মঙ্গলবার, মার্চ ১০, ২০২৬

যাত্রীবাহী স্টিমার সার্ভিস আবার চালু করছে সরকার

চারটি স্টিমার সংস্কারে কাজ চলছে, প্রথম পর্যায়ে দুটি চালু হবে

by ঢাকাবার্তা
প্যাডেল স্টিমার। ফাইল ফটো

স্টাফ রিপোর্টার ।।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য ঐতিহ্যবাহী যাত্রীবাহী স্টিমার সার্ভিস আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চারটি প্যাডেল স্টিমার সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে অন্তত দুটি স্টিমার আগামী পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে ঢাকা-বরিশাল রুটে চালু করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

গত শনিবার বরিশালে এক অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন এই ঘোষণা দেন। এ খবরে বরিশালবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে গেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) অধীনে থাকা পিএস অস্ট্রিচ, পিএস মাহসুদ, পিএস লেপচা ও পিএস টার্ন নামের চারটি স্টিমারের মধ্যে অস্ট্রিচ ও মাহসুদকে পর্যটকদের জন্য ঢাকার সদরঘাট থেকে বরিশাল রুটে চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে। লেপচা ও টার্নকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসির বাণিজ্য পরিচালক এস এম আশিকুজ্জামান বলেন, দুটি স্টিমার চালুর ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিনে তাদের সংস্কার শেষ হয়েছে, এখন শুধু সার্ভে প্রতিবেদনের অপেক্ষা।

তবে এখনো ঠিক হয়নি—এই স্টিমারগুলো সপ্তাহে কত দিন চলবে, কোন রুটে চলবে বা কবে নাগাদ চালু হবে।

উল্লেখ্য, যাত্রী সংকট, নাব্যতা হ্রাস, জ্বালানির দাম বাড়া, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন এবং পদ্মা সেতুর কারণে ২০১৯ সাল থেকে স্টিমার চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বন্ধ হয়ে যায় শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী এই সার্ভিস।

বরিশালবাসীর জন্য স্টিমার শুধু একটি যান নয়, এটি ছিল এক আবেগ ও নির্ভরতার নাম। ঝড়-বৃষ্টি, জোয়ার-ভাটার মধ্যেও এটি পৌঁছে দিত গন্তব্যে। স্টিমারে ভ্রমণ ছিল নিজেই একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা, যা আজও অনেকের স্মৃতিতে অমলিন।

বরিশালের বিএম কলেজের সাবেক অধ্যাপক শাহ সাজেদা বলেন, ‘স্টিমারে ভ্রমণের কত স্মৃতি! বাতাসে হুইসেলের শব্দ ভেসে আসত, মানুষ ছুটে যেত ঘাটে। এই ঐতিহ্য ফিরে আসায় আমি ভীষণ আনন্দিত।’

যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক দেওয়ান আবদুর রশিদ বলেন, ‘এই ব্রিটিশ আমলের প্রযুক্তিগত বিস্ময়গুলোকে ভাসমান জাদুঘরে রূপ দেওয়া উচিত। এগুলো কেবল যান নয়, আমাদের নদীমাতৃক ইতিহাসের সাক্ষ্যবাহী।’

You may also like

Publisher : Khaled Saifullah Jewel
Editor : Hamim Kefayat
15/1, Paridas Road, Banglabazar, Dhaka 1100, Bangladesh
Contact : +8801712813999,
Mail : news@dhakabarta.net