বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২, ২০২৬

মুরাদনগরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম এক উপদেষ্টার, অভিযোগ কায়কোবাদের

by ঢাকাবার্তা
কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ।।

মুরাদনগরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। তার দাবি, এই পরিস্থিতির জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কিছু সদস্য এবং ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ এক উপদেষ্টা দায়ী।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য না করাই উচিত হলেও মুরাদনগরে যা ঘটছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ।

কায়কোবাদ অভিযোগ করেন, পুলিশের কিছু সদস্য এক যুবক উপদেষ্টার তদবিরে মুরাদনগরে অবস্থান নিয়েছে এবং সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তার ভাষায়, পুলিশ প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকার কথা থাকলেও তারা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে।

তিনি দাবি করেন, প্রশাসনিক রদবদলের মাধ্যমে পূর্বে অপরাধে জড়িত কিছু ব্যক্তিকে পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে। এসপি ও ওসি বদলির পর পরিস্থিতিতে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে এবং ক্ষমতাসীন দলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা দুষ্কৃতিকারীরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

কায়কোবাদ অভিযোগের কেন্দ্রে রেখেছেন আসিফ মাহমুদ নামের এক তরুণ উপদেষ্টাকে। তিনি বলেন, দলের সদস্য না হয়েও ওই উপদেষ্টা দলের হয়ে কাজ করছেন এবং তার প্রভাবে প্রশাসন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। সরকারি সাহায্য বণ্টন থেকে শুরু করে এলাকায় সন্ত্রাস কায়েম—সবকিছুতেই তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মুরাদনগরে তিনজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও বর্বরোচিত। অথচ মূল অভিযুক্তরা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি, বরং ৭০-৮০ বছর বয়সী বিএনপি নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানো হচ্ছে।

কায়কোবাদ বলেন, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সৎ ও সাহসী তদন্ত কর্মকর্তার অধীনে তদন্ত ছাড়া সত্য প্রকাশ সম্ভব নয়।

তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগের কিছু সন্ত্রাসী গ্রুপ এখনো সক্রিয়, যারা দলকে বিতর্কিত করেছে। সাধারণ আওয়ামী লীগ কর্মীরা তাদের মতো নন, কিন্তু এসব সন্ত্রাসীদের উৎসাহ দেওয়ার ফলেই এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি হচ্ছে।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কায়কোবাদ বলেন, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে তাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল, আর এখন সেই চক্রই আবার সক্রিয় হয়ে তাকে দমন করার চেষ্টা করছে। তবে আল্লাহর রহমতে তিনি এখনও রাজনীতিতে আছেন এবং জনগণের পাশে রয়েছেন।

শেষে কায়কোবাদ বলেন, এই অন্যায়-অবিচারের বিচার একদিন হবেই। যারা নিরপরাধ নেতাকর্মীদের কারাগারে পাঠিয়েছে, তাদের বিচার এই দুনিয়াতেই হবে কিংবা হাশরের ময়দানে। আল্লাহর উপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

 

You may also like

Publisher : Khaled Saifullah Jewel
Editor : Hamim Kefayat
15/1, Paridas Road, Banglabazar, Dhaka 1100, Bangladesh
Contact : +8801712813999,
Mail : news@dhakabarta.net