স্টাফ রিপোর্টার ।।
ভারতের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা RAW (রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং) বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান মোহাম্মদ ইউনূসকে ‘শিক্ষা দিতে’ চায় — এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া.কম। ইউনূসের চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং ভারতবিরোধী অবস্থানকে কেন্দ্র করে RAW তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে বলেই দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে। তবে এই দাবি ঘিরে ভারতের বাইরে বিশেষত ঢাকায় সৃষ্টি হয়েছে প্রবল হাস্যরস।
বাংলাদেশে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শেখ হাসিনার পতনের পর ভারতীয় মিডিয়াগুলো সর্বস্তরে হাসিনার প্রতি যে নগ্ন সমর্থন প্রকাশ করছে, তাতে তারা নিজেরাই তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। ঢাকার সাধারণ মানুষ ভারতীয় মিডিয়ার এসব বক্তব্যকে গুরুত্ব না দিয়ে উল্টে ঠাট্টা-তামাশা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের মিডিয়াগুলো এতটাই পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে উঠেছে যে, তারা এখন আর একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা বোঝার সক্ষমতা রাখছে না।
প্রতিবেদনে RAW-এর পুরনো অভিযান যেমন ১৯৭৪ সালের ‘অপারেশন স্মাইলিং বুদ্ধ’ বা ১৯৭৭ সালের ‘অপারেশন কাহুটা’ উল্লেখ করে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে, RAW এখনও সেই আগের ধারায় সক্রিয়। কিন্তু বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে এসব তথ্য তুলে আনা অনেকের কাছেই অপ্রাসঙ্গিক মনে হচ্ছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইউনূস চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন এবং পাকিস্তানের ISI-কে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন, যেটি ভারতের জন্য হুমকি। আর তাই ভারত বাংলাদেশের পণ্য স্থানান্তর সুবিধা (ট্রান্স-শিপমেন্ট) বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এ ধরনের পদক্ষেপ বাংলাদেশকে খুব একটা নাড়া দেয় না — বরং ভারতের কৌশলগত উদ্বেগই এতে প্রকাশ পাচ্ছে।
বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে এখন একটি স্পষ্ট বার্তা—তারা তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গঠনে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবে, ভারতীয় মিডিয়ার চাপিয়ে দেওয়া বয়ানে প্রভাবিত হবে না। ভারতীয় মিডিয়াগুলোর অতিরিক্ত পক্ষপাত ও হুমকির ভাষা এখন তাদের নিজ দেশের বাইরেই নয়, দেশের ভেতরেও হাস্যকর ঠেকছে — যা ভবিষ্যতে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকেও দুর্বল করতে পারে।
