ডেস্ক রিপোর্ট ।।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে আনার বিষয়টি নিয়ে দেশটির জনগণের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন দেখা গেছে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে, এ ইস্যুতে মার্কিনরা প্রায় সমানভাবে পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
সোমবার প্রকাশিত রয়টার্স–ইপসোস জরিপ অনুযায়ী, ৩৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মাদুরোকে ধরে নিয়ে আসার পক্ষে মত দিয়েছেন। বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ৩৪ শতাংশ, যা সমর্থকদের চেয়ে সামান্য বেশি। আর ৩২ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট মত জানাননি।
- মাদুরোকে সামরিক অভিযানে আটক করার পক্ষে ৩৩ শতাংশ, বিপক্ষে ৩৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক
- ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিরোধিতা করেছেন ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা
- সামরিক অভিযানের পক্ষে রিপাবলিকানদের সমর্থন বেশি; ডেমোক্র্যাটদের অংশগ্রহণ সীমিত
- ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলা শাসন করুক—এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন ৪৩ শতাংশ মার্কিন
- ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সেনা মোতায়েনের বিপক্ষে ৪৭ শতাংশ মানুষ
- লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ৭২ শতাংশ নাগরিক
- যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে হাজির মাদুরো সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে এখনো বৈধ প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন
শুধু সামরিক অভিযান নয়, ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনাও মার্কিন জনগণের বড় একটি অংশ সমর্থন করেন না। জরিপে দেখা গেছে, ৪৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন, বিপরীতে ৩০ শতাংশ এর পক্ষে মত দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিভাজনও এখানে স্পষ্ট। ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপের পক্ষে যাঁরা মত দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ রিপাবলিকান দলের সমর্থক। একই তালিকায় ডেমোক্র্যাট মাত্র ১১ শতাংশ এবং দলনিরপেক্ষ উত্তরদাতা ২৩ শতাংশ।
মাদুরোকে আটক করার পর ভেনেজুয়েলার শাসনভার কার হাতে যাবে—এ প্রশ্নেও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ মূলত ওয়াশিংটনের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বিরোধী। জরিপে ৪৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, নতুন সরকার গঠিত হওয়ার আগপর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করুক—এটা তারা চান না। তবে ৩৪ শতাংশ এই ধারণার পক্ষে এবং ২০ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন।
একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সেনা মোতায়েনের বিষয়েও জনসমর্থন দুর্বল। ৪৭ শতাংশ উত্তরদাতা সৈন্য পাঠানোর বিরোধিতা করেছেন, যেখানে ৩০ শতাংশ সমর্থন জানিয়েছেন।
জরিপে অংশ নেওয়া ৭২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক লাতিন আমেরিকার দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ’ নিয়ে উদ্বেগ বা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে মাদুরো, তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস, ছেলে নিকোলা এরনেস্তো মাদুরো গুয়েরা এবং আরও তিনজনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের প্রত্যেকের আজীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
মাদুরোকে আটক করার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ নেবে। তবে তাঁর প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাস্তবে এমন সম্ভাবনা খুবই কম।
ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার যদি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতা না করে, তাহলে দেশটিতে পুনরায় সামরিক অভিযানের পথ বেছে নেওয়া হতে পারে।
ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার পর সোমবার প্রথমবারের মতো মাদুরোকে দেশটির আদালতে হাজির করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ‘মাদকসন্ত্রাস’, মাদক পাচার ও অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
তবে মাদুরো এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। নিজেকে অপহরণের শিকার দাবি করে তিনি বলেছেন, তিনি একজন ‘ভালো মানুষ’ এবং এখনো ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট। তাঁর ভাষায়, “আমি এখনো আমার দেশের প্রেসিডেন্ট।”
