স্টাফ রিপোর্টার ।।
শনিবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ব্যাগ থেকে একটি বন্দুকের ম্যাগাজিন (একটি গুলিসহ) উদ্ধার হলে দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় উঠে। এই ঘটনায় কেউ কেউ প্রশ্ন তোলে, একজন সরকারি উপদেষ্টার কাছ থেকে এমন একটি বস্তু উদ্ধার হওয়া কতটা স্বাভাবিক।
তবে আসিফ মাহমুদের দাবি করেন, এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃতভাবে রাখা হয়েছিল এবং এটি নিয়ে কোনো অবৈধতা নেই। তিনি জানান, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য তার কাছে বৈধ অস্ত্র রয়েছে, যার লাইসেন্স রয়েছে সরকারের অনুমোদিত সংস্থার কাছ থেকে। বিশেষ করে জুলাইয়ে ঘটে যাওয়া গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি নিরাপত্তার ঝুঁকিতে আছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকা ট্রিবিউনের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লার জেলা প্রশাসন থেকে আসিফ মাহমুদের নামে দুটি অস্ত্রের লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে—একটি পিস্তল ও একটি শটগানের জন্য। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত দেশে মোট ৪৩ হাজার ৮৬৪টি ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স ইস্যু হয়েছে। এসব অস্ত্রের লাইসেন্স পেতে হলে সংশ্লিষ্ট জেলার ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়। এরপর প্রার্থীর পেছনের রেকর্ড যাচাইয়ের জন্য পুলিশি তদন্ত হয় এবং প্রার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ফিট কিনা তা যাচাই করা হয়।
শটগানের ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সরাসরি যাচাই শেষে লাইসেন্স দিতে পারেন। তবে পিস্তল বা রিভলবারের ক্ষেত্রে আবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হয় এবং সেখানে ‘না-আপত্তি সনদ’ পাওয়া গেলে তবেই লাইসেন্স দেওয়া হয়। অস্ত্র কেনার পর পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ে রেজিস্ট্রেশন করাতে হয়। এমনকি পৈত্রিকভাবে পাওয়া অস্ত্র হলেও, লাইসেন্সধারীর মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীর নাম অন্তর্ভুক্ত করে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়।
তবে প্রশ্ন হলো—এই ধরনের কোনো ভুল বা অবহেলার জন্য লাইসেন্স বাতিল হতে পারে কি? ২০১৬ সালের আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স নীতিমালার ২৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, আটটি নির্দিষ্ট শর্ত ভঙ্গ করলে লাইসেন্স বাতিল হতে পারে। যেমন, লাইসেন্সধারী ছাড়া অন্য কেউ অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে না, অস্ত্র এমনভাবে ব্যবহার করা যাবে না যাতে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এমনকি প্রাইভেট গার্ডরাও পোশাক না পরে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করতে পারবেন না। লাইসেন্সধারী ব্যক্তি তার অস্ত্র দিয়ে অন্যের দেহরক্ষীর ভূমিকাও পালন করতে পারবেন না। এসব নিয়ম লঙ্ঘন করলে শুধু লাইসেন্সই বাতিল হয় না, আইনি প্রক্রিয়াতেও যেতে হয়।
অতএব, আসিফ মাহমুদের কাছে থাকা ম্যাগাজিন যদি সত্যি বৈধ অস্ত্রের হয় এবং তা ভুলবশতই থেকে গিয়ে থাকে— তবুও প্রশ্ন থেকেই যায়, এ ধরনের দায়িত্বশীল পদে থাকা একজন উপদেষ্টার কাছ থেকে এমন অসতর্ক আচরণ কতটা গ্রহণযোগ্য। জনমনে যে সন্দেহ জন্মেছে, তা মুছে দিতে প্রমাণসহ আরও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা হয়তো জরুরি।