শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬

গণতন্ত্রে আগুন ও তারেক রহমানের কাছে প্রত্যাশা

by ঢাকাবার্তা
অলিউল ইসলামের কলাম

অলিউল ইসলাম ।।

এসএসসি পরীক্ষা শেষে ছুটিতে কেউ মামা-খালার বাড়ি বেড়াতে যায়, তো কেউ দাদা-ফুফুর। তবে আমি আর দোস্ত সোহেল গেছি ছাত্রদল করতে। যেহেতু ওই সময়টাতে ছাত্রলীগ করা যায় না, আর যাই হোক!
সালটা ২০১২।

ইতোমধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধান থেকে বাতিল করা হয়েছে। গুম-খুনের শুরু। শেয়ারবাজার খাওয়া শেষ। ব্যাংকিং সেক্টর তছনছের ভরা যৌবন। প্রয়াত সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল মুহিতের মুখ নিসৃত কুখ্যাত বাণী ‘মাত্র চার হাজার কোটি টাকার’ বছরও এটি। হলমার্ক গ্রুপকে দেওয়া সোনালী ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি নিয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনা করে মুহিত বলেছিলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে আমরা ৪০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেই। অথচ মাত্র চার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি নিয়ে যা প্রচার হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে, পুরো ব্যাংকিং খাতেই ধস নেমেছে।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির গোলাম আযমসহ অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলার বিচারিক কার্যক্রমও চলছিল তখন। ২০১২ সালেই ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের ইমেইল ও স্কাইপ কথোপকথন দৈনিক আমার দেশ ফাঁস করে এই শিরোনামে, ‘গভর্নমেন্ট গেছে পাগল হইয়া তারা একটা রায় চায়’। এছাড়া, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সুখরঞ্জন বালিকে ভারতে পাওয়া যায়। এ দুটি ঘটনা ট্রাইব্যুনালের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে ধুলায় মিশিয়ে দেয়।

ভুয়া ও মিথ্যে মামলাও এই সময়টাতে দোর্দণ্ড প্রতাপে প্রতীয়মান। কুমিল্লা সরকারি কলেজ নামে যেই প্রতিষ্ঠানটিতে পড়তাম, ওইটার তৎকালীন ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান ভাই তখন জেলে। হরতাল থেকে তুলে নেওয়া হয়। আরেক বিখ্যাত কলেজ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ায়ও একই অবস্থা। কিংবা আরও ভয়াবহ। একটি উদারহণ দিলেই ভয়াবহতার বিষয়টি পরিষ্কার হবে। ভিক্টোরিয়া ছাত্রদলের আহ্বায়ক সবুজ ভাই গুলিবিদ্ধ। কিন্তু মামলা হয়েছে ওনারই রাজনৈতিক উস্তাদ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু ভাই, সেক্রেটারি কায়সার ভাই, যুবদলের সেক্রেটারি ওয়াসিম ভাইদের নামে। আত্মগোপনে চলে যান ওনারা। পরে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান।

সোহেল অনিয়মিত হয়ে পড়লেও আমি ধীরে ধীরে আরও গভীরভাবে নিবিষ্ট হয়ে পড়ি বিরোধী রাজনীতিতে। ইতোমধ্যে কলেজ ছাত্রলীগের হাতে মার খাওয়ার পাট চুকে গেছে। একবার নয়। দুই দুই বার। নিশ্চয় জমি-জামা কিংবা দেনা-পাওনা নিয়ে নয়। শুধু ভিন্নমতের রাজনীতি করার কারণে। বদলা নেয়ার সুযোগ নেই। একে তো প্রশাসন তাদের। এর সঙ্গে আমার কলেজ ছাত্রদলের কেউ ক্যাম্পাসে ঢুকতো না। রাস্তার মিছিল-মিটিং, হরতাল-পিকেটিংয়েই সাধারণত তাদের সঙ্গে দেখা হতো।

একদিন বিএনপির ডাকা হরতালে পিকেটিং করছিলাম ধর্মসাগর পাড়ের সামনের রাস্তায়। তৎকালীন যুবদলের সেক্রেটারি ওয়াসিম ভাইও ছিলেন। হঠাৎ একটি ডিবির মাইক্রো গাড়ি আমাদের সামনে হুট করে থামে। ডিবি পুলিশের সদস্যরা ওয়াসিম ভাইয়ের কলারে ধরে মাটি থেকে কয়েক হাত ওপরে তোলে ফেলে বন্ধ দোকানের শাটারে ঠেস দিয়ে। বড় নেতাদের সঙ্গেই এই ব্যবহার। এ থেকে আমার মতো কর্মীদের সঙ্গে প্রশাসনের ব্যবহারটা নিশ্চয় অনুমেয়।

এসব করতে করতে কলেজ পাশ করি ও ঢাকায় চলে আসি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কারণে ছাত্র রাজনীতি কন্টিনিউ করতে পারিনি। তবে রাজনৈতিক সচেতন নাগরিক ও যোগাযোগের ছাত্র হিসেবে ফেসবুকে সক্রিয় থাকি। ছাত্রদল করার জন্য যেহেতু সরকারি চাকরি হবে না, তাই এই সময়টাতে প্রস্তুতি নেয়ারও প্রশ্ন আসে না।

স্নাতক শেষে একটি আওয়ামীপন্থি পোর্টালে জব হয়। পোর্টালের এডিটর ইন চিফ জিজ্ঞেস করে, ‘আমাদের পোর্টাল দেখে তোমার কি মনে হয়েছে।’ বলি, আপনাদের শক্ত রাজনৈতিক পজিশন আছে। তখন এডিটর ইন চিফ বলে, ‘তুমি ওইটা আপহোল্ড করো?’। সঙ্গে সঙ্গে মুখ বাঁকা করে বলি, না, না, না। এটা একটা জঘণ্য দল। চাকরিটা নিশ্চিত করার জন্য অবশ্য সঙ্গে আরও একটা বাক্য জুড়ে দেই, বাকিগুলোর অবস্থাও খুব একটা ভালো না। তারপর ৬-৭ মাস চাকরি করে হাঁপিয়ে যাই এবং পদত্যাগ করে ফেলি।

কিছুদিন বেকার থেকে আওয়ামী পোর্টালে কাজের কাফফারা দেয়ার জন্য সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সচিবালয়ে কাজ নেই। যেহেতু প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই সংস্থাটি ১৪ সালের ভোটকে একতরফা ও ১৮ সালের ভোটকে নৈশ ভোট বলতো। তারপর প্রথমা প্রকাশনী থেকে বের হওয়া ‘তত্ত্বাবধাক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রাজনীতি’ নামে বইটি নিয়ে ড. বদিউল আলম মজুমদার স্যারের সঙ্গে কাজ শুরু করি। এই কাজ শেষে ২০২৪ সালের শুরুতে আবারও গণমাধ্যমে ফিরে আসি। তারপর তো জুলাই গণঅভ্যুত্থান, হাসিনার পালিয়ে যাওয়া ও অন্তর্বর্তী সরকার গঠন।

ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ১৫ মাস চলে গেছে। মুখে নতুন বন্দোবস্ত ও সংস্কারের কথা বললেও তা বাস্তবায়ন ও কার্যকরের মুরোদ এই সরকারের নেই। সরকার হয়তো অনেক ফিরিস্তি টানতে পারবে। এটা করেছি, সেটা করেছি। পসড়াও সাজাতে পারবে। কিংবা ‘বাংলাদেশপন্থি’ ফ্যাক্টচেকারও লেলিয়ে দিতে পারবে লেখার ভুল ধরার জন্য। তারপরও বুঝতে পারবে না যে, স্যান্ডো গেঞ্জি যত দামিই হোক না কেন, তা সবসময় শার্টের নিচেই থাকবে। তদ্রুপ, রাষ্ট্র তথা সমাজের জন্য কল্যাণকর কিছু যদি কেউ করতে পারে, তা রাজনীতিবিদ ছাড়া আর কেউ নয়। ১/১১ জ্বলন্ত অভিজ্ঞতা আর্মিদের এটিই শিখিয়েছে। যার কারণে এবারের ডামাডোলে তারা সযতনে দূরে থাকছে। কিন্তু সুশীল সমাজের অভিজাতরা বোধহয় ১/১১ থেকে শিক্ষা নেয়নি। যেমন করে আমরা নেই না ইতিহাস থেকে। তবে মনে হচ্ছে, এবারকার অভিজ্ঞতা তাদেরও এটি শিখিয়ে ছাড়বে।

এসবের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনের তফসিলের ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান উপদেষ্টা যদিও বলেছেন স্মরণ কালের সেরা নির্বাচন হবে, তবে সেটি ইতিবাচকভাবে নাকি নেতিবাচক, তা সময়ই বলে দিবে। তবে ইতোমধ্যে বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দিয়েছে যে, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসবেন এবং দলের হাল ধরবেন।

এই আগমন উপক্ষে সহকর্মী হামীম কেফায়েত ভাই একটা লেখা চাইলেন। বললাম, আমার তো ওনাকে নিয়ে লেখার কিছু নেই। তবে ওনার কাছে কিছু দাবি-দাওয়া আছে। যদি বিএনপি নির্বাচনে জিতে, তাহলে যেন এগুলোর প্রতির আলোকপাত করা হয়। আপনি চাইলে আপনার মাধ্যমে সেগুলো পেশ করতে পারি। সেই জায়গা থেকে এই লেখার অবতারণা। যখন ছাত্রদল করতাম, তখন তারেক রহমান আমার নেতা ছিলেন। আজ কোনো দলের সক্রিয় রাজনীতি করি না। তবু একজন নাগরিক ও সাবেক ছাত্রদলকর্মী হিসেবে তারেক রহমানের কাছে দাবিগুলো উত্থাপন করছি:

১.
গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকা কার্যালয়ে লুটপাটের পর ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় হামলাকারীরা। ওই সময় ডেইলি স্টারে ২৭-২৮ জন সংবাদকর্মী আটকা পড়েন। আগুন নিভাতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও ঢুকতে দিচ্ছিল না হামলাকারীরা। এসব শুনে প্রতিবাদ জানাতে গেলে হেনস্থার শিকার হতে হয় সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ইংরেজি দৈনিক নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীরকে। শুধু তাই নয়, তাকে লীগের দোসর বলেও গালাগাল দেওয়া হয়। হামলার সময় অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার কাছে ফোন করেন নূরুল কবীর। চ্যানেল ২৪ এ তিনি বলেন, ‘আমি গত দেড় বছরেও এতগুলো মন্ত্রীকে (উপদেষ্টা) কোনোদিন ফোন করিনি। কয়েক মিনিটে আমি যতগুলো মন্ত্রীকে ফোন করেছি। তথ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং এটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যারা আছেন, তাদের প্রত্যেকে দেখেছি আমি যেটা, সেটা বিহ্বল দেখেছি। বিহ্বলতা কোনো নেতৃত্বের লক্ষণ নয়। তারা হয়ত এই অবস্থাটা চাননি এবং আমাকে বোঝাতে চেয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম দিকে যেসব মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলছিলাম, অপরাপর রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছিলাম। তাদের প্রথম কথার সময় যে আন্তরিকতা ছিল বলে আমার মনে হয়েছিল, কিন্তু আড়াই ঘণ্টা ওখানে থাকার কারণে, আমি আপনাকে পরিষ্কার করে বলতে পারি, বিবেক সম্মতভাবে, আমার অভিজ্ঞতা এবং এর পূর্ববর্তী ঘটনা শুনে সরকারের কোনো না কোনো অংশ, কিংবা গোটা সরকার এটা ঘটনাটা ঘটতে দিয়েছে।’

তারেক রহমানের কাছে আমি নূরুল কবীরকে হেনস্থাসহ প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তসহ বিচার চাই। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে আগুন দেয়া শুধু দুইটি গণমাধ্যমে আগুন দেয়া নয়, এটি দেশের গণতন্ত্রে আগুন দেয়ার শামিল। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানতুল্য অর্গানিক বুদ্ধিজীবী নূরুল কবীরকে (বিবেকহীন সময়ে যাকে দেখে সাংবাদিকতায় এসেছি, ইংরেজি পারি না বলে কখনও দেখা কিংবা যোগাযোগ করিনি) হেনস্থা শুধু ব্যক্তি কবীরকে হেনস্থা নয়, এটি জাতির বিবেক তথা সংগ্রামকে হেনস্থার শামিল। এবং এটি শুধু অপরাধ-ই নয়, পাপও বটে। এই পাপের ফয়সালা হতে হবে। স্বৈরাচার হাসিনা ভোট চুরি করে যেমন মানুষের আত্মমর্যাদায় আঘাত হেনেছে, তেমনি নূরুল কবীরকে হেনস্থা সমাজের বহু শান্তিপ্রিয় মানুষের শান্তি কেড়ে নিয়েছে। একমাত্র যথাযথ বিচারই পারে এই শান্তি ফেরাতে।

২.
আমি অন্তরের অন্তস্থল থেকে বিশ্বাস করি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বন্ধ করে দিয়ে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) পাঠানো উচিত। রায় পেতে সময় লাগতে পারে। কিন্তু ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে সময় কখনোই প্রধান প্রতিবন্ধক নয়। বরং বর্তমানে যেভাবে এসব মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়েছে, তাতে ন্যায়বিচারের চেয়ে প্রতিহিংসার ছাপই বেশি দৃশ্যমান। দেশের বিচারব্যবস্থা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিতর্কিত তদন্ত এবং সাক্ষ্য ব্যবস্থার যে দীর্ঘ ও অস্বস্তিকর ইতিহাস, তারেক রহমানের থেকে ভালো কারও জানার কথা নয়।

৩.
নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরের মতো আমিও জিন্দাবাদের ছায়াতলে বহু সিন্দাবাদের ভূত দেখতে পাই। যাপিত জীবনে তাদের কারও কারও সঙ্গে মোলাকাত-বাহাসও হয়। এই সিন্দাবাদের ভূতদেরই একটি অংশ গুপ্ত হয়ে ঢুকে পরিকল্পিতভাবে একটি দলকে ভেতর থেকে শেষ করে দিয়েছে। ওই দলটির সর্বোচ্চ স্ক্রুটিনি (Scrutiny) ভেদ করেই এটি ঘটেছে। সেই তুলনায় আপনার দলে সিন্দাবাদের ভূতদের আরেকটি অংশের ইনফিলট্রেশন (Infiltration) আরও সহজ, আরও নিখুঁতভাবে সম্ভব। তাদের খোঁজে খোঁজে দল থেকে বের করে দিতে না পারলে আপনি ও আপনার দলকে পদে পদে সুনিশ্চিতভাবে ভুগতে হবে। কিভাবে করবেন, জানি না। কাজটি কঠিন, সত্য। কিন্তু সেই কঠিনেরে ভালোবাসিলামের মতো আপনাকেও এটি আপনাতে হবে।

৪.
প্রতি জেলা-উপজেলায় কালচারাল সেন্টার করতে হবে। পার্টি অফিস নয়, অ্যাবসলিউট (Absolute) কালচার সেন্টার। যা পরিচালনা করবে প্রফেশনালরা। পার্টি এক্টিভিস্ট কিংবা লয়ালিস্ট দিয়ে এটি হবে না। এই কেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় সংস্কৃতি, শিল্প, সাহিত্য, ঐতিহ্য ও আধুনিক শিক্ষামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে হবে। যাতে দলীয় রাজনীতির বাইরে একটি সাংস্কৃতিক ভিত্তি গড়ে ওঠে। এতে ভিন্নমতের লোকজনও আকৃষ্ট হবে এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটবে। যা দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে মজবুত করবে।

বাংলাদেশে ইনসাফ কখনও ছিল না। যেটি ছিল না, সেটি না পেলেও অভিযোগ-অনুযোগের সুযোগ নেই। ক্ষমতায় যাওয়া যে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষেই সম্ভব। কিন্তু ভিন্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা সব সময় সম্ভব হয় না। সবচেয়ে বড় কথা, রাষ্ট্র ভুল পথে পরিচালিত হলে তার মাশুল দেয় সাধারণ মানুষই। সে মাশুল গুনারই প্রস্তুতি নিচ্ছে জনগণ। যারা আরও একবার প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কায় ক্লান্ত ও সতর্ক। তারেক রহমানের কাছে আমার দাবি শুধু ব্যক্তিগত প্রত্যাশা নয়, এটি সেই সকল নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব করে যারা রাজনীতির এই চক্রব্যূহ থেকে মুক্তি চায়। যদি তিনি এই দাবিদ্বয় পূরণ করতে পারেন, তাহলে হয়তো বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে, যেখানে প্রতিহিংসা নয়, ন্যায়বিচার হবে মূলমন্ত্র।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট
ইমেইল: oliulislam70@gmail.com

You may also like

Publisher : Khaled Saifullah Jewel
Editor : Hamim Kefayat
15/1, Paridas Road, Banglabazar, Dhaka 1100, Bangladesh
Contact : +8801712813999,
Mail : news@dhakabarta.net