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্ত এখন অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমার সরকার কার্যত নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং আরাকান আর্মি রাখাইনের ৮৫ শতাংশ এলাকা দখল করে নিয়েছে। আমরা বর্ডার কখনোই কম্প্রোমাইজ করিনি, ভবিষ্যতেও করব না।”
এছাড়াও, কেএনএফ (কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট) সম্পর্কে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বলেন, “চট্টগ্রামের একটি কারখানায় কেএনএফ’র জন্য তৈরি ৩০ হাজার ইউনিফর্ম পাওয়া গেছে—এটা উদ্বেগজনক। বম সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা মাত্র ১২ হাজার, তাই এত সংখ্যক পোশাকের উৎপাদনের পেছনে বড়সড় ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।”
সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, গত ৪০ দিনে ২৪১টি অবৈধ অস্ত্র ও ৭০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আগস্ট পর্যন্ত মোট ৯ হাজার ৬১১টি অস্ত্র ও ২ লাখ ৮৫ হাজার ৭৬১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে। একই সময়ে ১৪ হাজার ২৬৬ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ, ডাকাত, মাদক ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণির অপরাধী রয়েছে।
ঈদুল আজহা সামনে রেখে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। ঢাকাসহ সারা দেশে বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট ও মহাসড়কে টহল, চেকপোস্ট, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, টিকিট কালোবাজারি রোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানানো হয়। পশুর হাট ঘিরে চাঁদাবাজি ও নিরাপত্তা হুমকি প্রতিরোধেও সেনাবাহিনী তৎপর থাকবে বলে আশ্বস্ত করা হয়।
সেনাবাহিনী বারবার জোর দিয়ে বলেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় তারা সর্বদা সচেতন এবং দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততা থাকবে না।