সবজান্তা সমশের ।।
রমজানের রোজা পালনের পর ঈদের দিন গরিব-দুঃস্থদের সহায়তার জন্য ফেতরার টাকা প্রদান করা ইসলামের এক গুরুত্বপূর্ণ বিধান। এটি মূলত ঈদের আনন্দ সকল শ্রেণির মানুষের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার একটি ব্যবস্থা। ফিতরা আদায় করা প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য ওয়াজিব (বাধ্যতামূলক)। নবী মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, “ফিতরা আদায় করো, যাতে গরিবরাও ঈদের দিন খুশি থাকতে পারে।” তাই, ফেতরার অর্থ মূলত দরিদ্র ও অভাবী মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত।
ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী, ফিতরার টাকা নিম্নলিখিত শ্রেণির ব্যক্তিদের দেওয়া যেতে পারে:
- গরিব ও মিসকিন – যারা মৌলিক চাহিদা পূরণে অক্ষম।
- ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি – যারা বৈধ কারণে ঋণে জর্জরিত এবং তা পরিশোধ করতে অক্ষম।
- আল্লাহর পথে সংগ্রামী ব্যক্তি (ফি সাবিলিল্লাহ) – যারা ইসলামের প্রচার ও মানবসেবামূলক কাজে যুক্ত কিন্তু আর্থিক সংকটে আছেন।
- মুসাফির বা পথিক – যারা নিজ শহরের বাইরে বিপদগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন।
তবে, ফেতরার টাকা নিজের পরিবারে যাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব রয়েছে (যেমন পিতা-মাতা, স্ত্রী-সন্তান) তাদের দেওয়া বৈধ নয়।
বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক নির্ধারিত হার অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২,৮০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফিতরার পরিমাণ সাধারণত প্রধান খাদ্যশস্যের মূল্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। যাঁরা সামর্থ্যবান, তাঁরা নিজেদের সামর্থ্যানুযায়ী সর্বোচ্চ হারে ফিতরা দিতে পারেন, যাতে দরিদ্রদের আরও বেশি সহায়তা করা যায়।
ফিতরা আদায় করা উচিত ঈদের নামাজের আগে, যাতে গরিবরা তা দিয়ে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কিনতে পারেন। এটি নগদ অর্থ বা খাদ্যশস্যের মাধ্যমে প্রদান করা যায়। ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, ফিতরার অর্থ যদি যথাযথভাবে বিতরণ করা হয়, তাহলে সমাজে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কষ্ট অনেকাংশে লাঘব হবে।
ফেতরা শুধু একটি দান নয়, এটি সমাজের আর্থিক ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাই, সকল সামর্থ্যবান মুসলমানের উচিত যথাযথ নিয়ম মেনে ফিতরা আদায় করা।