ডেস্ক রিপোর্ট ।।
দীর্ঘ নাটকীয়তা শেষে পর্দা উঠল ব্রাজিল জাতীয় দলের নতুন কোচ নিয়ে। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল জাতীয় দলটি এবার আস্থা রাখল ক্লাব ফুটবলের কিংবদন্তি কোচ কার্লো আনচেলত্তির ওপর। ২৬ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে তার দায়িত্ব। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে পেরু ও ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সেলেসাও অধ্যায়ে নাম লেখাবেন তিনি।
অবশ্য এই অধ্যায় কেবল নতুন এক দায়িত্ব নয়, বরং আনচেলত্তির জন্য হতে পারে কোচিং ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ চূড়া স্পর্শের সম্ভাবনা। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগেই শিরোপা জেতা একমাত্র কোচ তিনি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন পাঁচবার। এবার যদি সেই তালিকায় বিশ্বকাপও যোগ হয়, তবে তাকে সর্বকালের সেরা কোচ বলার যুক্তিও তৈরি হয়ে যাবে।
রিয়াল মাদ্রিদে দুই দফার সফল অধ্যায় শেষে বিদায়ের প্রহর গুনছিলেন ‘ডন’ কার্লো। প্রথম দফায় লা লিগা না জিতলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও কোপা দেল রে জিতেছিলেন। দ্বিতীয় দফায় দুই লা লিগাসহ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, কোপা দেল রে, ক্লাব বিশ্বকাপ—জিতেছেন প্রায় সব শিরোপাই।
তবে তার জন্য এবারের চ্যালেঞ্জ আলাদা। ব্রাজিলের কোচ হিসেবে তিনিই প্রথম বিদেশি কোচ, এমন নজির ইতিহাসেই বিরল। আর বিশ্বকাপ জেতা কোনো দল কখনো বিদেশি কোচ নিয়ে ট্রফি জেতেনি—এই অশুভ রেকর্ড ভাঙার কঠিন দায়িত্ব এখন তার কাঁধে।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন আনচেলত্তিকে দিয়েছে বিশাল বেতন প্যাকেজ। মাসিক প্রায় ৭ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা) বেতন পাবেন তিনি। বার্ষিক হিসাবে যা দাঁড়ায় ৮৮ লাখ ডলার (১০৬ কোটি টাকা)। বিশ্বকাপ জিতলে তার জন্য বরাদ্দ আছে অতিরিক্ত ৫৫ লাখ ডলার (৬৬ কোটি টাকা) বোনাস।
এর বাইরেও তাকে দেওয়া হবে রিও ডি জেনিরোয় একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, যার সব খরচ দেবে সিবিএফ। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য থাকছে বিশেষ প্রাইভেট জেট সুবিধা, সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ও জীবন বিমা।
ব্রাজিলের বর্তমান পরিস্থিতিতে আনচেলত্তির সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে তার ‘ম্যান ম্যানেজমেন্ট’। চেলসি, এসি মিলান, বায়ার্ন মিউনিখ, পিএসজি ও রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে তিনি সামলেছেন ফুটবল ইতিহাসের বড় বড় নাম, নিয়েছেন সাফল্য।
সেলেসাও স্কোয়াডে ভিনিসিয়ুস, রদ্রিগো, মিলিতাওরা তো রিয়ালেই তার শিষ্য। ক্লাব ফুটবলে যাদের পারফরম্যান্স উজ্জ্বল, জাতীয় দলে সেই ধারাবাহিকতা নেই বললেই চলে। ভিনির জাতীয় দলের ৩৯ ম্যাচে মাত্র ৬ গোল! অথচ আনচেলত্তির অধীনেই ক্লাবে ভিন ছিলেন বিধ্বংসী। ফলে তাদের সামলাতে আনচেলত্তি যে খুব বেশি বেগ পাবেন না, তা বলাই যায়।
ব্রাজিলের প্রত্যাশা, আনচেলত্তির সম্ভাবনা
ব্রাজিল ফুটবলে গত কয়েক বছরে কোনো কোচই স্থায়ী হতে পারেননি। তিতের পর রেমন মানেজেস, দিনিজ, দরিভাল—সবাই বিদায় নিয়েছেন বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনেই। সেই জায়গায় আনচেলত্তির স্থিতিশীল নেতৃত্ব হতে পারে স্বস্তির বাতাস।
তার অধীনে যদি ব্রাজিল ২০০২ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ জিতে, তবে আনচেলত্তি হয়ে উঠবেন ইতিহাসের অংশ। রিয়ালের ‘লা ডেসিমা’র মতোই—এই দায়িত্বও হয়ে উঠতে পারে নতুন ইতিহাসের জন্ম।
