স্টাফ রিপোর্টার ।।
দৈনিক আমার দেশ–এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান তুরস্কের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন মূলত পাসপোর্ট ও ভিসা–সংক্রান্ত জটিলতার কারণে। আজকের আমার দেশ–এ প্রকাশিত একটি মন্তব্য প্রতিবেদনে তিনি নিজেই এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
মাহমুদুর রহমান জানান, ২০১৯ সালে তিনি মালয়েশিয়ার একটি ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি কোর্সে অধ্যয়নরত ছিলেন। সে সময় তাঁর নিজের ভিসা বৈধ থাকলেও সঙ্গে থাকা স্ত্রীর ভিসা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। পাশাপাশি তাঁর বাংলাদেশি পাসপোর্টের মেয়াদও দ্রুত শেষের দিকে চলে আসে। তিনি লেখায় উল্লেখ করেন, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি পাসপোর্টের মেয়াদ বৃদ্ধি করা সম্ভব ছিল না।
পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে মালয়েশিয়ায় অবস্থান অবৈধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় বলে জানান তিনি। এমন পরিস্থিতিতে কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত তুরস্কের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত মের্ভে কাভাকুচির সঙ্গে আলোচনার পর তুরস্কে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মাহমুদুর রহমান। একই পরামর্শ দেন মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বিএনপির প্রবীণ নেতা শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদও।
লেখা অনুযায়ী, মাহমুদুর রহমান ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তুরস্কে যান এবং পরবর্তী বছরের জুন মাসে তুরস্কের নাগরিকত্ব লাভ করেন। নাগরিকত্ব পাওয়ার মাধ্যমে তাঁর পাসপোর্ট ও বসবাস–সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা দূর হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মাহমুদুর রহমান বলেন, তুরস্কের নাগরিকত্ব গ্রহণ কখনো গোপন ছিল না। ২০২০ সালেই তিনি তুর্কি পাসপোর্ট পাওয়ার বিষয়টি পরিচিতজনদের জানিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন টেলিভিশন আলোচনাতেও তা উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর সহকর্মী, পরিচিত মহল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও বিষয়টি জানতেন বলে লেখায় উল্লেখ আছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশি পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তিনি তুর্কি পাসপোর্ট ব্যবহার করেই বিদেশে যাতায়াত করেছেন। পরে দেশে ফেরার সময় ইস্তানবুলে বাংলাদেশ কনস্যুলেট থেকে ভিসা নিয়ে দেশে আসেন এবং দেশে ফিরে নতুন বাংলাদেশি পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন। তবে সেটি এখনো ব্যবহার করেননি।
বিদেশি পাসপোর্টধারী হিসেবে বাংলাদেশে যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় ‘নো ভিসা রিকোয়ার্ড (NVR)’ সিল গ্রহণের কথাও লেখায় উল্লেখ করেন মাহমুদুর রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো তাঁর দ্বৈত নাগরিকত্ব সম্পর্কে অবগত ছিল।
লেখার শেষাংশে তিনি বলেন, যেহেতু তিনি কোনো নির্বাচিত বা নির্বাহী পদে প্রার্থী নন, তাই দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবেই বিবেচ্য। তবে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় তিনি পাঠকদের সামনে পাসপোর্ট ও নাগরিকত্ব–সংক্রান্ত বাস্তব তথ্য তুলে ধরেছেন।
