বুধবার, মার্চ ১১, ২০২৬

ঢাকায় মাঠ-পার্ক নয়, উঁচু ভবনের দিকেই ঝুঁকছে নগর পরিকল্পনা

by ঢাকাবার্তা
‘ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) সংশোধনের উদ্যোগ: বিআইপির পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে পরিকল্পনাবিদদের সংগঠন বিআইপি

স্টাফ রিপোর্টার ।। 

রাজধানী ঢাকায় শিশু ও কিশোরদের জন্য নতুন কোনো খেলার মাঠ কিংবা পার্ক তৈরির কার্যকর উদ্যোগ নেই। বরং নগর উন্নয়নের নামে উন্মুক্ত স্থান সংকুচিত করে ভবনের উচ্চতা বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকার, যা আবাসন ব্যবসায়ীদের চাহিদার প্রতিফলন বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদেরা।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনাবিদেরা জানান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) যে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) প্রণয়ন করেছিল, তা পুনরায় সংশোধনের পথে হাঁটছে সরকার। এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় আজ বুধবার, বাংলামোটরে বিআইপির কনফারেন্স হলে।

বক্তারা বলেন, ২০২২ সালের আগস্টে সরকার ড্যাপ গেজেট আকারে প্রকাশ করে। কিন্তু মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০২৩ সালের অক্টোবরে তা সংশোধন করা হয়। এর আগে ২০২০ সালে ১,৫২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ২০১৬–২০৩৫ সময়সীমার জন্য ড্যাপের খসড়া প্রকাশিত হয়েছিল। পরিকল্পনাবিদদের অভিযোগ, বর্তমান সংশোধনের পেছনে মূল উদ্দেশ্য ভবনের উচ্চতা বাড়িয়ে ব্যবসায়িক সুবিধা নিশ্চিত করা।

২০২২ সালের ১১ আগস্ট সেনা হেলিকপ্টার থেকে তোলা ঢাকা সিটির একটি এলাকার ছবি।

২০২২ সালের ১১ আগস্ট সেনা হেলিকপ্টার থেকে তোলা ঢাকা সিটির একটি এলাকার ছবি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিআইপির সভাপতি আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ড্যাপে শতাধিক খেলার মাঠ ও পার্কের প্রস্তাব থাকলেও গত তিন বছরে একটি মাঠ বা পার্কও বাস্তবায়িত হয়নি। বরং আবাসন ব্যবসায়ীদের চাপে খোলা জায়গা কমিয়ে ভবনের উচ্চতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, ড্যাপের দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব উপদেষ্টা পরিষদে পাঠানো হবে। অনুমোদন পেলে তা পুনরায় গেজেট আকারে প্রকাশিত হবে।

আদিল মুহাম্মদ খান আরও বলেন, সরকার ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা জনবহুল শহরে নাগরিক সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরু রাস্তার পাশে বহুতল ভবনের অনুমোদন দিলে অগ্নিকাণ্ডের সময় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হবে। সরকার যদি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে, তবে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছেন তাঁরা।

বিআইপির সহসভাপতি সৈয়দ শাহরিয়ার আমিন বলেন, ভবিষ্যতে ঢাকায় জনসংখ্যা কত হবে, তা নির্ধারণ না করে শুধু ভবনের উচ্চতা বাড়ানো যুক্তিযুক্ত নয়। তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত খেলার মাঠ না থাকায় শিশুরা ঘরে বন্দী থেকে মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিআইপি কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরে, যার মধ্যে রয়েছে—সরু রাস্তার পাশে বহুতল ভবনের অনুমোদন বন্ধ, ছয়তলার বেশি ভবনকে বহুতল হিসেবে বিবেচনা করে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এবং এলাকাভিত্তিক নাগরিক সুবিধা বাস্তবায়নে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআইপির যুগ্ম সম্পাদক তামজিদুল ইসলাম, বোর্ড সদস্য আবু নাঈম সোহাগ ও ফাহিম আবেদিন।

You may also like

Publisher : Khaled Saifullah Jewel
Editor : Hamim Kefayat
15/1, Paridas Road, Banglabazar, Dhaka 1100, Bangladesh
Contact : +8801712813999,
Mail : news@dhakabarta.net