শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬

ফেসবুক লাইভে হাসনাত আবদুল্লাহ— ‘অনুমতি নিয়ে স্বাধীন সাংবাদিকতা হয় না’

এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ আজ (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিজের ফেসবুক পেজে একটি লাইভ সম্প্রচারে আসেন। দীর্ঘ সময় পর এই লাইভে তিনি সমসাময়িক রাজনীতি, গণমাধ্যমের ভূমিকা, নির্বাচন ও ঋণখেলাপী ইস্যু নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা, সাংবাদিকতার নিরপেক্ষতা এবং ছাত্ররাজনীতির বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। লাইভের পূর্ণাঙ্গ ট্রান্সক্রিপ্ট তুলে ধরা হলো।

by ঢাকাবার্তা
হাসনাত আবদুল্লাহ

আসসালামু আলাইকুম সবাইকে। আজকে অনেকদিন পর এই আইডি থেকে আমি লাইভ হচ্ছি। এই আইডিটা অনেকদিন ডিজেবল ছিল। এটাকে রিপোর্ট করে আইডিটাকে একদম হচ্ছে ডিজেবল করে ফেলা হয়েছিল। তো আজকে হচ্ছে আমার কাছে মনে হয়েছে যে কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলা উচিত। যেহেতু টকশো বা অন্যান্য জায়গাগুলোতে যাওয়া হচ্ছে না বা নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের কারণে ব্যস্ত থাকা হচ্ছে। যেহেতু যাওয়ার সুযোগ হচ্ছে না। সেজন্য আমার কাছে মনে হয়েছে যে আপনাদের কাছে কিছু বিষয় ক্লিয়ার করা উচিত।

নাম্বার ওয়ান, আপনি যদি গত ১৫-২০ দিনে আপনার হচ্ছে মিডিয়ার যেই চরিত্র, মিডিয়ার যে আচরণ, সেটা যদি আপনি একটু দেখেন কতটা বস্তুনিষ্ঠ অথবা কতটা নিরপেক্ষভাবে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করছে মানে তাদের যে আচরণটা, মিডিয়ার যে আচরণ বিভিন্ন পত্রিকার আচরণ, মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার যে আচরণ, তাহলে আসলে বাংলাদেশের মিডিয়ার চরিত্রটা সেখানে প্রকাশিত হবে। আপনি দেখবেন, ৫ই আগস্টের পরবর্তী সময়ে প্রত্যেকটা মিডিয়ায় যারা টকশো করে এবং টকশোতে যাদেরকে আমরা প্রতিনিয়ত দেখি আমরা প্রত্যেকটা মিডিয়া আমাদেরকে যেভাবে প্রশ্ন করেছে, প্রত্যেকটা বিষয়ে আমরা টি-শার্ট কোন জায়গা থেকে কিনি, কয় টাকা টি-শার্ট কিনার টাকা পাইছি কই, খাওয়ার টাকা পাইছি কই, রিকশায় ওঠার টাকা পাইছি কই, গাড়িতে ওঠার টাকা পাইছি কই, প্রত্যেকটা জিনিসকে যেভাবে প্রশ্নের মধ্যে হচ্ছে নিয়ে এসেছে এবং মিডিয়াতে এগুলো নিয়ে কেউ হচ্ছে রেস্টুরেন্টে খাইছে সেটা নিয়ে হচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা টকশো হইছে। আপনার গত হচ্ছে আপনার জাস্ট এই কিছুদিন আগ পর্যন্ত টকশো হইছে।

অথচ এই মিডিয়ার চরিত্রটাই দেখেন বা যারা টকশো করছে এখন বিভিন্ন মিডিয়াতে তাদের চরিত্রটা দেখেন। গত ১৫-২০ দিন ধরে আপনি দেখবেন না যে তাদের এই এই আলাপগুলো এখন আর টকশোতে আছে।

আপনি দেখবেন বিএনপি হচ্ছে জনাব তারেক জিয়া অনেকদিন পরে দেশে আসছেন ১৭ বছর পরে দেশে আসছেন তার ইনকাম নিয়ে কিন্তু কোন আলোচনা নাই। একটা এতদিন পরে উনি এসে আপনার হচ্ছে উনার অর্থ কিভাবে সংস্থান হচ্ছে, উনার জীবন নির্বাহ কিভাবে হচ্ছে, উনি কিভাবে এত বড় শোডাউন দিচ্ছেন, উনার নিরাপত্তার যে অর্থ সেটা কোন জায়গা থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে এই বিষয়গুলা কিন্তু নিয়ে কেউ প্রশ্ন করছে না। একজনও না, আপনি একটা ব্যক্তিকেও একটা ব্যক্তিকেও আপনি দেখবেন না সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন করতে।

আমার মনে আছে সেটা হচ্ছে আগস্টের শেষের দিকে খুব সম্ভবত আমাদেরকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য হচ্ছে পুলিশ দেওয়া হয়েছিল দুইজন বা তিনজন করে সেটা হচ্ছে ঢাকার বাহিরে। তো একটা একটা জাস্ট একটা একটা একটা প্রোগ্রামে কোন একটা জায়গায় তখন এই টকশোজীবীদের আমরা দেখেছি যে আপনার যে আপনার কি পরিমাণ উৎসাহ প্রকাশ করতে যে রাষ্ট্রীয় অর্থ খরচ করে এভাবে নিরাপত্তা দেওয়া বা এই অর্থ কেন সরকার বহন করবে। ঠিক এখন এই প্রশ্নটাই যখন আপনার নিরপেক্ষতা কখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়, যখন আপনার প্রশ্ন করার ক্ষমতা ব্যক্তি, স্থান, কাল ব্যাধে পরিবর্তন হয়ে যায়।

অর্থাৎ আপনি যখন ক্ষমতাকে প্রশ্ন করতে পারেন না। আমি এটা বলছি না যে আমাদেরকে প্রশ্ন করা কোনোভাবেই হচ্ছে আপনার অযাচিত হয়েছে, অনুচিত হয়েছে। সেটা ডেফিনেটলি, সেটা খুব ভালো কাজ হয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম সেটার হচ্ছে চর্চাটা অব্যাহত থাকুক।

অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে আমরা দেখেছি এই সাংবাদিকদের একটা বড় একটা অংশ আমাদের হচ্ছে স্বাধীন সাংবাদিকতা করার অনুমতি চাচ্ছে যে আমাদেরকে যদি অনুমতি দেওয়া হয় তাইলে আমরা স্বাধীন সাংবাদিকতা করব। সরি যেই সাংবাদিকরা আপনারা অনুমতি নিয়ে স্বাধীন সাংবাদিকতা করতে চান, আপনাদের আমি দুঃখ প্রকাশ করছি, অনুমতি নিয়ে স্বাধীন সাংবাদিকতা করা যায় না। এবং আপনারা মিডিয়া যেভাবে হচ্ছে চরিত্র হনন করেছেন, মিডিয়া যেভাবে হচ্ছে এই যে জুলাইয়ের যারা সম্পৃক্ত ছিল তাদেরকে ভিলেন বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে, তাদেরকে অপাংক্তেয় বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে, তাদেরকে নানাবিধ প্রশ্নের মধ্যে জর্জরিত করে তাদেরকে যেভাবে জনবিচ্ছিন্ন করার প্রয়াস আপনারা নিয়েছিলেন, তারাই নিয়েছিল যারা আওয়ামী লীগকে বিভিন্নভাবে হচ্ছে ফ্যাসিলিটেটেড করার চেষ্টা করেছে।

যারা জনাব তারেক জিয়া রহমানকে গত দীর্ঘ ১৭ বছর যারা ভারতের চর বলে আখ্যায়িত করেছে, কনস্পিরেটর হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, বসুন্ধরার মালিক বলেছে তারেক জিয়া বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। অথচ তারাই এখন হচ্ছে আবার হচ্ছে তাদের আবার প্রিয়পাত্র হয়ে গিয়েছে। মেঘনা গ্রুপের আপনার হচ্ছে ৭১ টিভির মালিককে আমরা দেখলাম যে কত স্মিত হাস্য নিয়ে একদম বুকে জড়িয়ে ধরতে।

এখন আজকে আপনাদেরকে যারা এতদিন ভিলেন বানিয়েছে, যারা আপনাদের নেতাকর্মীর হত্যার বৈধতা উৎপাদন করেছে, গুম খুনের বৈধতা উৎপাদন করেছে, আগুন সন্ত্রাস হিসেবে যারা স্বীকৃতি দিয়েছে, সেইসব মিডিয়াই এখন আবার দেখা যাচ্ছে এখানে হচ্ছে আবার এক ধরনের কার্ল্ট বানানোর একটা হচ্ছে একটা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে।

আমরা আপনাদেরকে এবার বলব আপনারা যারা নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা করার চেষ্টা করেন বা যারা টকশোতে আপনারা যারা কথা বলার চেষ্টা করেন, আমি আপনাদেরকে রিকোয়েস্ট করব। আমাদের সময়ে গত দেড় বছর যেভাবে আপনারা প্রশ্ন অব্যাহত রেখেছেন, আপনারা এখন এই প্রশ্নগুলো অব্যাহত রাখুন। অর্থের উৎস কিভাবে, ইনকাম কোন জায়গা থেকে হচ্ছে, খরচ কোন জায়গা থেকে হচ্ছে, এই যে যানবাহনের টাকা কোন জায়গা থেকে পাচ্ছে, তেলের টাকা কোন জায়গা থেকে পাচ্ছে, এই বিশাল বহরের অর্থ কিভাবে সংস্থান হচ্ছে, এই প্রশ্নগুলো এই প্রশ্নগুলো আপনাদেরকে করতে হবে। এই প্রশ্নগুলো যদি না করে শুধু যদি আপনি সিলেক্টিভ কোশ্চেন করেন যে এই মানুষগুলোকে আমরা প্রশ্ন করব, এই মানুষগুলোকে আমরা প্রশ্ন করব না, তাহলে আমার কাছে মনে হয় যে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এবং একইসাথে সাথে আপনি দেখবেন যে গত হচ্ছে আপনার আপনার কয় তারিখ? গত ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য ৫৯ জন, ৫৯ জন পেশাদার সাংবাদিক যারা বিভিন্ন মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার সাথে জড়িত তাদেরকে হচ্ছে বিএনপি থেকে, বিএনপির ঢাকা আসন-১৭ আসন নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটা মিডিয়া টিম করা হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে ঐ সাংবাদিক সাংবাদিকরা যারা হচ্ছে বিভিন্ন মিডিয়ার সাথে যুক্ত, বিভিন্ন পত্রিকার সাথে যুক্ত তারা কি সেখানে বিএনপির সাংবাদিক হিসেবে ফাংশন করবে নাকি নিরপেক্ষ সাংবাদিক হিসেবে ফাংশন করবে? এই প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনি যখন একটা পার্টির প্যাডে হচ্ছে সাংবাদিক চলে যাচ্ছে, একটা পার্টির প্যাডে সাংবাদিক হচ্ছে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে সেটি আমার কাছে মনে হয় যে বস্তুনিষ্ঠতা কতটুকু হচ্ছে গণমাধ্যমের ভূমিকা থাকবে সেই বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। এবং এটা এটা একটা মানে এটা একটা যুগান্তকারী মানে একটা দৃষ্টান্তমূলক একটা উদাহরণ হয়ে থাকবে যে সাংবাদিকরা একটা যেকোনো একটা রাজনৈতিক দলের প্যাডে নির্বাচনে পরিচালনার জন্য সেখানে সম্পৃক্ত হয়। এটা এটা সাংবাদিকদের জন্য একটা খুবই দৃষ্টান্তমূলক একটা হচ্ছে উদাহরণ হিসেবে তৈরি হয়ে থাকবে।

প্রশ্নটা হচ্ছে আপনারা ওই ৫৯ জন সাংবাদিক আপনারা যারা আছেন তারা কি বিএনপির পাস নিয়ে আপনারা নির্বাচন পরিচালনার আপনার অবজার্ভ করবেন নাকি হচ্ছে আপনারা ইলেকশন কমিশন থেকে আপনারা পাস নিবেন? এই বিষয়টা হচ্ছে আমাদের ক্লিয়ার হওয়া উচিত। এটা আমাদের এটা আমাদের জানার আমাদের অধিকার আছে।

পরবর্তীতে হচ্ছে আমাদের যে যারা গতকাল আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আপনারা সাসটের নির্বাচনটাকে আপনারা পিছায়ে দিলেন। মানে এর থেকে বাজে ডিসগ্রেসফুল একটা এক্সাম্পল এই ছাত্রদল যে কাজটা করেছে, বিএনপি থেকে যে কাজটা করা হয়েছে এর থেকে বাজে উদাহরণ আর কোনোভাবে আর তৈরি হয় না। আপনারা এই নির্বাচনকে ক্রমশ আপনাদের নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে। ছাত্রদলের হয়েছে, ছাত্রশক্তির হয়েছে। কিন্তু জনগণ বা শিক্ষার্থীরা যাদেরকে বেছে নিয়েছে তারাই শিক্ষার্থীদেরকে প্রতিনিধিত্ব করবে। সিম্পল। এবং শিক্ষার্থীদেরকে আপনাদের ভোট বঞ্চিত করার কোন অধিকার আপনাদেরকে নেই। আপনারা এই নির্বাচন কমিশনের সামনে আপনারা হচ্ছে একটা মব ক্রিয়েট করেছেন। একরডিং টু ইউর ল্যাঙ্গুয়েজ। একরডিং টু দ্যা ল্যাঙ্গুয়েজ ইউ কনস্ট্যান্টলি ইউজিং। ইউ আর কনস্ট্যান্টলি ইউজিং যে মব। আপনারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বা আপনাদের এই আন্দোলনগুলাকে আপনারা হচ্ছে মব বলে আপনারা সবসময় বলেন। তো আপনাদের মবের ভাষায় আপনারা গত দুইদিন ধরে মব করলেন। মব করে হচ্ছে আপনারা আন্দোলন ইয়ে আপনার নির্বাচনটাকে হচ্ছে আপনারা বন্ধ করে দিলেন। সাসটের শিক্ষার্থীরা যাদের গার্ডস আছে, যারা হচ্ছে সত্যের পক্ষে থাকে আমরা বিশ্বাস করি তারা রাস্তায় নেমে আসবে এবং নির্বাচনটা যেন হয় সেই ব্যবস্থা তারা নিশ্চয়ই করবে। এবং এই ধরনের হচ্ছে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া আন্দোলন করে এই যে আপনি আপনি তো ভাই একটা মানে একটা একটা খুবই একটা কনফ্লিক্টিং একটা আপনি একটা অবস্থান নিয়েছেন। আপনি চাচ্ছেন জাতীয় নির্বাচন হোক কোন সমস্যা নাই। কিন্তু ছাত্র সংসদ নির্বাচন হইতে দিবেন না আপনি। মানে এই এটার মধ্য তো আপনার হচ্ছে এক ধরনের কনফ্লিক্টিং একটা সিচুয়েশন। আপনি ছাত্র সংসদ নির্বাচনটা যে বন্ধ করে দিলেন এটা খুব একটা বাজে উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। এবং আমরা বলতে চাই শেষ করে দিচ্ছি, মিডিয়াকে আমরা নিরপেক্ষ ভূমিকায় আমরা দেখতে চাই।

মিডিয়া যেভাবে আওয়ামী লীগকে আওয়ামী লীগকে যেভাবে কার্ল্ট বানিয়েছে ঠিক একইভাবে আপনি গত ২০ দিনের যে তাদের হচ্ছে মিডিয়ার যে চরিত্র, টকশোর যে টপিক চয়েস এগুলা দেখলেই আপনারা বুঝতে পারবেন যে হচ্ছে আপনার যে মিডিয়া কিভাবে আবার হচ্ছে আমি স্টাইলে হচ্ছে আবার বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে হচ্ছে আবার একটা কার্ল্ট বানানোর একটা আপনার নেমে পড়েছে।

ঋণখেলাপী এবং দ্বৈত নাগরিকদেরকে বিশেষ করে ঋণখেলাপীদেরকে আমরা কোনভাবেই আমরা সংসদে দেখতে চাই না। এবং সাসটের যে নির্বাচনটা হয়েছে, নির্বাচনটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এটা খুব বাজে উদাহরণ হিসেবে তৈরি হয়ে থাকলো। এবং যারা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আছেন, সাসটে যারা শিক্ষার্থী আছেন আমরা বিশ্বাস করি আপনাদের ন্যায্য অধিকার ভোটের অধিকারের জন্য আপনারা হচ্ছে সেটির হচ্ছে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সেটির আপনারা প্রতিবাদ জানাবেন এবং আমরা বিশ্বাস করি যথাসময়ে হচ্ছে নির্বাচন আপনারা আদায় করে ছাড়বেন। এভাবে ইলেকশন কমিশনকে জিম্মি করে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়ার যে উদাহরণ সৃষ্টি হলো সেটার বিরুদ্ধে আমি বিশ্বাস করি আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সাসটের শিক্ষা শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ করবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি জনগণ এই ঋণখেলাপীদেরকে বয়কট করবে।

আমরা আবার সালমান এফ রহমানদেরকে আবার আমরা দেখতে চাই না। আবার আমরা দেখতে চাই না যে হচ্ছে সিঙ্গাপুরে গিয়ে আবার তৃতীয় ধনী হিসেবে আজিজ খানদের মত কোন মানুষ। আমরা সালমান এফ রহমানরা যেভাবে দেশ থেকে বিদেশে টাকা পাচার করেছে, সামিট গ্রুপ আমরা আবার দ্বিতীয় দেখতে চাই না। কিন্তু আমরা দেখতে চাচ্ছি যে আবার হচ্ছে নতুন নতুন সালমান এফ রহমান, নতুন নতুন সামিট গ্রুপের মালিক, নতুন নতুন আজিজ খান আবার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় আবার আবির্ভূত হচ্ছে। তো সেই জায়গা থেকে আমরা বিশ্বাস করি জনগণ সেই জায়গায় সচেতন থাকবে এবং সেটির সেটির হচ্ছে আপনার জবাব জনগণ দিবে। এবং দিনশেষে আপনারা যারা ঋণখেলাপীদের পক্ষ নিচ্ছেন আপনারা আপনাদের বিবেককে প্রশ্ন করুন। আপনারা যারা ঋণখেলাপীদের পক্ষ নিচ্ছেন আপনারা আপনাদের বিবেককে প্রশ্ন করুন। নেতার পিছনে আপনারা শ্রম দিচ্ছেন না? নেতার পিছনে আপনি আছেন? নেতার পিছনে আপনি কর্মী হয়ে থাকেন। কিন্তু নেতা আপনাকে আপনাকে ব্লাডি সিটিজেন হিসেবে মনে করে। নেতা কখনোই আপনাকে মনে করে না যে আপনি একজন নাগরিকের পর্যায়ে আপনি পৌছাইছেন। নেতা আপনাকে চাঁদাবাজ মনে করে। নেতা আপনাকে মনে করে না আপনি হচ্ছেন মায়ার একটা চাঁদাবাজ। এবং এই আপনার টাকা দিয়ে এই নেতা তার সন্তানকে বিদেশে রেখে পড়ায়। আর বিদেশে বিলাসী জীবনযাপন করায়। আর আপনাকে দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করায়। আপনাকে দিয়ে মারামারি লাগায়, আপনাকে দিয়ে রাস্তা বন্ধ করায়। আপনাকে ব্যবহার করে আপনার ভবিষ্যত ব্যবহার করে, আপনার ক্যারিয়ার ব্যবহার করে।

অথচ নেতার নিজের সন্তানের ভবিষ্যত কিন্তু সিকিউর্ড রাখে বিদেশে পড়াশোনা করাবে। এবং আপনি নেতার পিছনে খাটবেন, নেতার পিছনে খেটে খেটে আপনি যারা ওই যে ঋণখেলাপীদের পক্ষ নিচ্ছেন আপনি ঠিকই না নেতার পিছনে খাটবেন, নেতাকে চাটবেন, নেতার পা চাটবেন। কিন্তু চাটতে চাটতে চাটতে চাটতে দেখবেন আপনার জিভ খয় হয়েছে, বয়স চলে গিয়েছে এবং ঐ সময় সময় বাই দ্যা টাইম নেতা তার সন্তানকে বিদেশে রেখে আবার বিদেশ থেকে নিয়ে এসে আপনার উপর বসাই দিবে। নেতার ছেলে আবার নেতা হয়ে যাবে। আপনি আবার নেতার ছেলের পিছনে আবার ঘুরবেন। নেতা দেখা যাবে এই যে একটা কন্টিনিউয়াস প্রসেস।

আপনি আমাদেরকে ট্রল করে আপনি আমাদেরকে গালি দিয়ে আপনি আমাদেরকে থামাইতে পারবেন না। কারণ আমরা একটা রুহ সমাজ বাস্তবতে আমরা বড় হয়েছি। এবং সবচেয়ে প্রতিকূল সময়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি। সুতরাং আপনি আপনার জায়গা থেকে মানে আপনি যেতোভাবে আমাদেরকে দমন করার চেষ্টা করেন সেই জায়গায় আপনি পারবেন না। নেতার পিছনে খেটে খেটে আপনি চামচায়ই থাকবেন। এবং আপনার বিবেককে প্রশ্ন করেন আপনি একজন ঋণখেলাপীকে সমর্থন দেওয়ার জন্য একটা চোর মানে ঋণখেলাপী শুনতে অনেক সুন্দর লাগে একটা চোর, ব্যাংক চোর। মানে যারা ব্যাংক চোর জনগণের টাকা চুরি করে দেয় মানে কেউ হচ্ছে জন একদম সরাসরি পকেট মারি করে, আবার কেউ হচ্ছে বাড়ি থেকে টাকা চুরি করে, কেউ ব্যাংক থেকে টাকা চুরি করে। হচ্ছে কি এলিট শ্রেণীর চোর। এরা হচ্ছে চোর এদের লজ্জা হওয়া উচিত এই ব্যাংক চোরদেরকে। এই ব্যাংক চোর এবং হচ্ছে এই যে জনগণের টাকা যারা চুরি করে আপনারা যারা এদের পক্ষ নিচ্ছেন নিজেকে একবার চিন্তা করে দেখেন তো আপনার সন্তান কিন্তু ঠিকই প্রাইমারি স্কুলে পড়ে। আপনার ছেলেকে কিন্তু ঠিকই দুবাই গিয়ে হচ্ছে কামলা দিচ্ছে আমার বাপের মত। আপনার ছেলে হচ্ছে ঠিকই ওমান, দুবাই, কাতার, সৌদি আরব যাচ্ছে। আপনাকে আপনি দেখা যায় বয়স হল ওরে স্যার বলতে হয়। নেতার পিছনে খাটতে খাটতে চাটতে চাটতে জুতা শেষ হয়ে যায় এবং জিহ্বাও খয় হয়ে যায়। কিন্তু নেতার ছেলে ঠিকই আবার ঘুরে এসে আপনার নেতা হয়ে যায়।

তো এই গোলামীর জীবন আর কতদিন? এই মনস্তাত্তিকভাবে আর কতদিন গোলাম থাকবেন? ভাই মনস্তাত্ত্বিকভাবে এই গোলামী বর্জন করে আপনি আপনার জায়গা থেকে সরব হন এই চোরদের বিরুদ্ধে। এই জাতীয় চোর, এই এলিট চোরদের বিরুদ্ধে যারা সুট বুট পড়ে সুন্দর সুন্দর পাজামা পড়ে দামি দামি জুতা টোটা পড়ে বডি স্প্রে লাগায়ে আমাদের সামনে আসলেই আমরা মনে করি যে সে অনেক বড় নেতা হয়ে গেছে। এগুলো আপনার আমার চুরি করা টাকা দিয়ে সে এগুলা কেনে। আপনার আমার যেই টাকা গুলা এগুলা ব্যাংকে রাখা ট্যাক্সের টাকা সেগুলা তারা চুরি করে চুরি করে তারা হচ্ছে বিলাসী জীবন যাপন করে। একদম গাড়ি করে সামনে এসে একদম ইয়া করে এই চোরদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ থাকতে হবে। আর এই গোলামী থেকে যদি আমরা মুক্ত না হই, গোলামীর চিন্তা থেকে আপনি চিন্তা করেন মানে সে তো চোর, এই চোর আর গোলাম হচ্ছেন আপনি। মানে আমরা যখন এই এই ঋণখেলাপীদের পক্ষে অবস্থান নেই একবার চিন্তা হয় না। এই টাকাগুলো দিয়েই কিন্তু আপনার সন্তানের চিকিৎসার নিশ্চিত হইতো। এই টাকাগুলো দিয়েই কিন্তু আপনার সন্তানের শিক্ষা ব্যবস্থার নিশ্চিত হইতো। এই টাকাগুলো দিয়েই কিন্তু আপনার অবকাঠামো নিশ্চিত হইতো। কিন্তু এই টাকাগুলোই হচ্ছে ওরা বিদেশে পাচার করে হচ্ছে ওরা হচ্ছে আপনার বেগমপাড়া বানাইছে। আপনার নেতাকে কখনোই কষ্ট করে কমদামি জামাকাপড় পড়ে কখনো বিলাসবহুল জীবনযাপন করে ছুটিতে যায় থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর। ঠিকই কিন্তু ছুটিতে ওখানে বেড়াইতে যায়। কিন্তু আপনি দেখেন আপনার যেই কপাল এই কপালেই থাকে গোলামের কপাল। এই কারণে জাতি হিসেবে যদি মন থেকে আপনি গোলামী মুক্ত না হইতে পারেন আপনার গোলামী যদি বিসর্জন দিতে না পারেন আর নেতাকে এভাবে চাটতেই থাকেন নেতার পিছনে যদি এভাবে খাটতেই থাকেন এবং নেতাকে এই চোরের পিছনে যারা চোর আছে কিছু এই ঋণখেলাপী চোর বড় বড় চোর এই চোরের পিছনে যদি জান জীবন দিয়ে দেন এটা হচ্ছে আপনার মনস্তাত্ত্বিক গোলামী।

একটা গোলামীর জীবন ১০০ বছর বাঁচার থেকে একদম নিজের মত করে আত্মবিশ্বাসের সাথে এক মিনিট বাঁচা বেশি সম্মানের। গোলামের পিছনে, চোরের পিছনে, ঋণখেলাপীদের পিছনে ১০০ বছর গোলাম হয়ে বাঁচার থেকে আত্মবিশ্বাসের থেকে নিজের ইনকাম করা ১০০ টাকার উপরে বেঁচে থাকা এক মিনিট বেঁচে থাকা অনেক বেশি সম্মানের।

জাতি হিসেবে যদি গোলাম না হইতে চান এই চোরের পিছনে শ্রম দিতে না চান এই ঋণখেলাপী চোর ব্যাংক চোরদের বিরুদ্ধে আপনারা অবস্থান নেন। ইনশাআল্লাহ আমরা জনগণ যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করুক না কেন আমরা ঋণখেলাপীদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা হারাম করে দিব। বাংলাদেশে আর সালমান এফ রহমান হইতে আমরা দিব না। বাংলাদেশকে আজিজ খানদের হাতে আর তুলে দেওয়া হবে না। নতুন করে যারা আব্দুল আউয়াল মিন্টুদের মত এলিট ব্রিডরা এসে আমাদেরকে যারা হচ্ছে আবার ঐখানে হচ্ছে আপনার হচ্ছেন বর্জু আমরাও আমরাও হচ্ছে প্রলেতারিয়াত এভাবে আপনি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবেন আপনাদের হাতে আর বাংলাদেশ তুলে দেওয়া হবে না। সুতরাং এই ঋণখেলাপী, চোর, এই ব্যাংক চোরদের ব্যাংক ডাকাতদেরকে আপনারা হচ্ছেন প্রত্যাখ্যান করেন আর গোলামের মানসিকতা বাদ দেন। গোলাম মানসিকভাবে আপনারা গোলামীর মানসিকতা বাদ দিতে হবে। ভাই নিজের পকেটের ১০০ টাকা দিয়ে একটা খারাপ বাজার করে খাওয়া অনেক বেশি সম্মানের। অনেক অনেক বেশি সম্মানের। গোলাম হয়ে পিছে পিছে ঘোরার থেকে নেতার পিছে পিছে ঘুরলাম সারাটা জীবন দিলাম ক্যারিয়ারটা নষ্ট করলাম নেতার পিছনে পিছনে ঘুরে আবার দেখা যাবে ২০-২৫ বছর পরে নেতা আবার তার ছেলেকে আইনা আমার উপর আবার নেতা বানায় দিচ্ছে।

লজ্জা হওয়া উচিত আমাদের। আমাদের লজ্জা হওয়া উচিত। আমাদের লজ্জা হওয়া উচিত। ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন আর মিডিয়া আপনারা হচ্ছেন দেখি ইতিহাস বিচার করে। ইতিহাস সময় টেলিভিশনকে বিচার করেছে, ৭১ টেলিভিশনকে বিচার করেছে, ইতিহাস হচ্ছে বিভিন্ন টেলিভিশনকে বিচার করেছে, বিভিন্ন সাংবাদিকদেরকে বিচার করেছে। সমস্যা নাই আপনারা হচ্ছে আবার সেটেল করে আবার ব্যাকডোর হচ্ছে কম্প্রোমাইজ করে হয়তো আবার যার যার জায়গায় হয়তো ফিরেত গিয়েছেন, যাচ্ছেন। এগুলা কিচ্ছু আসে যায় না। কিন্তু ইতিহাসের দায় থেকে কেউ মুক্ত হবেন না।

ধন্যবাদ, আসসালামু আলাইকুম।

You may also like

Publisher : Khaled Saifullah Jewel
Editor : Hamim Kefayat
15/1, Paridas Road, Banglabazar, Dhaka 1100, Bangladesh
Contact : +8801712813999,
Mail : news@dhakabarta.net