ডেস্ক রিপোর্ট ।।
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) এবারের আসরে সাকিব আল হাসানের যাত্রা শেষ হয়েছে এলিমিনেটর ম্যাচে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনসের ৯ উইকেট পরাজয়ের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশ সময় আজ সকালে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় তাঁর দল।
দুই বছরের বিরতির পর সিপিএলে ফিরেছিলেন সাকিব। এর আগে তিনি খেলেছেন বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টস, জ্যামাইকা তালাওয়াস এবং গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে। এবার প্রথমবারের মতো অ্যান্টিগার জার্সিতে মাঠে নামেন এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।
পুরো মৌসুমে অ্যান্টিগার হয়ে ১১ ম্যাচে অংশ নেন সাকিব, যার মধ্যে ১০ ইনিংসে ব্যাট করে সংগ্রহ করেন ১৮০ রান, গড় ২০। একটি ফিফটি ছাড়া ব্যাট হাতে উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি। বল হাতে ৮.৩০ ইকোনমি রেটে নিয়েছেন মাত্র ৬ উইকেট, অথচ তাঁকে দিয়ে পুরো টুর্নামেন্টে বল করানো হয়েছে মাত্র ২৩ ওভার। পূর্ণ বোলিং কোটা পেয়েছেন মাত্র দুটি ম্যাচে।

সিপিএলে সাকিব আল হাসান
ব্যাটিং অর্ডারে চার থেকে ছয়ে নামলেও রান তোলার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি সাকিব। তবে স্ট্রাইক রেটের দিক থেকে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে—সিপিএল ক্যারিয়ারে তাঁর গড় স্ট্রাইক রেট যেখানে ১১৬.৫১, এবারের আসরে তা বেড়ে হয়েছে ১৩৮.৪৬।
সিপিএলের আগে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ও গ্লোবাল সুপার লিগে (জিএসএল) অংশ নিয়েছিলেন সাকিব। পিএসএলে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে তিন ম্যাচে অংশ নিয়ে দুটিতে শূন্য রানে আউট হন। জিএসএলে প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ফিফটি করলেও পরের তিন ম্যাচে ব্যর্থ হন।
সিপিএলের শুরুতেও ব্যাট হাতে ছন্দে ছিলেন না। তবে ১ সেপ্টেম্বর সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিপক্ষে ২০ বলে ফিফটি করে আলো ছড়ান, যা তাঁর ক্যারিয়ারের দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ডের সঙ্গে মিল রেখে যৌথভাবে শীর্ষে। ওই ইনিংসে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ২৩৪.৬১—স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ৩০+ রানের ইনিংসগুলোর মধ্যে এটি তাঁর সর্বোচ্চ।
এলিমিনেটর ম্যাচে ৯ বলে ২৬ রানে অপরাজিত থাকলেও পুরো টুর্নামেন্টে ২০ বা তার বেশি রান করতে পেরেছেন মাত্র তিন ইনিংসে। মজার বিষয়, সিপিএলের কোনো মৌসুমেই এর চেয়ে বেশি রান তাঁর নেই।
বোলিংয়ে আরও হতাশাজনক চিত্র। ৬ উইকেটের বেশি নিতে পারেননি, যেখানে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ইমরান তাহিরের ঝুলিতে রয়েছে ১৮ উইকেট। অ্যান্টিগায় সাকিবকে প্রায়ই পার্টটাইম বোলারের মতো ব্যবহার করা হয়েছে, এলিমিনেটরেও ষষ্ঠ বোলার হিসেবে বল হাতে নেন।
এবারের আসর ছিল সাকিবের সিপিএল ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ অধ্যায়। এর আগে তিনি ২০১৩ ও ২০১৯ সালে বার্বাডোজ, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে জ্যামাইকা এবং ২০২২ সালে গায়ানার হয়ে খেলেছেন।
