স্টাফ রিপোর্টার ।।
একাত্তরে যুদ্ধাপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পাওয়ার একদিন পর জামায়াতে ইসলামীর নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম কারামুক্ত হয়ে বুধবার রাজধানীর শাহবাগে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে তিনি জুলাইয়ের ‘মহাবিপ্লবী নায়কদের’ ধন্যবাদ জানান এবং নিজেকে “মুক্ত” ও “স্বাধীন” হিসেবে ঘোষণা করেন।
সকাল ৯টা ৫ মিনিটে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কার্ডিয়াক ইউনিট থেকে মুক্তি পান আজহার, যেখানে তিনি কারা তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর সরাসরি শাহবাগে দলের আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
সংবর্ধনায় তিনি বলেন, “প্রায় ১৪ বছর কারাগারে থাকার পর আজকে সকালে মুক্তি পেলাম। আমি এখন মুক্ত, আমি এখন স্বাধীন। স্বাধীন দেশে আমি একজন স্বাধীন নাগরিক।”
তিনি বলেন, “আমি আমাদের মহান আদালতকে ধন্যবাদ জানাই, যারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। এতদিন ন্যায়বিচার ছিল না, বরং আদালতকে ব্যবহার করা হয়েছে। আশা করি, ভবিষ্যতে আদালত জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন।”
জুলাইয়ের আন্দোলনের প্রসঙ্গে আজহার বলেন, “পাঁচই আগস্টের মহাবিপ্লবী নায়কদের ধন্যবাদ জানাই। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছিল। সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ জানাই ছাত্র সমাজকে, যারা রক্ত দিয়ে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলে এই দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বিজয় এনেছে।”

এটিএম আজহারুল ইসলাম
এ সময় তিনি ‘দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী’কেও ধন্যবাদ জানান, যাদের ‘জনগণের পাশে দাঁড়ানো’র কারণেই দেশের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন।
অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২২ অগাস্ট মগবাজারের বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম। মুক্তিযুদ্ধকালীন ছয়টি ঘটনায় গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ ও নির্যাতনের দায়ে ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ২০১৯ সালে আপিলেও রায় বহাল থাকে, তবে সম্প্রতি আপিল বিভাগ তার সাজা বাতিল করে খালাস দেন।
