স্টাফ রিপোর্টার ।।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) দাবি করেছিল, ঈদের দিন সন্ধ্যার মধ্যেই শতভাগ কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। কিন্তু পরদিন সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় এখনো পশুর বর্জ্য স্তূপ হয়ে পড়ে আছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মিরপুর, আগারগাঁও, পীরেরবাগ, শেওড়াপাড়া ও মণিপুর এলাকায়।
রোববার সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে মধ্য পীরেরবাগের ‘৬০ ফুট সড়ক’-এ গিয়ে দেখা যায়, সড়কের অর্ধেকজুড়ে কোরবানির পচে যাওয়া বর্জ্য পড়ে আছে, যার গন্ধ চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে। একই সড়কের পশ্চিম আগারগাঁও অংশেও খালের পাড়ে স্তূপাকারে বর্জ্য জমে থাকতে দেখা গেছে।
পাশের মধ্যমণিপুরের বারেক মোল্লা মোড় এলাকায় যান চলাচলও বিঘ্নিত হচ্ছে বর্জ্যের কারণে। পচন ধরা এই বর্জ্যের পাশ দিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে এক লেন দিয়ে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানিয়েছেন, আগের দিন বিকেলের পর থেকে কোনো গাড়ি আর আসেনি, ফলে অলিগলি থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য সেকেন্ডারি স্টেশনে জমেই রয়ে গেছে।
মিরপুর ১১ নম্বর সি ব্লকের ৫ নম্বর অ্যাভিনিউতে করপোরেশনের একটি কনটেইনারভর্তি বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যেটা শনিবার সন্ধ্যার পর থেকেই কেউ সরায়নি। বেনারসিপল্লি ও শেওড়াপাড়া এলাকাতেও রাস্তার পাশে বর্জ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল।
ঢাকা উত্তর সিটির জনসংযোগ বিভাগ শনিবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে হোয়াটসঅ্যাপে তথ্য দিয়েছিল যে ১০ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী ৮ ঘণ্টায় সাড়ে ৯ হাজার টন বর্জ্য সরিয়েছেন। বাস্তব চিত্র কিন্তু তা দেখায় না। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, তাহলে এত প্রচার আর দাবি সত্ত্বেও এসব এলাকায় কেন এখনো দুর্গন্ধ আর নোংরা ছড়ানো?
ঢাকাবাসীর প্রশ্ন—ঈদের পরদিন সকালেও যদি রাস্তায় গরুর ভুঁড়ি পড়ে থাকে, তাহলে ‘শতভাগ অপসারণ’ দাবি কিসের ভিত্তিতে? ঢাকার উত্তরাংশে বসবাসকারীদের এই দুরবস্থায় করপোরেশনের দায় এড়ানোর সুযোগ কোথায়?
