খেলা ডেস্ক।।
দুই দফায় প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বে বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন সানাৎ জয়াসুরিয়া। সেসবের পর আইসিসির নিষেধাজ্ঞা তো ছিলই। খেলা ছাড়ার পর এমন পঙ্কিলতায় ভরা নানা অধ্যায়ের পর আবারও তাকে নতুন এক দায়িত্বে নিয়ে এলো শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)। লঙ্কান বোর্ডের পূর্ণকালীন ক্রিকেট পরামর্শক করা হলো কিংবদন্তি এই ক্রিকেটারকে। আপাতত এক বছরের জন্য তাকে নিয়োগ দিয়েছে এসএলসি। নতুন এই পদে খেত্তারামায় এসএলসির হাই পারফরম্যান্স সেন্টারে ক্রিকেটার ও কোচদের কাজ তত্ত্বাবধান করবেন তিনি। ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত স্কিলের উন্নতির কৌশল নির্ধারণে কাজ করবেন তিনি। পাশাপাশি দেখভাল করবেন কোচিং স্টাফের কার্যক্রমও।
আইসিসির নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তির পর এই প্রথম জয়াসুরিয়াকে বোর্ডের কোনো দায়িত্বে আনা হলো। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল সাবেক এই লঙ্কান অধিনায়ককে। আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী আইনের দুটি ধারা ভঙ্গের অভিযোগে তার এই শাস্তি দিয়েছিল আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগ- তদন্তে সহায়তা করতে ব্যর্থ হওয়া বা অস্বীকৃতি জানানো এবং তদন্তকে বাধাগ্রস্থ করা বা দেরি করিয়ে দেওয়া।
এর আগে দুই দফায় শ্রীলঙ্কার প্রধান নির্বাচক ছিলেন তিনি। দুবারই তার দায়িত্বের সময়টুকু ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। প্রথমবার শ্রীলঙ্কার গণমাধ্যম ও তথ্য মন্ত্রী কেহেলিয়া রাম্বুওয়েলার ছেলে রামিথ রাম্বুকওয়েলাকে অন্যায্যভাবে দলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল জয়াসুরিয়ার বিরুদ্ধে। ঘরোয়া ক্রিকেটে অতি সাদামাটা পারফরম্যান্সের পরও ২০১৩ সালে বিস্ময়করভাবে জাতীয় দলে নেওয়া হয়েছিল রামিথকে। ওই মন্ত্রী যে রাজনৈতিক দলের, সেই দল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন জয়াসুরিয়া। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে তখন তুমুল হইচই হয়েছিল এই দল নির্বাচন নিয়ে।
প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বে তার দ্বিতীয় দফাও ছিল চরম বিপর্যয়কর। আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের অভিযোগগুলি এই সময়টাতেই উঠেছিল বলে ধারণা করা হয়।
খেলোয়াড়ি জীবনে জয়াসুরিয়া অবশ্য ছিলেন অন্যরকম। শ্রীলঙ্কার সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারদের একজন তিনি। সব সংস্করণেই তার রেকর্ড দুর্দান্ত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০ হাজারের বেশি রান করেছেন তিনি, বাঁহাতি স্পিনে উইকেট নিয়েছেন প্রায় সাড়ে চারশ। বিস্ফোরক ব্যাটিং দিয়ে ওয়ানডে ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য বাঁক বদলের অগ্রদূতও তিনি।
