স্টাফ রিপোর্টার ।।
কাকরাইলে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার সময় লাল টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তিকে লাঠি হাতে এলোপাতাড়ি পেটাতে দেখা যায়। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেকে প্রশ্ন তোলেন, কে এই ব্যক্তি এবং কেন তিনি এভাবে পেটালেন, আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন তাকে আটক করেনি। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তির নাম মিজান। তিনি পুলিশ কনস্টেবল এবং পল্টন থানার ওসির গাড়ির চালক। আজ শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। এর আগে অবশ্য তিনি জানিয়েছিলেন, ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে তদন্ত চলছে।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, লাল টি-শার্ট পরা ব্যক্তি যাকে পেটাচ্ছিলেন সে নুরুল হক নুর নয়, ছাত্রনেতা সম্রাট। তিনি ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, ওই ব্যক্তির ওপর দায় চাপিয়ে নুরসহ অন্যদের ওপর হামলাকে বৈধ করা যাবে না। সেনাবাহিনীর সদস্যরা নুরের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এমনকি কার্যালয়ে ঢুকে বাথরুম ভাঙচুরসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে রক্তাক্ত করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রক্তাক্ত নুরুল হক নুর
উল্লেখ্য, শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। জাপার কার্যালয়ের সামনে দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের মিছিল যাওয়ার সময় সংঘর্ষ বাঁধে। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিপেটায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে নুরুল হক নুর সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের ওপর হামলা চালান। এতে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। নুর মাথা, নাক ও চোখে গুরুতর আঘাত পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হন। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, নুরের চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও ৪৮ ঘণ্টার আগে তাকে আশঙ্কামুক্ত বলা যাবে না।
এদিকে আইএসপিআর থেকে জানানো হয়, সংঘর্ষের শুরুতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে অনুরোধ করলেও কিছু নেতা-কর্মী তা উপেক্ষা করে সহিংসতার চেষ্টা করেন। তারা মশাল মিছিল করে, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেওয়ার চেষ্টা চালায়। জননিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন।
