স্টাফ রিপোর্টার ।।
আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও খ্যাতিমান লোকসংগীতশিল্পী মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার রাত পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির স্টার কাবাবের পেছনের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক বার্তায় জানানো হয়, মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা। ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মমতাজকে কাছে পেয়ে আপ্লুত আবদুল হামিদ। ফাইল ফটো
এর আগে গত বছর মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থানায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১০৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা হয়। ওই মামলায় ২০০৮ সালের একটি হরতালে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনার বিচার দাবি করা হয়। মামলায় মমতাজ বেগম ছাড়াও দেওয়ান জাহিদ আহমেদসহ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া আরেকটি মামলায় মমতাজ বেগমসহ ৯০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
সরকার পরিবর্তনের পর মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে নতুন করে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি। তবে কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট করেনি পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তার ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ করেছে।

আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে গান উপভোগ করছেন মমতাজ বেগম। ফাইল ফটো
মমতাজ বেগম, যিনি ‘সুরসম্রাজ্ঞী’ নামে খ্যাত, বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী। চার দশকের বেশি সংগীত জীবনে তিনি ৭০০টিরও বেশি একক অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন। তিনি দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ নারী কণ্ঠশিল্পী হিসেবে।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নবম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে এমপি হন মমতাজ। পরে মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে সরাসরি নির্বাচিত হন। তবে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

ডিবি হারুনের সঙ্গে মধুর মেলায় মমতাজ। ফাইল ফটো
মমতাজ বেগমের জীবনে একাধিক বিতর্ক রয়েছে। ২০০৮ সালে ভারতীয় এক আয়োজকের কাছ থেকে অনুষ্ঠান বাবদ ১৪ লাখ রুপি অগ্রিম নিয়ে সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের আদালতে প্রতারণার মামলা হয়। আদালত তার বিরুদ্ধে চারবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে, সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৯ আগস্ট।
এছাড়া, ২০২১ সালে তিনি ভারতের একটি কথিত বিশ্ববিদ্যালয় ‘গ্লোবাল হিউম্যান পিস ইউনিভার্সিটি’ থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণ করেন, যা পরে ভুয়া হিসেবে গণ্য হয়। ভারতের ইউজিসি অনুসারে ওই প্রতিষ্ঠানটি স্বীকৃত নয় এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত যেকোনো ডিগ্রি অবৈধ।

দীপু মনি আগেই গ্রেফতার হয়েছেন, এবার হলেন মমতাজ। ফাইল ফটো
১৯৭৪ সালের ৫ মে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন মমতাজ বেগম। তার পিতা মধু বয়াতি ও মাতা উজালা বেগম দুজনেই বাউল শিল্পী ছিলেন। প্রথমে তিনি বাবা, পরে রাজ্জাক দেওয়ান এবং পরে আবদুর রশীদ সরকারের কাছে গান শেখেন। মমতাজের প্রথম স্বামী আবদুর রশীদ সরকার মারা যাওয়ার পর তিনি আরও দু’বার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার এক পুত্র, পুত্রবধূ ও নাতনি রয়েছে।
