স্টাফ রিপোর্টার ।।
পুরান ঢাকার লালবাগ মাদরাসা (জামেয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া) থেকে অব্যহতি পাওয়ার খবর ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন এনসিপি নেতা আশরাফ মাহদি। তিনি বলেন, সিদ্ধান্তটি মজলিসে শূরার বৈঠকে নেওয়া হয়েছে। গত সোমবার (২০ অক্টোবর) জরুরি মজলিসে এই সিদ্ধান্ত বলে তাকে ফোনে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদরাসার মজলিসের শূরা সদস্য মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ।
আশরাফ মাহদি অব্যহতির কারণ জানতে চেয়েছেন। মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বলছিলেন, শূরার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ তিনি জানেন না। তবে শূরার দুইজন শিক্ষক দুইটি বিষয় জোর করে তুলে ধরেছেন বলে মাহদী সংবাদে আলো দিয়েছেন।
প্রথম অভিযোগ ছিল—ছাত্রদেরকে বেয়াদব বলা। শিক্ষকরা বলেছেন, ছাত্ররা আন্দোলনে নেমেছে। শুরু থেকেই মাহদি উল্লেখ করেছেন, যেটাকে তারা ছাত্র আন্দোলন বলছে সেটা ছিল প্রায় ১৫-২০ জনের হৈ-হুল্লোড়। তিনি বলছেন, উস্তাদদের সামনে বারবার অনুরোধ করার পরও শান্ত না হওয়াকে তিনি বেয়াদবি বলেছেন — তিনি স্বীকারও করেছেন যে যদি ‘বেয়াদব’ শব্দ ব্যবহৃত থাকে, সেটাই কি অব্যহতির কারণ হওয়া উচিত, তা তিনি প্রশ্ন করেছেন।
- আশরাফ মাহদি দাবি করেছেন, লালবাগ মাদরাসার মজলিসে শুরার জরুরি বৈঠকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- শুরার দুই শিক্ষক দুই কারণ জোর দিয়েছেন: ছাত্রদের বিরুদ্ধে ‘বেয়াদবি’ এবং এনসিপিতে সংযুক্ত থাকা।
- আশরাফ বলছেন, যে ঘটনা ‘ছাত্র আন্দোলন’ বলা হয়েছে তা মাত্র ১৫-২০ জনের হৈ-হুল্লোড়; তিনি ছাত্রদের বেয়াদব বলেননি।
- লিখিত নোটিশে কারণ উল্লেখ না করে কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে ‘সেনসিটিভ’ বলে মেল পাঠাতে অনিচ্ছুক জানিয়েছে।
- আশরাফ অভিযোগ করেছেন, পরিকল্পনামাফিকভাবে তাঁর পিতা মাওলানা জসিম উদ্দিনকেও পর্যায়ক্রমে কোণঠাসা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় অভিযোগ ছিল—তাঁর যোগসূত্র এনসিপি’র সাথে। শূরার কিছু শিক্ষক দাবি করেছেন, ‘এনসিপি নাস্তিকদের সংগঠন’ এবং কোনো শিক্ষক এনসিপি করতে পারবেন না। মাহদী জানান, এ বিষয়ে তাকে পূর্বেই তর্কাতর্কিতে বাধ করা হয়েছিল। এক শিক্ষক তাকে ডেকে বলেছিলেন, এনসিপি করা জায়েজ নয় — কিন্তু কুরআন-সুন্নাহ থেকে সে ন্যায্যতা দেখাতে পারেননি।
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মাহদির ভাষ্য, এসব শুনে তিনি অর্ধক্ষণের জন্য ঘোরে পড়ে যান। তাঁর মতে, যদি এনসিপি করা অপরাধ হয় তাহলে আগে সতর্ক করা যেত। তিনি বলেন, মাদরাসা থেকে বহু দ্বিধা-নির্ভর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে যা ন্যায্যভাবে ব্যাখ্যাত হয়নি।

রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে আশরাফ মাহদি
অন্যসূত্রে জানা গেছে, তাঁর অব্যাহতির পরে লালবাগ জামেয়ার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা জসিম উদ্দিনকে অব্যাহতি দেওয়ার উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব নেন মাওলানা জসিম উদ্দিনের থেকে। মাহদি উল্লেখ করেছেন, তার বাবা মাওলানা জসিম উদ্দিন অতীতে ফ্যাসিবাদ আমলে পিঠে ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছেন। ২০২১ সালে তিনি বিচারবিরোধী বক্তব্যের কারণে মাদরাসা থেকে অব্যহতির শিকার হয়েছিলেন—এটি মাহদীর বিবৃতিতেও উঠে এসেছে।
আশরাফ মাহদি শেষের দিকে লিখেছেন, তিনি অনুধাবন করতে পারছেন না, ২৪ সালের পরও কি তারা কোনো হীন স্বার্থ বা নোংরা রাজনীতির বলি হচ্ছেন। তিনি আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন, নোংরা কাজের পেছনে যারা মুখোশধারী মুনাফেক তাদের মুখোশ উন্মোচন করে দিক।
