সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক ।।
গোপালগঞ্জে এনসিপির (ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি) পদযাত্রা ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছে দলটি। এই প্রেক্ষাপটে হাবিবুর রহমান নামে এক তরুণ আইনজীবীর একটি ফেসবুক পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে দৃষ্টি কেড়েছে, যেখানে তিনি এনসিপির কৌশল ও কিছু নেতার আচরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন।
পোস্টে হাবিবুর রহমান দাবি করেন, সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের চারজন কর্মী নিহত হয়েছে, এবং এটিই ছিল শেখ হাসিনার সরকারের জন্য গত বছরের “সবচেয়ে ভালো খবর”। তার মতে, এই ঘটনা শুধু সরকার নয়, বিরোধী রাজনীতির পক্ষেও একটি “খারাপ নজির” তৈরি করেছে। আইনজীবী হাবিব বলেন, পুরো ঘটনার কোনো প্রয়োজন ছিল না, এটি ঘটেছে “কয়েকজন ব্যক্তির ইগো স্যাটিসফাই” করতে গিয়ে।
তিনি অভিযোগ করেন, এনসিপির কিছু নেতা এখনো তাদের পদের গুরুত্ব বুঝে উঠতে পারেননি। তাদের কথাবার্তা “অরাজনৈতিক”, “অতি আক্রমণাত্মক” এবং প্রাসঙ্গিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। হাবিব লিখেছেন, “সমাবেশ করবেন ভালো কথা, কিন্তু কথায় কথায় মৃত্যু আর কবর রচনা করা ভালো কথা না।” তিনি দলটির নেতাদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “যারা কাজ করে তারা হুংকার দেয় কম।”
পোস্টে এনসিপির নেতাদের কিছু বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। যেমন, “শেখ মুজিবের বাড়িতে গিয়ে সাড়ে তিনশ লোকের একটা সমাবেশ করলে মুজিববাদ হারিয়ে যাবে”—এমন ধারণাকে ‘বেমানান ও হাস্যকর’ বলেই মনে করেন লেখক। তিনি সতর্ক করে দেন, নিজের ক্ষমতাকে অতিমূল্যায়ন করলে ধরা খাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।
পোস্টে গোপালগঞ্জ সফরের আগে এনসিপির নেতৃত্বের আচরণকেও আক্রমণ করা হয়। হাবিব মন্তব্য করেন, “এমন পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল যেন সুবাদার শায়েস্তা খান আরাকান দখল করতে যাচ্ছেন।” অর্থাৎ, তিনি মনে করছেন, দলটি বাস্তব পরিস্থিতি ও জনসমর্থনের মূল্যায়ন না করেই অতি নাটকীয়তা এবং উত্তেজনাকর আবহ তৈরি করেছিল।
গণ–অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত দিনে সংঘর্ষের সময় এনসিপির নেতারা আর্মি-পুলিশের নিরাপত্তায় থেকেও স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হন—এই পরিস্থিতিকে হাবিব “আওয়ামী লীগের মোরাল বুস্ট” বলেই চিহ্নিত করেন। তার মতে, এটি বিরোধী দলের নেতাদের প্রতি কর্মীদের আস্থা কমাবে। তীর্যকভাবে তিনি লেখেন, “বড়ো নেতারা নিজেরাই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, কর্মীদের রেখে এপিসির নিচে ঢুকে পড়তে হয়।”
সবশেষে, হাবিবুর রহমান বলেন, “আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী—এটা নতুন কিছু না।” কিন্তু এনসিপির হঠকারিতায় আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেয়েছে। ঘটনাটি এনসিপির কোনো অর্জন না এনে বরং তাদের রাজনৈতিক কৌশলের দুর্বলতাই উন্মোচন করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হাবিবুর রহমানের এই লেখায় স্পষ্ট প্রতিফলিত হয়েছে এনসিপির রাজনৈতিক পরিচালনা ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে একাংশের হতাশা ও ক্ষোভ। যেখানে একদিকে আওয়ামী লীগের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ, অন্যদিকে এনসিপির নেতাদের আত্মপ্রচারের প্রবণতা ও বাস্তবতা বিচ্যুত কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। রাজনীতিতে দায়িত্বশীলতা, কৌশলগত পরিপক্বতা এবং দলীয় শৃঙ্খলা কতটা গুরুত্বপূর্ণ—এই পোস্ট তারই একটি চিত্র তুলে ধরেছে।