মাহবুবুর রহমান সুমন ।।
সম্প্রতি সরকার সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত আমার কাছে পুরোপুরি অযৌক্তিক ও অপরিণামদর্শী মনে হয়েছে। পর্যটন শিল্পের গুরুত্ব বুঝতে ব্যর্থ হলে এর ক্ষতি শুধু সেন্টমার্টিনের নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়বে।
সেন্টমার্টিনে যাতায়াত বন্ধ করে দিলে দেশের ভ্রমণপিপাসু মানুষ বিকল্প হিসেবে দেশের বাইরে ঘুরতে যাবে। এতে বিদেশে মুদ্রা পাচারের ঝুঁকি বাড়বে। দেশের পর্যটনশিল্প এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের জীবিকার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
পরিবেশ নিয়ে দায়সারাভাবে কথা বললে চলবে না
বিভিন্ন তথাকথিত পরিবেশবাদী সংস্থা ও ব্যক্তিদের কাছে প্রশ্ন করতে চাই:
১. সেন্টমার্টিন রক্ষার নামে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি তারা কি নারিকেল গাছ এবং কেয়াবন রক্ষার জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন?
২. ঢাকার অটোরিকশাগুলোর বিকট হর্ন, বুড়িগঙ্গার দূষণ—এসব সমস্যার সমাধানে তাদের কী কার্যকর পদক্ষেপ রয়েছে?
৩. ঢাকার পরিবেশ রক্ষার জন্য কি ঢাকায় মানুষের যাতায়াত বন্ধ করার দাবি করবেন?
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের মতো পরিবেশবাদীরা পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন সময় কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র বা বনভূমি রক্ষার আন্দোলনে তার সাহসী ভূমিকা প্রশংসনীয়। তবে পরিবেশ রক্ষায় শুধুমাত্র নিষেধাজ্ঞা নয়, বিকল্প পরিকল্পনা প্রয়োজন।
পরিবেশ রক্ষার বাস্তবসম্মত উদ্যোগ
সেন্টমার্টিনকে টেকসইভাবে সংরক্ষণ ও উন্নত করার জন্য কিছু বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হতে পারে:
১. পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জন: চিপস, পলিথিন প্যাকেটজাত খাবার, এবং বোতলজাত পানীয় নিষিদ্ধ করা যেতে পারে।
২. পরিবেশ সচেতনতা: পর্যটকদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।
৩. গাছ লাগানো: নারিকেল ও কেয়াগাছ পুনঃরোপণের উদ্যোগ নেওয়া।
৪. পরিবহন উন্নয়ন: উন্নতমানের শিপ চালুর মাধ্যমে পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ করা।
৫. পর্যটন অবকাঠামো: মালদ্বীপের আদলে সুন্দর সিভিউ রিসোর্ট তৈরি করা।
নিষেধাজ্ঞা নয়, দায়িত্বশীল পর্যটন চাই
সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ নিষিদ্ধ বা সীমিত না করে, দ্বীপটিকে সারা বছর পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা উচিত। তবে সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মনীতি, এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো তৈরি করতে হবে।
সেন্টমার্টিন নিয়ে ভিডিও দেখতে পারেন
পরিবেশ রক্ষায় কাল্পনিক চিন্তা নয়, বাস্তবসম্মত উদ্যোগই আমাদের এগিয়ে নিতে পারে। পর্যটনকে উৎসাহিত করে পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্য দিয়ে সেন্টমার্টিনকে দেশের সম্পদে পরিণত করতে হবে।
