স্টাফ রিপোর্টার ।।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিতীয় টি–টোয়েন্টি ম্যাচে রোমাঞ্চের কোনো কমতি ছিল না। মাত্র ১৩৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪৭ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল পাকিস্তান। সেখান থেকে ফাহিম আশরাফ ও আব্বাস আফ্রিদির ৪১ রানের জুটিতে ম্যাচে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত ৮ রানে হার মানতে হয় তাদের। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৩ রান, হাতে মাত্র ১ উইকেট। রিশাদ হোসেনের ব্যয়বহুল ১৯তম ওভারের পর মোস্তাফিজের প্রথম বলে চার মারেন আহমেদ দানিয়াল, তবে পরের বলেই শামীমের হাতে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস—১২৫ রানে অলআউট।

ম্যাচ সেরা জাকের আলী
বাংলাদেশ ৮ রানে জিতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে এক ম্যাচ হাতে রেখেই। জয়ের মূল কারিগর ছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। শরীফুল ইসলাম ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট, তানজিম হাসান ২৩ রানে ২ উইকেট, মেহেদী হাসান ২৫ রানে ২ উইকেট ও মোস্তাফিজ ১/১৫, রিশাদ ১/৪২ নেন। পাকিস্তান ১৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায়। টি-টোয়েন্টিতে তাদের সবচেয়ে কম রানে প্রথম ৫ উইকেট পতনের রেকর্ড এটি। বাংলাদেশের বোলারদের জন্যও এটি রেকর্ড—টি-টোয়েন্টিতে প্রতিপক্ষের প্রথম ৫ উইকেট নেওয়া সবচেয়ে কম রানে (১৫/৫)।
ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের শুরুটাও ছিল দুর্বল। ওপেনিংয়ে নাঈম প্রথম ওভারেই বিদায় নেন, পাওয়ারপ্লেতেই পড়ে ৪ উইকেট। তবে জাকের আলী (৫৫ বলে ৪৮ রানে ৫৫*) এবং মেহেদী হাসান (২৫ বলে ৩৩) পঞ্চম উইকেটে ৫৩ রানের জুটি গড়ে ইনিংস গড়ে তোলেন। ২০ ওভারে বাংলাদেশ তোলে ১৩৩ রান। পাকিস্তানের হয়ে দানিয়াল, মির্জা, আব্বাস প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট নেন।

সায়েম আইয়ুবকে রান আউটের সময়ে লিটন দাস
শেষ দিকে রিশাদের ১৯তম ওভারেই পাকিস্তান ম্যাচে ফিরেছিল, কিন্তু শেষ ওভারে মোস্তাফিজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বাংলাদেশ সিরিজ জয়ে সফল হয়। ফাহিম আশরাফ ৩২ বলে ৫১ রান করে শেষ পর্যন্ত বোল্ড হন রিশাদের হাতে, যা ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন জাকের আলী।
এই জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৩৩ (জাকের ৫৫*, মেহেদী ৩৩; দানিয়াল ২/২৩)
পাকিস্তান: ১৯.২ ওভারে ১২৫ (ফাহিম ৫১, আব্বাস ১৯; শরীফুল ৩/১৭)
ফল: বাংলাদেশ ৮ রানে জয়ী
সিরিজ অবস্থা: বাংলাদেশ ২–০ তে এগিয়ে
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: জাকের আলী
