সবজান্তা শমসের ।।
ইসলামে দাড়ি রাখা সুন্নতে মুয়াক্কাদা (নিশ্চিত সুন্নত) এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বয়ং দাড়ি রাখার আদেশ দিয়েছেন। তাই হানাফি মাজহাবসহ অন্যান্য মাজহাবগুলোতে দাড়ি সংক্রান্ত বিধানকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়। এই প্রেক্ষিতে প্রশ্ন আসে, যদি কোনো ইমাম দাড়ি কেটে ক্লিন শেভ করে ফেলেন, তাহলে তার পেছনে নামাজ আদায় করা বৈধ হবে কি না?
হানাফি মাজহাবের দৃষ্টিভঙ্গি:
হানাফি মাজহাবে দাড়ি এক মুষ্টির কম করা বা সম্পূর্ণ কেটে ফেলা মাকরূহে তাহরিমি (প্রায় হারাম) বলে গণ্য হয়। কারণ, এটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্পষ্ট আদেশের বিরোধিতা করা। তাই কোনো ব্যক্তি যদি দাড়ি মুন্ডিয়ে ফেলে বা এক মুষ্টির কম করে, তাহলে সে ফাসিক (অবাধ্য) গণ্য হবে, আর ফাসিক ব্যক্তির ইমামতি করা মাকরূহে তাহরিমি।
হাদিসের প্রমাণ:
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন—
“দাড়ি বড় করো এবং গোঁফ ছোট করো।” (সহিহ বুখারি: ৫৮৯২, সহিহ মুসলিম: ২৫৯)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, দাড়ি রাখা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা, যা অমান্য করা বৈধ নয়।
হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘রদ্দুল মুহতার’-এ বলা হয়েছে—
“যে ব্যক্তি দাড়ি এক মুষ্টির কম করে, সে ফাসিক গণ্য হবে এবং তার ইমামতি করা মাকরূহে তাহরিমি।” (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৫৩৯)
দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া অনুযায়ী—
“যে ব্যক্তি দাড়ি এক মুষ্টির কম রাখে, তার পেছনে নামাজ পড়া মাকরূহে তাহরিমি। তবে যদি বিকল্প না থাকে, তাহলে নামাজ শুদ্ধ হবে, কিন্তু এমন ইমামকে ইচ্ছাকৃতভাবে ইমাম বানানো উচিত নয়।”
সারসংক্ষেপে, হানাফি মাজহাব অনুযায়ী ক্লিন শেভ করা ইমামের পেছনে নামাজ আদায় করা মাকরূহে তাহরিমি হলেও, নামাজ বাতিল হবে না। তবে সচেতন মুসল্লিদের উচিত দাড়ি সুন্নত অনুযায়ী রাখেন এমন ইমামের পেছনে নামাজ আদায় করা। যদি বিকল্প না থাকে, তাহলে বাধ্য হয়ে নামাজ পড়া যাবে, কিন্তু এমন ইমামকে নিয়মিতভাবে ইমাম হিসেবে গ্রহণ করা অনুচিত।